ঢাবির ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনের দায়িত্ব প্রত্যাহার

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি চার শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। গত ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ও বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের একাধিক অভিযোগ এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক আফরোজা শেলীকেও সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি কর্মকাণ্ড, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারবিরোধী অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতি সমর্থন এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল মুহিতকে বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকেও বিরত রাখা হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার)-কেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় অনিয়ম এবং এমফিল ও পিএইচডি গবেষণাপত্রে সাদৃশ্যজনিত চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ওঠায় তাকেও একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম মাহবুব মুস্তাফাকে অফিস শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সিন্ডিকেট সভায় আরও দুটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা পর্যালোচনার জন্য প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিনরা এই কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ প্রকল্পের আওতায় গবেষণা কার্যক্রম ও প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারের বিষয় খতিয়ে দেখতে প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর নেতৃত্বে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সিন্ডিকেট সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক ভবনের পাশে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




















