বঙ্গভবন ছাড়ছেন মো. সাহাবুদ্দিন, ফিরছেন গুলশানের পুরোনো ঠিকানায়

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৩৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানো মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবনে উঠছেন। দীর্ঘদিনের আবাস ‘গ্রিন ভিলা’ ভবনের ফ্ল্যাটে তাঁর ফেরাকে ঘিরে ইতোমধ্যে সংস্কার ও প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, গুলশান-১ এর ১২৩ নম্বর সড়কের ৪১ নম্বর গ্রিন ভিলা ভবনের ৫০২ নম্বর ফ্ল্যাটে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি। একই ভবনের ৫০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকেন তাঁর ছেলে আরশাদ আদনান, পুত্রবধূ ও দুই নাতনি। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই ভবনেই বসবাস করেছেন তিনি।
বাসভবনে ফেরার প্রস্তুতি হিসেবে ফ্ল্যাটের অভ্যন্তরীণ সংস্কার, নতুন ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন এবং টেলিফোন সংযোগ স্থাপনের কাজ চলছে। পাশাপাশি গাড়ি পার্কিং এলাকাও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।
ভবনের প্রধান নিরাপত্তাকর্মী মো. মোস্তফা কামাল জানান, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার বঙ্গভবন থেকে লোকজন এসে ফ্ল্যাটের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করেছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরও মো. সাহাবুদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী দুই-তিন মাস পরপর বাসাটি দেখতে আসতেন। বাসায় এলে ভবনের কর্মচারীদের খোঁজখবর নিতেন এবং নিয়মিত সবার সঙ্গে আন্তরিক আচরণ করতেন।
তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হতেন এবং নিয়মিত ১১টি দৈনিক পত্রিকা পড়তেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ভবনের কর্মীদের সঙ্গে কোলাকুলিও করতেন। তাঁর ফিরে আসার খবরে ভবনের কর্মচারীদের মধ্যেও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা তাঁর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। এ বিষয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএমপির ডিসি (প্রটেকশন) মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘রেডবুক’ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গুলশানের ওই বাসভবনে বিশেষ শাখার (এসবি) সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পদত্যাগের পরও বাসভবনটি পুলিশি নিরাপত্তার আওতায় থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।




















