শরীরী দৃশ্যে আপত্তি রশ্মিকার

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
ছবিতে খোলামেলা পোশাক কিংবা শরীরী দৃশ্যে অভিনয় নিয়ে নিজের অস্বস্তির কথা জানালেন দক্ষিণী অভিনেত্রী রশ্মিকা মন্দানা। তাঁর কথায়, অভিনয়ের প্রয়োজনে অনেক সময় অপছন্দের পোশাক পরতে হলেও নিজের কিছু সীমারেখা রয়েছে, যা তিনি মেনে চলতে চান। সম্প্রতি কর্ণ জোহরের সঞ্চালনায় ‘কফি উইথ কর্ণ’ অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন অভিনেত্রী। আলোচনায় যোগ দিয়ে অভিনেতা বিজয় দেবরকোন্ডাও বলেন, কোনো দৃশ্যে আপত্তি থাকলে শিল্পীদের ‘না’ বলার সাহস থাকা প্রয়োজন।
সম্প্রতি ‘পেদ্দি’ ছবিতে জাহ্নবী কপূরকে উপস্থাপনের ধরন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ছবিতে অভিনেত্রীকে যেভাবে দেখানো হয়েছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাংশের সমালোচনা ছিল। তাঁদের অভিযোগ, জাহ্নবীকে ছবিতে অতিরিক্ত শরীরসর্বস্বভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। রাম চরণের সঙ্গে অভিনীত ছবিটি ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্কের পর দক্ষিণী সিনেমায় অভিনেত্রীদের উপস্থাপনের ধরন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।
‘কফি উইথ কর্ণ’-এর আলোচনায় জাহ্নবীর প্রসঙ্গ তোলেন সঞ্চালক কর্ণ জোহর। তিনি রশ্মিকাকে বলেন, ‘পেদ্দি’ ছবিতে জাহ্নবীকে যেভাবে দেখানো হয়েছে, রশ্মিকার ক্ষেত্রে তেমনটা দেখা যায়নি। এরপরই প্রশ্ন ওঠে, এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে পোশাক ও দৃশ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে আগে থেকেই সতর্ক থাকেন কি না অভিনেত্রী।
উত্তরে রশ্মিকা বলেন, কিছু বিষয় নিয়ে তিনি স্বচ্ছন্দ নন। কোনো চরিত্রের প্রয়োজনে বিকিনি পরার দৃশ্য থাকতে পারে—এ বিষয়টি তিনি বোঝেন। তবে শরীর দেখানো কিংবা খোলামেলা পোশাক পরার ক্ষেত্রে তাঁর অস্বস্তি রয়েছে।
অভিনেত্রীর ভাষায়, “কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলি নিয়ে আমি স্বচ্ছন্দ নই। কোনও চরিত্রের প্রয়োজনে বিকিনি পরার মতো দৃশ্য থাকতে পারে, সেটা আমি বুঝি। কিন্তু শরীর দেখানো বা খোলামেলা পোশাক পরার বিষয়েও আমি খুব একটা স্বচ্ছন্দ নই। আমি সে রকম মানুষ নই।”
রশ্মিকা আরও জানান, বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করতে গিয়েও অনেক সময় এমন পোশাক পরতে হয়, যা তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দের সঙ্গে মেলে না। তবে নিজের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সীমারেখা ঠিক করে রেখেছেন তিনি। অধিকাংশ পরিচালক সেই সীমারেখাকে সম্মান করেন বলেও জানান অভিনেত্রী। নিজের পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দেন—এমন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতেই আগ্রহী তিনি।
‘না’ বলাও শিল্পীদের অধিকার: বিজয়
রশ্মিকার বক্তব্যের পর আলোচনায় অংশ নেন বিজয় দেবরকোন্ডা। তাঁর মতে, কোনো দৃশ্য বা কাজ নিয়ে আপত্তি থাকলে শিল্পীদের স্পষ্টভাবে ‘না’ বলার সুযোগ ও সাহস দিতে হবে।
বিজয় বলেন, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বোঝানো প্রয়োজন যে কোনো বিষয়ে আপত্তি জানানো কিংবা রাজি না হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ, অনেক সময় তাঁদের বলা হয়, তাঁরা যেহেতু অভিনেতা বা অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করতে রাজি হয়েছেন, তাই ছবিতে যা করতে বলা হবে, সেটিই তাঁদের দায়িত্ব।
এ ধরনের কথায় অনেক শিল্পী নিজেদের পেশাদারিত্ব নিয়ে সন্দেহে পড়ে যান বলে মনে করেন বিজয়। তাঁর ভাষ্য, পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে অনেকে আর প্রতিবাদ করতে চান না; বরং পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেক সময় তাঁদের এমন কাজ করতে হয়, যাতে তাঁরা স্বচ্ছন্দ নন।
রশ্মিকা ও বিজয়ের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সিনেমায় চরিত্রের প্রয়োজনে অভিনয় এবং শিল্পীর ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মতির সীমারেখা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এসেছে।






















