বাদ দিতেই হবে মুস্তাফিজুরকে! স্পষ্ট জানিয়ে দিলো বিসিসিআই
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
আইপিএল ২০২৬-এর জন্য কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড । এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্রিকেট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সইকিয়া নিজে এই নির্দেশের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে’ কেকেআরকে মুস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ শইকীয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেকেআর বিকল্প ক্রিকেটার নিতে চাইলে বোর্ড অনুমতি দেবে।’
নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজুরকে দলে নিয়েছিল কেকেআর। আইপিএলের অন্যতম সফল বোলার হিসেবে পরিচিত মুস্তাফিজুর ডেথ ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের জন্য খ্যাত। দলের বোলিং আক্রমণ শক্তিশালী করতেই তাঁকে দলে নেওয়া হয়েছিল। তবে বিসিসিআইয়ের নির্দেশের পর শাহরুখ খানের মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আর তাঁকে খেলাতে পারবে না।
এই সিদ্ধান্তকে ভারত–বাংলাদেশ কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব হিসেবেই দেখছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকদের একাংশ। আগামী আইপিএলে বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে খেলার কথা ছিল মুস্তাফিজুরের। তাঁর বাদ পড়ায় বাংলাদেশের কোনও ক্রিকেটারকেই এবারের আইপিএলে দেখা যাবে না।
এর আগে ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের জন্য আইপিএলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত–পাকিস্তান সম্পর্ক আরও অবনতি হওয়ায় সেই অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। মুস্তাফিজুরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও কি একই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে—সে প্রশ্ন উঠেছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে।
সম্প্রতি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও নোয়াখালির একটি হত্যাকাণ্ড ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এসব ঘটনার পর আইপিএলে বাংলাদেশের ক্রিকেটার অংশগ্রহণ নিয়েও আপত্তি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্কের মধ্যেই বিসিসিআই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত সাময়িক না দীর্ঘমেয়াদি—সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বিসিসিআই।

















