ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আয়নাঘরে গুমে নির্যাতনের খবর ‘জানতেন’ শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩১:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩০ বার পড়া হয়েছে

মুখে কাপড় দিয়ে তার ওপর পানি ঢালা হতো। ছবি: গুম কমিশন

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আয়নাঘরে গুম করে নির্যাতনের সব খবর জানতেন শেখ হাসিনা ও আসামি সামরিক কর্মকর্তারা। তাদের নির্দেশনা ও সহযোগিতায় এ ধরনের অপরাধ হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালে দাবি প্রসিকিউশনের। তবে আসামিপক্ষ তা অস্বীকার করে মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে এসব বিষয় উঠে আসে। আগামী ১৪ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেবে আদালত।

আওয়ামী লীগ আমলে ডিজিএফআই আয়না ঘরে গুমের শিকার ২৬ জনের অভিযোগের মামলায় বিচার কাজ চলছে। আসামি হলেন শেখ হাসিনা, তারেক সিদ্দিকী, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালকসহ ১৩ জন।

এর মধ্যে গ্রেপ্তার মেজর জেনারেল সরওয়ার হোসেন, দুই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিকীকে মঙ্গলবার সকালে হাজির করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ।

অভিযোগ গঠনের শুনানির শেষদিনে আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে আইনি যুক্তি তুলে ধরেন তাদের আইনজীবীরা। এ সময় গ্রেপ্তার ৩ সামরিক কর্মকর্তার পক্ষে দাবি করা হয়, অভিযোগকারী আরেক সামরিক কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আমান আযমি ও মাইকেল চাকমাকে গুম করার সময় তারা ডিজিএফআইতে কর্মরত ছিলেন না।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, প্রসিকিউশনের উপাদান অনুসারে তারা তিনজনই অপহরণের সময় যেহেতু ডিজিএফআইয়ে কর্মরত ছিলেন না, এতে তাদের কোনো জড়িত থাকার প্রমাণ নাই, গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেও নাই। এই তিনজনের বিরুদ্ধে টর্চারের কোনো অভিযোগ নাই।

তবে প্রসিকিউশনের দাবি, গ্রেপ্তার তিন আসামি যখন ডিজিএফআইয়ের সিটিআইবি ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তখন আয়নাঘরে গুম করে রাখা ব্যক্তিদের সকল খবর জানতেন।

প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী বলেন, ‘এই অপরাধ শুরু হয় যখন একজন ব্যক্তিকে অপহরণ বা আইনের আশ্রয় থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং এর শেষ হয় যখন তিনি পুনরায় আইনের আশ্রয়ে জনসম্মুখে মুক্ত অবস্থায় বের হয়ে আসেন। এই সময়টা ৫ দিনও হতে পারে, ৫ বছরও হতে পারে- যাকে যতদিন আটকে রাখা হয়েছে ততদিন। পুরো সময়টা জুড়েই যেহেতু অপরাধটা চলমান থাকে, সুতরাং একজন ব্যক্তি যদি এই সময়ের কোনো একটি অংশে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে তার দায়বদ্ধতা তৈরি হয়ে যায়।’

এদিকে পলাতক শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আদালতে দাবি করেন, গুমের বিষয়ে তার আসামি কিছুই জানতেন না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আয়নাঘরে গুমে নির্যাতনের খবর ‘জানতেন’ শেখ হাসিনা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩১:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

আয়নাঘরে গুম করে নির্যাতনের সব খবর জানতেন শেখ হাসিনা ও আসামি সামরিক কর্মকর্তারা। তাদের নির্দেশনা ও সহযোগিতায় এ ধরনের অপরাধ হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালে দাবি প্রসিকিউশনের। তবে আসামিপক্ষ তা অস্বীকার করে মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে এসব বিষয় উঠে আসে। আগামী ১৪ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেবে আদালত।

আওয়ামী লীগ আমলে ডিজিএফআই আয়না ঘরে গুমের শিকার ২৬ জনের অভিযোগের মামলায় বিচার কাজ চলছে। আসামি হলেন শেখ হাসিনা, তারেক সিদ্দিকী, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালকসহ ১৩ জন।

এর মধ্যে গ্রেপ্তার মেজর জেনারেল সরওয়ার হোসেন, দুই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিকীকে মঙ্গলবার সকালে হাজির করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ।

অভিযোগ গঠনের শুনানির শেষদিনে আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে আইনি যুক্তি তুলে ধরেন তাদের আইনজীবীরা। এ সময় গ্রেপ্তার ৩ সামরিক কর্মকর্তার পক্ষে দাবি করা হয়, অভিযোগকারী আরেক সামরিক কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আমান আযমি ও মাইকেল চাকমাকে গুম করার সময় তারা ডিজিএফআইতে কর্মরত ছিলেন না।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, প্রসিকিউশনের উপাদান অনুসারে তারা তিনজনই অপহরণের সময় যেহেতু ডিজিএফআইয়ে কর্মরত ছিলেন না, এতে তাদের কোনো জড়িত থাকার প্রমাণ নাই, গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেও নাই। এই তিনজনের বিরুদ্ধে টর্চারের কোনো অভিযোগ নাই।

তবে প্রসিকিউশনের দাবি, গ্রেপ্তার তিন আসামি যখন ডিজিএফআইয়ের সিটিআইবি ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তখন আয়নাঘরে গুম করে রাখা ব্যক্তিদের সকল খবর জানতেন।

প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী বলেন, ‘এই অপরাধ শুরু হয় যখন একজন ব্যক্তিকে অপহরণ বা আইনের আশ্রয় থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং এর শেষ হয় যখন তিনি পুনরায় আইনের আশ্রয়ে জনসম্মুখে মুক্ত অবস্থায় বের হয়ে আসেন। এই সময়টা ৫ দিনও হতে পারে, ৫ বছরও হতে পারে- যাকে যতদিন আটকে রাখা হয়েছে ততদিন। পুরো সময়টা জুড়েই যেহেতু অপরাধটা চলমান থাকে, সুতরাং একজন ব্যক্তি যদি এই সময়ের কোনো একটি অংশে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে তার দায়বদ্ধতা তৈরি হয়ে যায়।’

এদিকে পলাতক শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আদালতে দাবি করেন, গুমের বিষয়ে তার আসামি কিছুই জানতেন না।