ঢাকা ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে কোন আসনগুলো গুরুত্বপূর্ণ? পুকুরের জমি ভরাট করে প্লট বিক্রি, রাজস্ব ফাঁকির শঙ্কা ১০ কোটি টাকা হামলার আশঙ্কা, উদ্বোধনের আগেই স্থগিত জাতীয় চার নেতার প্রদর্শনী অবরোধে অবরুদ্ধ সাজেক, খাদ্যসংকটে স্থানীয়রা এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপ্ত ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ ফুটবল টুর্নামেন্ট যশোরে আ’লীগের ‘নাশকতার বিরুদ্ধে’ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের মিছিল বিসিডিএস সভাপতিকে মুঠোফোনে হুমকি, পদ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা! তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা অর্থায়নে আবেদন চলছে, শেষ সময় ৩০ নভেম্বর সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ১০ লাখ টাকা ভাগাভাগি

নওগাঁয় কয়েক বিঘা জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে কম মূল্যায়নে দলিল করার অভিযোগ

পুকুরের জমি ভরাট করে প্লট বিক্রি, রাজস্ব ফাঁকির শঙ্কা ১০ কোটি টাকা

নওগাঁ প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নওগাঁ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের স্টাফ কোয়ার্টার মহল্লার চক এনায়েত মৌজায় কয়েক বিঘা জমির শ্রেণি পুকুর বা ডোবা দেখিয়ে দলিল সম্পাদনের অভিযোগ উঠেছে। জমির প্রকৃত শ্রেণি গোপন করে কম মূল্যায়নে দলিল করা হয়ে থাকলে সরকার প্রায় ১০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয় আবাসন প্রকল্প পিপলস সিটির পরিচালক, চেয়ারম্যান ও অ্যাডভোকেট কাজী মো. আতিকুর রহমানের নাম আলোচনায় এসেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় পাঁচ বিঘা জমি বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। সেখানে পুকুর বা ডোবা হিসেবে পরিচিত জমি ভরাটের কাজ চলছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বেশ কিছুদিন ধরে রাতের আঁধারে ভারী যানবাহনে করে মাটি ফেলা হচ্ছে। এসব যানবাহনের শব্দে আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের পড়াশোনা ও রাতের ঘুমে বিঘ্ন ঘটছে। জমির কিছু অংশ প্লট আকারে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের।

পুকুর ও ভিটেমাটির মূল্যায়নে বড় ব্যবধান

জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগের সঙ্গে রাজস্ব ফাঁকির আশঙ্কার বিষয়টিও সামনে এসেছে। নওগাঁ দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, খারিজ বা নামজারির তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা দলিল প্রস্তুত করেন। সরকার এখানে রাজস্ব হারাচ্ছে কি না, তা তাঁর জানা নেই।

তিনি জানান, চক এনায়েত মৌজায় পুকুর শ্রেণির জমির প্রতি কাঠার মূল্যায়ন সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, ভিটেমাটি শ্রেণির জমির মূল্যায়ন প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা। ফলে জমির প্রকৃত শ্রেণি আড়াল করে পুকুর দেখিয়ে দলিল করা হলে মূল্যায়নে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

অনুমতির দাবি, তদন্তের কথা প্রশাসনের

অভিযোগের বিষয়ে পিপলস সিটির পরিচালক, চেয়ারম্যান ও অ্যাডভোকেট কাজী মো. আতিকুর রহমান বলেন, পৌরসভা থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়েই কাজ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেও অনুমতি নেওয়া হবে।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নূরুল আমিন বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নওগাঁ পৌরসভার প্রশাসক টি এম মমিন বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পৌরসভা থেকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। তবে অনাপত্তিপত্রের সুযোগ নিয়ে কেউ জমির শ্রেণি পরিবর্তনের চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নওগাঁ সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সূত্র ও মৌজা মূল্যায়নের হিসাব অনুযায়ী, জমির প্রকৃত শ্রেণি পরিবর্তন করে কম মূল্যায়নে দলিল সম্পাদন করা হয়ে থাকলে সরকার প্রায় ১০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে পারে। এ অবস্থায় জমির রেকর্ড, নামজারি, মৌজা মূল্যায়ন ও সম্পাদিত দলিল যাচাই করে প্রকৃত শ্রেণি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নওগাঁয় কয়েক বিঘা জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে কম মূল্যায়নে দলিল করার অভিযোগ

পুকুরের জমি ভরাট করে প্লট বিক্রি, রাজস্ব ফাঁকির শঙ্কা ১০ কোটি টাকা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

নওগাঁ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের স্টাফ কোয়ার্টার মহল্লার চক এনায়েত মৌজায় কয়েক বিঘা জমির শ্রেণি পুকুর বা ডোবা দেখিয়ে দলিল সম্পাদনের অভিযোগ উঠেছে। জমির প্রকৃত শ্রেণি গোপন করে কম মূল্যায়নে দলিল করা হয়ে থাকলে সরকার প্রায় ১০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয় আবাসন প্রকল্প পিপলস সিটির পরিচালক, চেয়ারম্যান ও অ্যাডভোকেট কাজী মো. আতিকুর রহমানের নাম আলোচনায় এসেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় পাঁচ বিঘা জমি বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। সেখানে পুকুর বা ডোবা হিসেবে পরিচিত জমি ভরাটের কাজ চলছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বেশ কিছুদিন ধরে রাতের আঁধারে ভারী যানবাহনে করে মাটি ফেলা হচ্ছে। এসব যানবাহনের শব্দে আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের পড়াশোনা ও রাতের ঘুমে বিঘ্ন ঘটছে। জমির কিছু অংশ প্লট আকারে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের।

পুকুর ও ভিটেমাটির মূল্যায়নে বড় ব্যবধান

জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগের সঙ্গে রাজস্ব ফাঁকির আশঙ্কার বিষয়টিও সামনে এসেছে। নওগাঁ দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, খারিজ বা নামজারির তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা দলিল প্রস্তুত করেন। সরকার এখানে রাজস্ব হারাচ্ছে কি না, তা তাঁর জানা নেই।

তিনি জানান, চক এনায়েত মৌজায় পুকুর শ্রেণির জমির প্রতি কাঠার মূল্যায়ন সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, ভিটেমাটি শ্রেণির জমির মূল্যায়ন প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা। ফলে জমির প্রকৃত শ্রেণি আড়াল করে পুকুর দেখিয়ে দলিল করা হলে মূল্যায়নে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

অনুমতির দাবি, তদন্তের কথা প্রশাসনের

অভিযোগের বিষয়ে পিপলস সিটির পরিচালক, চেয়ারম্যান ও অ্যাডভোকেট কাজী মো. আতিকুর রহমান বলেন, পৌরসভা থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়েই কাজ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেও অনুমতি নেওয়া হবে।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নূরুল আমিন বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নওগাঁ পৌরসভার প্রশাসক টি এম মমিন বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পৌরসভা থেকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। তবে অনাপত্তিপত্রের সুযোগ নিয়ে কেউ জমির শ্রেণি পরিবর্তনের চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নওগাঁ সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সূত্র ও মৌজা মূল্যায়নের হিসাব অনুযায়ী, জমির প্রকৃত শ্রেণি পরিবর্তন করে কম মূল্যায়নে দলিল সম্পাদন করা হয়ে থাকলে সরকার প্রায় ১০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে পারে। এ অবস্থায় জমির রেকর্ড, নামজারি, মৌজা মূল্যায়ন ও সম্পাদিত দলিল যাচাই করে প্রকৃত শ্রেণি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।