গাজায় ‘ঐতিহাসিক’ শান্তি চুক্তি, ধাপে ধাপে সেনা সরাবে ইসরায়েল!

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
হামাসের অস্ত্র ত্যাগ, আন্তর্জাতিক শান্তিবাহিনী মোতায়েন ও নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসনের রূপরেখা; তবে চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় ‘স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, মিশরের মধ্যস্থতায় হওয়া এ সমঝোতায় হামাস ও ইসরায়েল নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
বৃহস্পতিবার (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, চুক্তি অনুযায়ী হামাসসহ গাজায় সক্রিয় অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী ধাপে ধাপে অস্ত্র ত্যাগ করবে। একই সময়ে গাজা উপত্যকা থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার করবে ইসরায়েল। অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে গাজায় কোনো ইসরায়েলি সেনা থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পর আন্তর্জাতিক শান্তিবাহিনী (ইন্টারন্যাশনাল স্টেবিলাইজেশন ফোর্স) ফিলিস্তিনি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে গাজার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি নতুন একটি ফিলিস্তিনি সরকার গাজা পরিচালনা করবে, যা তার প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে।
এদিকে হামাসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, অস্ত্র সমর্পণ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহার—দুই বিষয়েই একটি সমঝোতা হয়েছে।
তবে রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা বলেছেন, হামাসের সব ধরনের অস্ত্র জব্দ এবং গাজার পূর্ণ বেসামরিকীকরণ নিশ্চিত না হলে চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর হবে না। ফলে বিষয়টি নিয়ে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
নিজের পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘ইসরায়েলের যে নিরাপত্তা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করা হবে। গাজা আর কখনো সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটি হবে না।’
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরেও হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারও ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গাজার পুনর্গঠন ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ৪৭টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। ভারতও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে এতে যোগ দেয়।
ট্রাম্পের ভাষ্য, গাজায় এ উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল নিয়েও ‘বোর্ড অব পিস’ কাজ করবে।























