সৌদিতে ২২ বাংলাদেশির শাস্তির তথ্য অস্পষ্ট, মৃত্যুদণ্ডের শঙ্কায় উদ্বেগ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
দণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত ২২ বাংলাদেশির সাজা কী, জানে না জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। এর মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা। সাজা ও মামলার বিস্তারিত জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হলেও এখনো মেলেনি জবাব।
সৌদি আরবে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের সাজা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো ২ হাজার ৪৬১ বাংলাদেশি বন্দির তালিকায় ২২ জনের অবস্থান ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের কার কী সাজা হয়েছে, সে বিষয়ে তালিকায় কোনো তথ্য নেই। ফলে তাঁদের মধ্যে কেউ মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন কি না, তা-ও নিশ্চিত হতে পারছে না জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট।
সম্প্রতি সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ওই ঘটনায় বাংলাদেশে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়। এরপর সৌদি কারাগারে থাকা অন্য বাংলাদেশিদের মামলার অবস্থা এবং সাজা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে উদ্যোগী হয়েছে বাংলাদেশি কনস্যুলেট।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশি বন্দিদের তালিকা পাঠায়। তালিকায় ২২ জনের নামের পাশে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ লেখা থাকলেও তাঁদের সাজা বা রায়ের বিস্তারিত বিবরণ নেই। এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে গত ১৯ অক্টোবর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। তবে এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
তালিকাভুক্ত ২২ জনের মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা, পাঁচজনের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, পাঁচজনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অধিকারসংক্রান্ত মামলা, দুজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন, একজনের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ এবং একজনের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ রয়েছে।
বন্দিদের বিভিন্ন সৌদি কারাগারে রাখা হয়েছে। তবে শুধু মামলার ধরন দেখে তাঁদের সাজা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে হত্যা মামলায় অপরাধের পরিস্থিতি ও মামলার বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে মৃত্যুদণ্ড, রক্তপণ বা কারাদণ্ডের মতো ভিন্ন শাস্তি হতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট বন্দিদের রায় ও সাজাসংক্রান্ত নথি পাওয়া জরুরি।
তালিকায় দণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ থাকলেও সাজা সম্পর্কে কোনো তথ্য না থাকায় বন্দিদের আইনি অবস্থান স্পষ্ট নয়। তাঁরা কী ধরনের সাজা পেয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ আছে কি না কিংবা সাজা কার্যকরের কোনো প্রক্রিয়া চলছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও এখনো অজানা।
বন্দিদের মুক্তি ও প্রত্যাবাসন চেয়ে চিঠি
শুধু ২২ জনের সাজা সম্পর্কে তথ্য চাওয়াই নয়, সৌদি কারাগারে থাকা ২ হাজার ৪৬১ বাংলাদেশির বিষয়ে পৃথক উদ্যোগও নিয়েছে বাংলাদেশ। তাঁদের মামলার অবস্থা ও কারাবাসের মেয়াদ বিবেচনায় কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যাঁদের কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাঁদের মুক্তি দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ রয়েছে। পাশাপাশি কারাগারে ভালো আচরণকারী বন্দিদের রাজকীয় ক্ষমার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, প্রথমবারের অপরাধী ও তুলনামূলক কম গুরুতর অপরাধে আটক ব্যক্তিদের অবশিষ্ট সাজা মওকুফ এবং বিচারাধীন মামলাগুলোর বিচার দ্রুত শেষ করার বিষয়েও উদ্যোগ চাওয়া হয়েছে।
এদিকে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আরও দুই বাংলাদেশি আটক হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাঁদের আটকের কারণ ও অবস্থান সম্পর্কে পরিবারের সদস্যরা জানেন না বলে জানা গেছে। এ ঘটনায়ও তথ্যের স্বচ্ছতা এবং কনস্যুলার সহায়তার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
তথ্যের ঘাটতিতে বাড়ছে উদ্বেগ
বিদেশে কারাবন্দি নাগরিকদের মামলার অগ্রগতি, সাজা ও আইনি সহায়তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক মিশনের কাছে স্পষ্ট তথ্য থাকা জরুরি। কিন্তু ২২ বাংলাদেশির ক্ষেত্রে সাজা সম্পর্কে বিস্তারিত না থাকায় তাঁদের পরবর্তী আইনি পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে সৌদি আরবে সাম্প্রতিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার পর বন্দিদের সাজা নিয়ে অনিশ্চয়তা তাঁদের পরিবারগুলোর উদ্বেগ বাড়াতে পারে। তবে তালিকায় ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ লেখা থাকার অর্থ এই নয় যে তাঁদের সবাই মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে হলে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য ও সংশ্লিষ্ট আদালতের রায় প্রয়োজন।
এখন মূল প্রশ্ন, সৌদি কর্তৃপক্ষ কবে ওই ২২ বাংলাদেশির সাজা ও মামলার বিস্তারিত জানাবে এবং কারাবন্দি বাংলাদেশিদের আইনি সহায়তা, মুক্তি ও প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ ও দুই দেশের কর্তৃপক্ষের কার্যকর যোগাযোগের ওপর।






















