গ্রামই জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি, পল্লি উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫৭:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
গ্রাম ও পল্লিকে জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, উন্নত পল্লি ছাড়া সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই গ্রামীণ উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে সরকার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
সোমবার (৬ জুলাই) পালিতব্য ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রোববার (৫ জুলাই) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি মানুষকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গ্রাম ও পল্লির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপনকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘উন্নত পল্লি, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ সরকারের উন্নয়ন দর্শন ও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশের প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং কৃষি, কুটিরশিল্প, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ফলে পল্লি উন্নয়ন একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে আরও টেকসই করা সম্ভব।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ সালের ১৯ দফা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বলেন, কৃষি উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, সমবায় সম্প্রসারণ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের মতো উদ্যোগ দেশের পল্লি উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় গ্রামীণ সড়ক, সেতু, সেচব্যবস্থা, কৃষি ঋণ এবং দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির মাধ্যমে পল্লি অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, কৃষি ঋণ মওকুফ, পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নারী ও যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
পল্লি উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনের প্রতি আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামগুলো আরও আধুনিক, উৎপাদনশীল ও সমৃদ্ধ হবে। আর সেই সমৃদ্ধ পল্লিই একটি উন্নত, আত্মমর্যাদাশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
বাণীর শেষে তিনি জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন এবং দেশের পল্লিবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।



















