ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জেলবন্দি ইমরানকে ভুলে নতুন জীবনে জেমিমা, বিয়ে করলেন কোটিপতিকে মমতার প্রস্তাবে কংগ্রেসের ‘না’; উপনির্বাচনে জোট হচ্ছে না যশোরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫৫ জন গ্রেফতার, উদ্ধার মাদক ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: আতঙ্কে ছুটতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ৬ মৃত্যু যশোরে র‌্যাবের অভিযানে ৮ অনলাইন জুয়াড়ি আটক, উদ্ধার ল্যাপটপ-মোবাইল শিবগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির দুই আহ্বায়ক কমিটি বাতিল ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, ভাতা পাবেন প্রশিক্ষণার্থীরা রাজধানীতে একদিনে নারীসহ ৫ মরদেহ উদ্ধার, নিহতরা ভবঘুরে অর্থনীতির টানাপোড়েনের মধ্যেও ব্যাংকে বাড়ছে কোটিপতি হিসাব রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা, ১৩ দিনে এলো ১৪২ কোটি ডলার

মমতার প্রস্তাবে কংগ্রেসের ‘না’; উপনির্বাচনে জোট হচ্ছে না

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন ঘিরে জোটের সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি কংগ্রেস। নন্দীগ্রাম আসন কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত জোটের সম্ভাবনা ভেস্তে গেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রের খবর, সোমবার সন্ধ্যায় এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে ঠেকাতে উপনির্বাচনে সমঝোতার প্রস্তাব দেন তিনি। নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী দেবে এবং রেজিনগরে তৃণমূল প্রার্থীকে সমর্থন করবে—এমন প্রস্তাবও দেন তৃণমূল নেত্রী।

এ ক্ষেত্রে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী প্রত্যাহারের কথাও জানিয়েছিলেন মমতা। তবে কংগ্রেস নেতৃত্ব সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানা গেছে।

কংগ্রেসের যুক্তি, অতীতে জোট ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া এবং তৃণমূলের শাসনামলে দলীয় কর্মীদের ওপর ‘অত্যাচারের’ অভিযোগের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, জোটের আগ্রহ থাকলে উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই আসনেই তৃণমূলের উচিত কংগ্রেসকে সমর্থন করা। এতে ভবিষ্যতে জোটের পথ খোলা থাকতে পারে।

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে দুই আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে কংগ্রেস ও তৃণমূল। পাশাপাশি ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলও আলাদা প্রার্থী দিয়েছে। ফলে দুই কেন্দ্রেই ত্রিমুখী লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নন্দীগ্রামে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের হয়ে নন্দীগ্রামে এহতাশামুল হক ও রেজিনগরে সফিউজ্জমান শেখ প্রার্থী হয়েছেন।

নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী বাছাই নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সঞ্চিতা প্রধান দে’র অতীত নিয়ে বিরোধী ও দলের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে বলে খবর। বিশেষ করে ২০১৪ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর নাম ওঠার বিষয়টি সামনে আনছে বিরোধীরা।

অন্যদিকে কংগ্রেসের দাবি, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করলেও পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এরপর রাজ্যে কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করে দলটি।

এবারের উপনির্বাচনে মমতার জোটের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে কংগ্রেস নিজেদের প্রার্থী নিয়েই লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোটযুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই আরও জমে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মমতার প্রস্তাবে কংগ্রেসের ‘না’; উপনির্বাচনে জোট হচ্ছে না

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন ঘিরে জোটের সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি কংগ্রেস। নন্দীগ্রাম আসন কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত জোটের সম্ভাবনা ভেস্তে গেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রের খবর, সোমবার সন্ধ্যায় এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে ঠেকাতে উপনির্বাচনে সমঝোতার প্রস্তাব দেন তিনি। নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী দেবে এবং রেজিনগরে তৃণমূল প্রার্থীকে সমর্থন করবে—এমন প্রস্তাবও দেন তৃণমূল নেত্রী।

এ ক্ষেত্রে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী প্রত্যাহারের কথাও জানিয়েছিলেন মমতা। তবে কংগ্রেস নেতৃত্ব সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানা গেছে।

কংগ্রেসের যুক্তি, অতীতে জোট ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া এবং তৃণমূলের শাসনামলে দলীয় কর্মীদের ওপর ‘অত্যাচারের’ অভিযোগের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, জোটের আগ্রহ থাকলে উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই আসনেই তৃণমূলের উচিত কংগ্রেসকে সমর্থন করা। এতে ভবিষ্যতে জোটের পথ খোলা থাকতে পারে।

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে দুই আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে কংগ্রেস ও তৃণমূল। পাশাপাশি ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলও আলাদা প্রার্থী দিয়েছে। ফলে দুই কেন্দ্রেই ত্রিমুখী লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নন্দীগ্রামে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের হয়ে নন্দীগ্রামে এহতাশামুল হক ও রেজিনগরে সফিউজ্জমান শেখ প্রার্থী হয়েছেন।

নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী বাছাই নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সঞ্চিতা প্রধান দে’র অতীত নিয়ে বিরোধী ও দলের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে বলে খবর। বিশেষ করে ২০১৪ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর নাম ওঠার বিষয়টি সামনে আনছে বিরোধীরা।

অন্যদিকে কংগ্রেসের দাবি, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করলেও পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এরপর রাজ্যে কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করে দলটি।

এবারের উপনির্বাচনে মমতার জোটের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে কংগ্রেস নিজেদের প্রার্থী নিয়েই লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোটযুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই আরও জমে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।