ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরদী কলেজ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে রণক্ষেত্র কলেজ ক্যাম্পাস

পাবনা প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ককটেল বিস্ফোরণ, ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ ব্যানার ও স্লোগান নিয়ে ক্যাম্পাস ও আশপাশ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। সকাল ৯টার পর থেকেই ক্যাম্পাস এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে ক্লাসে প্রবেশের প্রস্তুতিকালে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটার আঘাতে অন্তত ৫ জন আহত হন।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এতে ক্যাম্পাস এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে অনেকে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পরে শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ঈশ্বরদী রেলগেট এলাকায় গিয়ে সমাবেশ করেন। সেখানে তারা হামলার অভিযোগ তুলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। মিছিলের কারণে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য টহল জোরদার করা হয়েছে।”

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সময় এ ধরনের সংঘর্ষ পড়াশোনার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। তারা ক্যাম্পাসকে সহিংসতামুক্ত রাখতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঈশ্বরদী কলেজ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে রণক্ষেত্র কলেজ ক্যাম্পাস

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ককটেল বিস্ফোরণ, ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ ব্যানার ও স্লোগান নিয়ে ক্যাম্পাস ও আশপাশ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। সকাল ৯টার পর থেকেই ক্যাম্পাস এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে ক্লাসে প্রবেশের প্রস্তুতিকালে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটার আঘাতে অন্তত ৫ জন আহত হন।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এতে ক্যাম্পাস এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে অনেকে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পরে শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ঈশ্বরদী রেলগেট এলাকায় গিয়ে সমাবেশ করেন। সেখানে তারা হামলার অভিযোগ তুলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। মিছিলের কারণে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য টহল জোরদার করা হয়েছে।”

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সময় এ ধরনের সংঘর্ষ পড়াশোনার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। তারা ক্যাম্পাসকে সহিংসতামুক্ত রাখতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান।