ফ্লাডলাইটে ক্রিকেট-ফুটবল, ২৫ অক্টোবর শুরু এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ
১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের লড়াই, চ্যাম্পিয়ন হলেই ১০ লাখ টাকা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রিকেট ও ফুটবলের প্রতিযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিতে মাঠে গড়াচ্ছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’। আগামী ২৫ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ক্রিকেট ও ফুটবলের দুই বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য থাকছে ১০ লাখ টাকা করে পুরস্কার। রানার্সআপ দল পাবে ৫ লাখ টাকা।
তবে বড় অঙ্কের প্রাইজমানিই এই আয়োজনের একমাত্র আকর্ষণ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের প্রতিভা যাচাই, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ এবং ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যও সামনে রাখছেন আয়োজকেরা। এখন দেখার বিষয়, এই আয়োজন মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কতটা এগিয়ে নিতে পারে এবং প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়দের জন্য কতটা কার্যকর মঞ্চ হয়ে ওঠে।
এবিজি গ্রুপের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন ব্লকে অবস্থিত এবিজি স্পোর্টস সিটির জুলকান ইনডোর অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত হয় ক্যাপ্টেনস মিট। এতে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্রিকেট ও ফুটবল দলের অধিনায়ক, প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের দাবি, এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াপ্রেমীরা ফ্লাডলাইটের আলোয় রাতের ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচ উপভোগের সুযোগ পাবেন। টুর্নামেন্টকে ঘিরে ক্যাপ্টেনস মিটে খেলার নিয়মাবলি, প্রস্তুতি ও সূচি নিয়ে আলোচনা হয়। আনুষ্ঠানিক লটারির মাধ্যমে সূচি নির্ধারণের পাশাপাশি উন্মোচন করা হয় প্রতিযোগিতার জার্সি ও ট্রফি। খেলোয়াড়দের মধ্যে বিতরণ করা হয় জার্সিও।
অংশ নিচ্ছে ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়—আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
ক্রিকেট ও ফুটবলের জন্য আলাদা পুরস্কারের ব্যবস্থা রেখেছেন আয়োজকেরা। দুই বিভাগের প্রতিটিতে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১০ লাখ টাকা, আর রানার্সআপ দল পাবে ৫ লাখ টাকা। ফলে শিরোপার লড়াইয়ের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও দলীয় দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক মো. ইমরুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের জন্য এমন একটি মঞ্চ তৈরি করাই আয়োজকদের লক্ষ্য, যেখান থেকে উঠে আসা নতুন প্রতিভা একদিন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। তাঁর ভাষায়, এই আয়োজন তারুণ্য, স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মিলনমেলা।
ক্যাপ্টেনস মিটে আরও উপস্থিত ছিলেন এবিজি স্পোর্টস সিটির অ্যাডভাইজার মো. লিয়াকত হোসেন ও মো. নাজমুল আলম ভূঁইয়া, টি স্পোর্টসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তাসভির উল ইসলাম, ফুটবল অপারেশনস ম্যানেজার সালমান হাসান এবং ক্রিকেট অপারেশনস ম্যানেজার ইকরাম হোসেন রাফি।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই টুর্নামেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দলগত সংহতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। তবে আয়োজনটির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে শুধু মাঠের জমজমাট লড়াই কিংবা পুরস্কারের অঙ্কের ওপর নয়; নতুন খেলোয়াড়দের বিকাশে এটি কতটা ভূমিকা রাখে, সেটিও হবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।























