ভাঙন রোধে ‘জাদুর ঘাস’, কেন এত আলোচনায় বিন্না?

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২১:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
নদীভাঙন, সড়ক ও বাঁধের ক্ষয় ঠেকাতে এবার পরিবেশবান্ধব এক প্রাকৃতিক সমাধানের দিকে নজর দিয়েছে সরকার। ‘বিন্না ঘাস’ বা ভেটিভার গ্রাস ব্যবহার করে অবকাঠামো সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর কার্যকারিতা যাচাই ও সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক ড. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বিন্না ঘাসের ব্যবহার ও কার্যকারিতা নিয়ে একটি সচিত্র উপস্থাপনা দেন। দীর্ঘদিন ধরে এ ঘাস নিয়ে গবেষণা করা এই গবেষকের মতে, এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে নদীভাঙন ও মাটিক্ষয় ঠেকাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
কেন বিন্না ঘাসকে বলা হচ্ছে ‘জাদুর ঘাস’?
বিন্না ঘাসের সবচেয়ে বড় শক্তি এর শিকড়ে। এর শিকড় দ্রুত মাটির গভীরে প্রবেশ করে মাটিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে। ফলে পানির স্রোত বা বৃষ্টির কারণে মাটি সহজে সরে যেতে পারে না।
গবেষণায় এই ঘাসের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে—
- শক্তিশালী শিকড়: মাত্র ছয়টি শিকড় একত্রে একটি সাধারণ ইস্পাতের রডের কাছাকাছি শক্তি ধারণ করতে পারে বলে গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।
- প্রতিকূল আবহাওয়ায় টিকে থাকার ক্ষমতা: তীব্র গরম, খরা কিংবা প্রচণ্ড ঠান্ডাতেও এটি বেঁচে থাকতে পারে।
- দীর্ঘসময় পানিতে টিকে থাকে: পানির নিচে দীর্ঘ সময় থাকলেও সহজে পচে যায় না।
- লবণাক্ততা সহনশীল: উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকাতেও এটি টিকে থাকতে পারে।
- মাটিক্ষয় রোধে কার্যকর: গভীর ও ঘন শিকড় মাটির স্তরকে শক্তভাবে ধরে রাখে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোন কোন সড়ক, নদীর বাঁধ বা অন্যান্য অবকাঠামোতে বিন্না ঘাস ব্যবহার করা যেতে পারে, তা পর্যালোচনা করবে কারিগরি কমিটি। পাশাপাশি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে একটি গাইডলাইনও তৈরি করা হবে।
শুধু নদীভাঙন নয়, গবেষকদের মতে, উপকূল সুরক্ষা, পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ, ভূমিক্ষয় রোধ এবং কম খরচে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণেও বিন্না ঘাসের ব্যবহার সম্ভাবনাময়।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদীভাঙন ও অবকাঠামোগত ক্ষতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সমস্যা। সেই বাস্তবতায় কম খরচে এবং প্রকৃতিনির্ভর এই পদ্ধতি কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।



















