ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুল তথ্য দেওয়ায় এমপিও ঝুঁকিতে ২৩৭ প্রতিষ্ঠানপ্রধান

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:০৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের শূন্যপদের ভুল তথ্য জমা দেওয়ার অভিযোগে ২৩৭ জন প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) মাউশির বেসরকারি কলেজ-৩ শাখা থেকে সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, শোকজ পাওয়ার পর ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা স্থগিত বা বাতিলের সুপারিশ করা হতে পারে।

মাউশি সূত্র জানায়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে পাওয়া তথ্য যাচাইয়ের জন্য দেশের সব আঞ্চলিক কার্যালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে আঞ্চলিক পরিচালকদের পাঠানো প্রতিবেদনে ২৩৭টি শূন্যপদের ক্ষেত্রে ভুল বা অসঙ্গতিপূর্ণ চাহিদা দেওয়ার তথ্য উঠে আসে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্যাটার্ন বহির্ভূত পদে চাহিদা পাঠানো, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী না থাকা, ভুল পদের তথ্য প্রদান, মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও শূন্যপদ দেখানো, শিক্ষক প্রাপ্যতা না থাকা এবং সময়মতো তথ্য সরবরাহ না করার মতো নানা কারণে এসব ভুল হয়েছে।

মাউশি বলছে, এ ধরনের ভুল তথ্যের কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে ভুল পদে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা পরবর্তীতে এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর ১৮.১(ঘ) ধারা অনুযায়ী কেন সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষদের এমপিও স্থগিত বা বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট গভর্নিং বডির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে মতামতও আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে মাউশিতে পাঠাতে বলা হয়েছে।

শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও ভুল তথ্য প্রদানের প্রবণতা ঠেকাতে এটি একটি কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভুল তথ্য দেওয়ায় এমপিও ঝুঁকিতে ২৩৭ প্রতিষ্ঠানপ্রধান

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:০৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের শূন্যপদের ভুল তথ্য জমা দেওয়ার অভিযোগে ২৩৭ জন প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) মাউশির বেসরকারি কলেজ-৩ শাখা থেকে সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, শোকজ পাওয়ার পর ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা স্থগিত বা বাতিলের সুপারিশ করা হতে পারে।

মাউশি সূত্র জানায়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে পাওয়া তথ্য যাচাইয়ের জন্য দেশের সব আঞ্চলিক কার্যালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে আঞ্চলিক পরিচালকদের পাঠানো প্রতিবেদনে ২৩৭টি শূন্যপদের ক্ষেত্রে ভুল বা অসঙ্গতিপূর্ণ চাহিদা দেওয়ার তথ্য উঠে আসে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্যাটার্ন বহির্ভূত পদে চাহিদা পাঠানো, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী না থাকা, ভুল পদের তথ্য প্রদান, মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও শূন্যপদ দেখানো, শিক্ষক প্রাপ্যতা না থাকা এবং সময়মতো তথ্য সরবরাহ না করার মতো নানা কারণে এসব ভুল হয়েছে।

মাউশি বলছে, এ ধরনের ভুল তথ্যের কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে ভুল পদে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা পরবর্তীতে এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর ১৮.১(ঘ) ধারা অনুযায়ী কেন সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষদের এমপিও স্থগিত বা বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট গভর্নিং বডির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে মতামতও আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে মাউশিতে পাঠাতে বলা হয়েছে।

শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও ভুল তথ্য প্রদানের প্রবণতা ঠেকাতে এটি একটি কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।