ঢাকা ১১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাসওয়ার্ড ছাড়াই সার্ভারে হামলার শঙ্কা, সতর্কতায় কয়েকটি সাইট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ভেঙে সার্ভারে ঢুকতে ব্যবহারকারীর নাম বা পাসওয়ার্ডও লাগবে না—পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে এমন আশঙ্কাই সামনে এসেছে। এসব দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে দূর থেকেই সার্ভারে ক্ষতিকর নির্দেশনা চালাতে পারে সাইবার হামলাকারীরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি, সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ দখল এবং অনলাইন সেবা অচল করে দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে দেশে সম্ভাব্য সাইবার হামলা নিয়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে সরকারের কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম বিজিডি ই-গভ সার্ট। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা ৯.২

বিজিডি ই-গভ সার্টের সতর্কবার্তায় পিএইচপির ত্রুটি দুটির পরিচিতি নম্বর দেওয়া হয়েছে সিভিই-২০২৬-১০৯৬১৮ ও সিভিই-২০২৬-১০৯৬১৯। ‘পিএইচপি২শেল’ নামে পরিচিত এই দুর্বলতাগুলোর ঝুঁকির মাত্রা ১০-এর মধ্যে ৯ দশমিক ২—যা অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচিত।

সার্টের তথ্য অনুযায়ী, পিএইচপির তথ্য ব্যবস্থাপনায় থাকা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বিশেষভাবে তৈরি অনুরোধের মাধ্যমে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা চালানো সম্ভব হতে পারে। এর পরিণতিতে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ হারানো, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও তথ্যভান্ডারে অনুপ্রবেশ এবং অনলাইন সেবার গোপন সংকেত ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থাৎ, ঝুঁকিটি শুধু ওয়েবসাইটের সাময়িক অচলাবস্থায় সীমাবদ্ধ নয়; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও ডিজিটাল অবকাঠামোও আক্রান্ত হতে পারে।

কোন কোন সার্ভার ঝুঁকিতে

পিএইচপি-এফপিএম, অ্যাপাচির মড_পিএইচপি, পিএইচপি-সিজিআই, ফ্র্যাঙ্কেনপিএইচপি ও লাইটস্পিডের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারকারী সার্ভারগুলো এ ঝুঁকির আওতায় পড়তে পারে। সরকারি পোর্টাল, ব্যাংক, ই-কমার্স ওয়েবসাইট এবং ওয়ার্ডপ্রেস ও লারাভেল দিয়ে তৈরি সাইটেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভারে কোন পিএইচপি সংস্করণ চলছে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সার্ট।

শুধু ওয়েবসাইট নয়, সার্ভারও হালনাগাদ জরুরি

নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করতে পিএইচপির নিরাপদ সংস্করণে দ্রুত হালনাগাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সতর্কবার্তায় নিরাপদ সংস্করণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ৮.৫.১২, ৮.৪.২৭, ৮.৩.৩৬ ও ৮.২.৩৫।

এ ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের অ্যাপ্লিকেশন হালনাগাদ করাই যথেষ্ট নয়; সার্ভারে ব্যবহৃত পিএইচপির মূল সংস্করণও নিরাপদ সংস্করণে উন্নীত করতে হবে।

তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ সম্ভব না হলে ভিপিএনের মাধ্যমে নিরাপদ সংযোগ ব্যবহার, অনুমোদিত আইপি ঠিকানা ছাড়া অন্য ঠিকানা থেকে প্রবেশ সীমিত করা এবং সার্ভারের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থা সাময়িক সুরক্ষা দিতে পারে; দুর্বলতা পুরোপুরি দূর করতে সফটওয়্যার হালনাগাদই প্রধান পদক্ষেপ।

ওয়েবসাইট বন্ধ রাখাই শেষ সমাধান নয়

বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘটনা সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে সার্ভারের দুর্বলতা শনাক্ত করা, নিরাপদ সংস্করণে হালনাগাদ এবং প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা জরুরি।

এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো, ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো কত দ্রুত নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করতে পারে। কারণ, সতর্কতা জারি বা ওয়েবসাইট সাময়িক বন্ধ রাখার পাশাপাশি সার্ভারের মূল দুর্বলতা দূর করা না গেলে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি পুরোপুরি কাটবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাসওয়ার্ড ছাড়াই সার্ভারে হামলার শঙ্কা, সতর্কতায় কয়েকটি সাইট

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ভেঙে সার্ভারে ঢুকতে ব্যবহারকারীর নাম বা পাসওয়ার্ডও লাগবে না—পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে এমন আশঙ্কাই সামনে এসেছে। এসব দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে দূর থেকেই সার্ভারে ক্ষতিকর নির্দেশনা চালাতে পারে সাইবার হামলাকারীরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি, সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ দখল এবং অনলাইন সেবা অচল করে দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে দেশে সম্ভাব্য সাইবার হামলা নিয়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে সরকারের কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম বিজিডি ই-গভ সার্ট। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা ৯.২

বিজিডি ই-গভ সার্টের সতর্কবার্তায় পিএইচপির ত্রুটি দুটির পরিচিতি নম্বর দেওয়া হয়েছে সিভিই-২০২৬-১০৯৬১৮ ও সিভিই-২০২৬-১০৯৬১৯। ‘পিএইচপি২শেল’ নামে পরিচিত এই দুর্বলতাগুলোর ঝুঁকির মাত্রা ১০-এর মধ্যে ৯ দশমিক ২—যা অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচিত।

সার্টের তথ্য অনুযায়ী, পিএইচপির তথ্য ব্যবস্থাপনায় থাকা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বিশেষভাবে তৈরি অনুরোধের মাধ্যমে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা চালানো সম্ভব হতে পারে। এর পরিণতিতে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ হারানো, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও তথ্যভান্ডারে অনুপ্রবেশ এবং অনলাইন সেবার গোপন সংকেত ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থাৎ, ঝুঁকিটি শুধু ওয়েবসাইটের সাময়িক অচলাবস্থায় সীমাবদ্ধ নয়; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও ডিজিটাল অবকাঠামোও আক্রান্ত হতে পারে।

কোন কোন সার্ভার ঝুঁকিতে

পিএইচপি-এফপিএম, অ্যাপাচির মড_পিএইচপি, পিএইচপি-সিজিআই, ফ্র্যাঙ্কেনপিএইচপি ও লাইটস্পিডের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারকারী সার্ভারগুলো এ ঝুঁকির আওতায় পড়তে পারে। সরকারি পোর্টাল, ব্যাংক, ই-কমার্স ওয়েবসাইট এবং ওয়ার্ডপ্রেস ও লারাভেল দিয়ে তৈরি সাইটেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভারে কোন পিএইচপি সংস্করণ চলছে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সার্ট।

শুধু ওয়েবসাইট নয়, সার্ভারও হালনাগাদ জরুরি

নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করতে পিএইচপির নিরাপদ সংস্করণে দ্রুত হালনাগাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সতর্কবার্তায় নিরাপদ সংস্করণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ৮.৫.১২, ৮.৪.২৭, ৮.৩.৩৬ ও ৮.২.৩৫।

এ ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের অ্যাপ্লিকেশন হালনাগাদ করাই যথেষ্ট নয়; সার্ভারে ব্যবহৃত পিএইচপির মূল সংস্করণও নিরাপদ সংস্করণে উন্নীত করতে হবে।

তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ সম্ভব না হলে ভিপিএনের মাধ্যমে নিরাপদ সংযোগ ব্যবহার, অনুমোদিত আইপি ঠিকানা ছাড়া অন্য ঠিকানা থেকে প্রবেশ সীমিত করা এবং সার্ভারের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থা সাময়িক সুরক্ষা দিতে পারে; দুর্বলতা পুরোপুরি দূর করতে সফটওয়্যার হালনাগাদই প্রধান পদক্ষেপ।

ওয়েবসাইট বন্ধ রাখাই শেষ সমাধান নয়

বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘটনা সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে সার্ভারের দুর্বলতা শনাক্ত করা, নিরাপদ সংস্করণে হালনাগাদ এবং প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা জরুরি।

এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো, ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো কত দ্রুত নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করতে পারে। কারণ, সতর্কতা জারি বা ওয়েবসাইট সাময়িক বন্ধ রাখার পাশাপাশি সার্ভারের মূল দুর্বলতা দূর করা না গেলে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি পুরোপুরি কাটবে না।