ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেন খামেনেইয়ের শেষকৃত্য এত দেরিতে? কোথায় ছিল দেহ? রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতার ইতিহাসেই জন্ম আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সির যশোরে র‍্যাবের অভিযান, উদ্ধার বিরল প্রজাতির ২ তক্ষক বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই গণমাধ্যমের মূল শক্তি: তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যম যতবেশি স্বাধীন ও শক্তিশালী হবে, গণতন্ত্রও তত বেশি সুদৃঢ় হবে তিন সন্তানকে রেখে ইমামের সঙ্গে পালালেন প্রবাসীর স্ত্রী ভেনেজুয়ালায় ভূমিকম্প: ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচে ৮ দিন বেঁচে ছিলেন হারনান বিশ্বকাপ শেষেই অবসর রোনাল্ডোর! অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা, সাংবাদিক দেখে দৌঁড়ে পালালেন চিকিৎসক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানোর আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র’র মৃত্যুর গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন হেমা, ঈশা

বিনোদন প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৩৯:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ ৮৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শ্বাসকষ্টের অভিযোগে কয়েক দিন আগেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন । সোমবার (১০ নভেম্বর) রাত থেকে মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়েছে তাঁর। কখনও হেমা মালিনী, কখনও সানি দেওল সমাজমাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন, ধর্মেন্দ্র জীবিত। তিনি ধীরে ধীরে চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকাল থেকেই সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলিউডের ‘হি-ম্যান’-এর মৃত্যুসংবাদ। এর পরেই সমাজমাধ্যমে সরব ধর্মেন্দ্রের মেয়ে ঈশা দেওল। তিনি লেখেন, “বাবার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন।” সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে একই কথা জানিয়েছেন স্ত্রী হেমাও। মঙ্গলবার ক্ষোভপ্রকাশ করে তিনি লেখেন, “যে হারে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে, তা ক্ষমার অযোগ্য।”

ঈশা আরও লেখেন, “সম্ভবত চাপে পড়ে সংবাদমাধ্যম বাবার ভুয়ো মৃত্যুসংবাদ পরিবেশন করেছে। আমাদের বাবা আগের তুলনায় ভাল আছেন। চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন।” অনুরাগী থেকে সংবাদমাধ্যম প্রত্যেকের কাছে তাঁর অনুরোধ, তাঁদের অনুমতি ব্যতীত দেওল পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয়ে তৃতীয় ব্যক্তি যেন হস্তক্ষেপ না করেন। প্রসঙ্গত, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ায় আনন্দবাজার ডট কম-ও ধর্মেন্দ্রের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। ঈশার বার্তা পেতেই সঙ্গে সঙ্গে সেই খবর সরিয়ে নেওয়া হয়। আনন্দবাজার ডট কম-এর পক্ষ থেকে বর্ষীয়ান অভিনেতার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়েছে।

ঈশার মতো বার্তায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেতাপত্নী হেমাও। তিনি লিখেছেন, “একজন মানুষ ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। আর সংবাদমাধ্যম তাঁর ভুয়ো মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে!” তাঁর ভর্ৎসনা, সংবাদমাধ্যমের এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতা আশা করেননি। এই ধরনের সংবাদ পরিবেশন যে কোনও পরিবারের পক্ষেই অসম্মানজনক, ক্ষোভপ্রকাশ তাঁর। প্রসঙ্গত, সোমবার রাত থেকে ধর্মেন্দ্রের মৃত্যুর খবর ছড়াতেই দফায় দফায় সমাজমাধ্যমে বার্তা দেন দেওল পরিবার। সানি দেওলের টিমের তরফ থেকে সোমবার রাতেই বলা হয়, “ধর্মেন্দ্র এখন স্থিতিশীল ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। ওঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সকলে প্রার্থনা জানান। ভুয়ো গুঞ্জন ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন।”

এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে ভর্তি ৮৯ বছরের ধর্মেন্দ্র। খবর, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন তিনি। তখন থেকেই তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন বলিউড। তিনি ভেন্টিলেশনে আছেন, সোমবার এমন খবরও ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেই খবরও ভুয়ো বলে জানানো হয়। হেমা-সহ দেওল পরিবার দ্রুত পৌঁছে যান হাসপাতালে, একে একে বর্ষীয়ান অভিনেতাকে দেখতে আসেন শাহরুখ খান, সলমন খান, অমিষা পটেল-সহ বলিউডের তারকারা। ৮ ডিসেম্বর ৯০ পূর্ণ করবেন অভিনেতা।

১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের লুধিয়ানার নসরালি গ্রামে জন্ম ধর্মেন্দ্রর। ১৯৬০ সালে দিল ভি তেরা হম ভি তেরে ছবির মাধ্যমে যাত্রা শুরু, আর ১৯৬৬ সালের ফুল অউর পাথর তাঁকে এনে দেয় অমর খ্যাতি। সেখান থেকেই শুরু—তারপর শোলে, সীতা অউর গীতা, রাজা জানি, ইয়াদোঁ কি বারাত, আজাদ, দিললাগি, একটা একটা করে বলিউডের সোনালি অধ্যায় লেখা হয়েছে তাঁর নামে।

সবেতেই সাবলীল

৩০০-রও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন ধর্মেন্দ্র। রোমান্টিক হিরো, অ্যাকশন আইকন, পারিবারিক চরিত্র—সবেতেই ছিলেন সমান সাবলীল। পর্দার বাইরে তাঁর বিনয় আর প্রাণখোলা হাসি তাঁকে করে তুলেছিল সকলের প্রিয় ‘ধর্ম পাজি’।

কিছুদিন আগেই চোখের অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে পাপারাজ্জিদের উদ্দেশে হেসে বলেছিলেন, “আমি শক্ত আছি, এখনও ধর্মেন্দ্রে অনেক দম আছে!” সেই হাসিই যেন আজ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বলিউডে, একটা যুগ শেষ হয়ে গেল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র’র মৃত্যুর গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন হেমা, ঈশা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৩৯:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

শ্বাসকষ্টের অভিযোগে কয়েক দিন আগেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন । সোমবার (১০ নভেম্বর) রাত থেকে মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়েছে তাঁর। কখনও হেমা মালিনী, কখনও সানি দেওল সমাজমাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন, ধর্মেন্দ্র জীবিত। তিনি ধীরে ধীরে চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকাল থেকেই সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলিউডের ‘হি-ম্যান’-এর মৃত্যুসংবাদ। এর পরেই সমাজমাধ্যমে সরব ধর্মেন্দ্রের মেয়ে ঈশা দেওল। তিনি লেখেন, “বাবার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন।” সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে একই কথা জানিয়েছেন স্ত্রী হেমাও। মঙ্গলবার ক্ষোভপ্রকাশ করে তিনি লেখেন, “যে হারে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে, তা ক্ষমার অযোগ্য।”

ঈশা আরও লেখেন, “সম্ভবত চাপে পড়ে সংবাদমাধ্যম বাবার ভুয়ো মৃত্যুসংবাদ পরিবেশন করেছে। আমাদের বাবা আগের তুলনায় ভাল আছেন। চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন।” অনুরাগী থেকে সংবাদমাধ্যম প্রত্যেকের কাছে তাঁর অনুরোধ, তাঁদের অনুমতি ব্যতীত দেওল পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয়ে তৃতীয় ব্যক্তি যেন হস্তক্ষেপ না করেন। প্রসঙ্গত, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ায় আনন্দবাজার ডট কম-ও ধর্মেন্দ্রের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। ঈশার বার্তা পেতেই সঙ্গে সঙ্গে সেই খবর সরিয়ে নেওয়া হয়। আনন্দবাজার ডট কম-এর পক্ষ থেকে বর্ষীয়ান অভিনেতার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়েছে।

ঈশার মতো বার্তায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেতাপত্নী হেমাও। তিনি লিখেছেন, “একজন মানুষ ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। আর সংবাদমাধ্যম তাঁর ভুয়ো মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে!” তাঁর ভর্ৎসনা, সংবাদমাধ্যমের এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতা আশা করেননি। এই ধরনের সংবাদ পরিবেশন যে কোনও পরিবারের পক্ষেই অসম্মানজনক, ক্ষোভপ্রকাশ তাঁর। প্রসঙ্গত, সোমবার রাত থেকে ধর্মেন্দ্রের মৃত্যুর খবর ছড়াতেই দফায় দফায় সমাজমাধ্যমে বার্তা দেন দেওল পরিবার। সানি দেওলের টিমের তরফ থেকে সোমবার রাতেই বলা হয়, “ধর্মেন্দ্র এখন স্থিতিশীল ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। ওঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সকলে প্রার্থনা জানান। ভুয়ো গুঞ্জন ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন।”

এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে ভর্তি ৮৯ বছরের ধর্মেন্দ্র। খবর, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন তিনি। তখন থেকেই তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন বলিউড। তিনি ভেন্টিলেশনে আছেন, সোমবার এমন খবরও ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেই খবরও ভুয়ো বলে জানানো হয়। হেমা-সহ দেওল পরিবার দ্রুত পৌঁছে যান হাসপাতালে, একে একে বর্ষীয়ান অভিনেতাকে দেখতে আসেন শাহরুখ খান, সলমন খান, অমিষা পটেল-সহ বলিউডের তারকারা। ৮ ডিসেম্বর ৯০ পূর্ণ করবেন অভিনেতা।

১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের লুধিয়ানার নসরালি গ্রামে জন্ম ধর্মেন্দ্রর। ১৯৬০ সালে দিল ভি তেরা হম ভি তেরে ছবির মাধ্যমে যাত্রা শুরু, আর ১৯৬৬ সালের ফুল অউর পাথর তাঁকে এনে দেয় অমর খ্যাতি। সেখান থেকেই শুরু—তারপর শোলে, সীতা অউর গীতা, রাজা জানি, ইয়াদোঁ কি বারাত, আজাদ, দিললাগি, একটা একটা করে বলিউডের সোনালি অধ্যায় লেখা হয়েছে তাঁর নামে।

সবেতেই সাবলীল

৩০০-রও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন ধর্মেন্দ্র। রোমান্টিক হিরো, অ্যাকশন আইকন, পারিবারিক চরিত্র—সবেতেই ছিলেন সমান সাবলীল। পর্দার বাইরে তাঁর বিনয় আর প্রাণখোলা হাসি তাঁকে করে তুলেছিল সকলের প্রিয় ‘ধর্ম পাজি’।

কিছুদিন আগেই চোখের অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে পাপারাজ্জিদের উদ্দেশে হেসে বলেছিলেন, “আমি শক্ত আছি, এখনও ধর্মেন্দ্রে অনেক দম আছে!” সেই হাসিই যেন আজ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বলিউডে, একটা যুগ শেষ হয়ে গেল।