ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার বর্জ্য অপসারণে গাফিলতি, দুই সিটির দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক শরণখোলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বিএনপি নেতার মৃত্যু রাজধানীর বর্জ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গাড়ি চালিয়ে ঘুরলেন প্রধানমন্ত্রী চামড়ার বাজারে ধস, ছাগলের চামড়ায় মিলছে না রিকশা ভাড়াও টাঙ্গাইল শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে মাঠে প্রতিমন্ত্রী টুকু মুষলধারে বৃষ্টিতে স্বস্তি, তবু জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি রাজশাহীতে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু: দায়ীদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ হাজার ছাড়াল

জয়পুরহাট

চামড়া ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

সুজন কুমার মন্ডল,জয়পুরহাট
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘদিনের বকেয়া টাকা, ট্যানারি মালিকদের অনিয়ম এবং ধারাবাহিক লোকসানের কারণে জয়পুরহাটে চামড়া ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে এলেও জেলার চামড়া বাজারে নেই আগের মতো প্রস্তুতি বা কর্মচাঞ্চল্য। এতে এবার স্থানীয় বাজারে বড় ধরনের স্থবিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলার বিভিন্ন চামড়া গুদাম ঘুরে দেখা গেছে, শহরের সিও কলোনি, আমতলী ও পাঁচবিবি এলাকার অধিকাংশ গুদামই প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার ব্যবসায়ীদের তৎপরতা অনেক কম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছর জয়পুরহাট থেকে প্রায় শতকোটি টাকার কাঁচা চামড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। তবে বর্তমান সংকট চলতে থাকলে এবার সেই সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দাম বাস্তবে কার্যকর হয় না। কোরবানির সময় বেশি দামে চামড়া কিনলেও পরে ট্যানারিগুলো কম দামে তা কিনে নেয়। পাশাপাশি বেশিরভাগ টাকা দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়, যা ছোট ব্যবসায়ীদের বড় সংকটে ফেলে।

চামড়া ব্যবসায়ী গোলজার হোসেন বলেন, “বছরের পর বছর লোকসান গুনতে গুনতে অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। এখন নতুন করে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না কেউ।”

আমতলীর ব্যবসায়ী বাবু হোসেন জানান, আগের ঈদে কেনা চামড়া বিক্রি করেও মূলধন তুলতে পারেননি। তাই এবার চামড়া কেনা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নতুনহাট এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, “ট্যানারিগুলো সময়মতো টাকা দেয় না। অথচ ছোট ব্যবসায়ীরা ধার করে চামড়া কেনে। টাকা আটকে গেলে বড় সংকটে পড়তে হয়।”

জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি শামিম আহম্মেদ বলেন, “লবণের দাম, শ্রমিক খরচ এবং পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক ঋণ পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চামড়া কেনা নিয়ে ভয় ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জয়পুরহাট

চামড়া ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

দীর্ঘদিনের বকেয়া টাকা, ট্যানারি মালিকদের অনিয়ম এবং ধারাবাহিক লোকসানের কারণে জয়পুরহাটে চামড়া ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে এলেও জেলার চামড়া বাজারে নেই আগের মতো প্রস্তুতি বা কর্মচাঞ্চল্য। এতে এবার স্থানীয় বাজারে বড় ধরনের স্থবিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলার বিভিন্ন চামড়া গুদাম ঘুরে দেখা গেছে, শহরের সিও কলোনি, আমতলী ও পাঁচবিবি এলাকার অধিকাংশ গুদামই প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার ব্যবসায়ীদের তৎপরতা অনেক কম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছর জয়পুরহাট থেকে প্রায় শতকোটি টাকার কাঁচা চামড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। তবে বর্তমান সংকট চলতে থাকলে এবার সেই সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দাম বাস্তবে কার্যকর হয় না। কোরবানির সময় বেশি দামে চামড়া কিনলেও পরে ট্যানারিগুলো কম দামে তা কিনে নেয়। পাশাপাশি বেশিরভাগ টাকা দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়, যা ছোট ব্যবসায়ীদের বড় সংকটে ফেলে।

চামড়া ব্যবসায়ী গোলজার হোসেন বলেন, “বছরের পর বছর লোকসান গুনতে গুনতে অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। এখন নতুন করে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না কেউ।”

আমতলীর ব্যবসায়ী বাবু হোসেন জানান, আগের ঈদে কেনা চামড়া বিক্রি করেও মূলধন তুলতে পারেননি। তাই এবার চামড়া কেনা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নতুনহাট এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, “ট্যানারিগুলো সময়মতো টাকা দেয় না। অথচ ছোট ব্যবসায়ীরা ধার করে চামড়া কেনে। টাকা আটকে গেলে বড় সংকটে পড়তে হয়।”

জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি শামিম আহম্মেদ বলেন, “লবণের দাম, শ্রমিক খরচ এবং পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক ঋণ পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চামড়া কেনা নিয়ে ভয় ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে।”