আরশোলাদের আড়ালে বিদেশি ‘নীল নকশা’

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্দোলনস্থলে একাধিক নিহাং শিখ স্বেচ্ছাসেবকের উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আন্দোলনের গতিপথ ও এর পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
আন্দোলন শুরু হয়েছিল শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট দাবিকে কেন্দ্র করে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা বাড়ছে বলে দাবি করছেন অনেকে। এর ফলে আন্দোলনের মূল ইস্যু থেকে ফোকাস সরে যাচ্ছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি নেপাল, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া বিভিন্ন আন্দোলনের উদাহরণ টেনে কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, বড় ধরনের গণআন্দোলন কখনো কখনো ভিন্ন স্বার্থের মানুষের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
নিহাং শিখদের উপস্থিতি নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। নিহাংরা শিখ সম্প্রদায়ের একটি ঐতিহ্যবাহী যোদ্ধা গোষ্ঠী। অতীতে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনায় কিছু নিহাং গোষ্ঠীর নাম চরমপন্থী বা খালিস্তানপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এ কারণেই বড় কোনো বিক্ষোভে তাদের উপস্থিতি ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়।
তবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের উপস্থিতি বা সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে কোনো সংগঠিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণিত নয় বলে মনে করছেন অনেকে। আন্দোলনের প্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ গতিপথ সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।
এদিকে, চলমান আন্দোলনে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণ নিয়েও নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্য ও নেতারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তিস জানুয়ারি মার্গের গান্ধী স্মৃতিতে জড়ো হচ্ছেন।
পরে বিরোধী নেতারা সেখান থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে এগিয়ে যান বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন ক্রমেই বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে প্রবেশ করছে। এতে একদিকে যেমন সমর্থন বাড়ছে, তেমনি আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা প্রশ্ন।
কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস, বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেললে রেহাই মিলবে না। নিট প্রশ্ন ফাঁসে আরও কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, শুক্রবারই (২৪ জুলাই) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়ে ঘোষণা করা হবে।
এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি জানি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি কোনও সাধারণ বা তুচ্ছ বিষয় নয়। এটি লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও কষ্টদায়ক। তাই, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর গত আড়াই মাসে বেশ কিছু আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা এখন কারাগারে রয়েছে।”
সেই সঙ্গেই এদিনের ভিডিও বার্তায় মোদি উল্লেখ করেন, ”শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ যাতে নষ্ট না হয় সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আর তাই অবিলম্বে পরীক্ষা আয়োজন করা ছিল খুবই জরুরি ব্যাপার।” স্বল্পতম সময়ের মধ্যে প্রায় ২২ লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে, একথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯ তারিখে ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে। সারা দেশ থেকে সফল শিক্ষার্থীদের আনন্দের খবর ভেসে এলেও কেন্দ্র যে এতেই সন্তুষ্ট থাকতে চায় না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মোদি।
























