নিয়োগ নীতিমালায় সংশোধন, শিথিল হচ্ছে অভিজ্ঞতার শর্ত
ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি নিয়োগে বেসরকারি ব্যাংকারদের দিকে সরকারের নজর

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের বিবেচনায় নিচ্ছে সরকার। সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ও বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে যোগ্য প্রার্থী খুঁজছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ব্যাংকগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ লক্ষ্যে গত সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগসংক্রান্ত নীতিমালায় সংশোধন এনেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সংশোধিত নীতিমালার মাধ্যমে এমডি নিয়োগে বেসরকারি খাতের ব্যাংকারদের বিবেচনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রার্থীদের অভিজ্ঞতার মেয়াদসংক্রান্ত যোগ্যতার শর্তেও শিথিলতা আনা হয়েছে।
ছয় ব্যাংকেই নেই নিয়মিত এমডি
বর্তমানে ছয় ব্যাংকের কোনোটিতেই নিয়মিত এমডি নেই। দুই দফায় এসব ব্যাংকের এমডিদের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় অগ্রণী ব্যাংকের এমডি মো. আনোয়ারুল ইসলাম, বেসিক ব্যাংকের এমডি মো. কামরুজ্জামান খান এবং বিডিবিএলের এমডি মো. জসিম উদ্দিনের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়।
এরপর গত ১৯ অক্টোবর একইভাবে অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয় সোনালী ব্যাংকের এমডি মো. শওকত আলী খান, জনতা ব্যাংকের এমডি মো. মজিবুর রহমান এবং রূপালী ব্যাংকের এমডি কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অগ্রণী, বেসিক ও বিডিবিএলের এমডি নিয়োগের প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। অন্যদিকে সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডি নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। আপাতত এই তিন ব্যাংকে বেসরকারি খাত থেকে এমডি নিয়োগের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন, শর্তে শিথিলতা
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শীর্ষ পদে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে চায় সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এসব ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে থাকা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে এমডি করা হলে তাঁরা বিদ্যমান পরিস্থিতি সামলাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সরকারের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্র জানায়, এমডি পদে নিয়োগের জন্য ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জীবনবৃত্তান্ত পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি), কেউ ডিএমডি পদে কর্মরত। তবে তাঁদের এএমডি বা ডিএমডি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা দুই বছরের কম হওয়ায় বিদ্যমান যোগ্যতার শর্ত পূরণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞতার মেয়াদসংক্রান্ত শর্ত শিথিল করা হয়েছে। ফলে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা বিবেচনার পরিসর বাড়ছে।
বেসরকারি ব্যাংকার নিয়োগের নজির আছে
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি পদে বেসরকারি খাতের ব্যাংকার নিয়োগের নজির নতুন নয়। অগ্রণী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ একসময় সাউথইস্ট ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংকের এমডি ছিলেন। পরে ২০০৪ সালে তিনি অগ্রণী ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগ পান।
এ ছাড়া চলতি বছরের জুনে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগ পান ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ডিএমডি আবেদুর রহমান সিকদার। এসব উদাহরণ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নেতৃত্বে বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের অন্তর্ভুক্তির পূর্ব নজির হিসেবে সামনে এসেছে।
একই পরিস্থিতি দ্বিতীয়বার
ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে একযোগে নিয়মিত এমডি না থাকার ঘটনা এবার দ্বিতীয়বার ঘটল। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ওই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ছয় ব্যাংকের এমডিদের অবশিষ্ট মেয়াদ একসঙ্গে বাতিল করা হয়।
এবারও ছয় ব্যাংকের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের পর নতুন নেতৃত্ব নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। নীতিমালা সংশোধন করে বেসরকারি খাতের ব্যাংকারদের বিবেচনায় নেওয়া এবং অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করার মধ্য দিয়ে সরকার নিয়োগের পরিসর বাড়িয়েছে।
তবে নতুন এমডিরা কবে দায়িত্ব নেবেন এবং কোন ব্যাংকে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর নেতৃত্বে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


























