অপহরণের ২৭ দিন পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার, গ্রেপ্তার কনটেন্ট ক্রিয়েটর

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:১২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
টাঙ্গাইলের বাসাইলে আলোচিত অপহরণের ২৭ দিন পর এক স্কুলছাত্রীকে ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহরণের মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইমন মিয়া (২৩)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে ইমনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে দক্ষিণখান থানা পুলিশ কসাইবাড়ি এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার এবং ইমনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ইমন বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের কলিয়া মধ্যপাড়া এলাকার ইদ্রিস আলী মিয়ার ছেলে। মামলার অপর আসামি ইমনের বাবা ইদ্রিস আলী মিয়া, মা নাজমা বেগম ও বড় বোন ছাবিনা আক্তার পলাতক রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ছাত্রী বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে উত্ত্যক্তের অভিযোগ
মামলা ও পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে ওই ছাত্রীকে ইমন দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি ইমনের পরিবারকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
এরপর গত ৪ আগস্ট বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে বাসাইলের সাহাপাড়া ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ইমন তার বাবা, মা ও বোনের সহযোগিতায় ওই ছাত্রীকে একটি অজ্ঞাত গাড়িতে তুলে নিয়ে যান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি পুলিশকে জানায় পরিবার। পরে ১০ আগস্ট ইমনকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও একজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এরপর পুলিশ ও র্যাব ওই ছাত্রীকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে।
ঢাকায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার
অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে দক্ষিণখান থানা পুলিশ কসাইবাড়ি এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ২৭ দিন পর স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয় এবং গ্রেপ্তার করা হয় ইমন মিয়াকে।
মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইমন একটি কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য। বাসাইলের পর্যটন এলাকা বাসুলিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত এবং মারামারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া তিনি মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


















