ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ হবে বৈশ্বিক উৎপাদন হাব: প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি নির্ধারণে প্রয়োজন যথাযথ কর্তৃপক্ষ: তথ্যমন্ত্রী এমপি গাজী নজরুলের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও ইসিকে চিঠি জামায়াতের ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ ভারতের যশোরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, ঘাতক আটক যশোরে র‍্যাব-৬ মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে টাউন হল মিটিং পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর (তালিকাসহ) ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৬ হাজার ১৬৫ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা, নতুন সমীকরণের আভাস বাবার দাফন শেষে রাতে চাকরি, সকালে পরীক্ষার হলে—হার না মানা ইসমাইলের গল্প

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা, নতুন সমীকরণের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২৫:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে তাকে মৌখিকভাবে পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়। এরপর কিছু সময় চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

বঙ্গভবনের কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাতে পারেন। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনের থাকা না থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে সংবিধান রক্ষার স্বার্থে তার কাছেই শপথ নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে তারাও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকেই শপথ নেয়। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি উঠলেও বিএনপি তখন সেই দাবিতে সমর্থন দেয়নি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগের ইচ্ছা

রাষ্ট্রপতির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মো. সাহাবুদ্দিন বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার নিউরোলজিক্যাল জটিলতা ধরা পড়েছে। চিকিৎসার জন্য স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সিঙ্গাপুর যেতে চান তিনি।

লন্ডন সফর নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের ৯ মে রাষ্ট্রপতি লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। ওই সফরে তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন—এমন তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পৌঁছানোর পর সরকার তার পদত্যাগের বিষয়ে উদ্যোগ নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে বা পদত্যাগ করতে চাইলে সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা, নতুন সমীকরণের আভাস

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২৫:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে তাকে মৌখিকভাবে পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়। এরপর কিছু সময় চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

বঙ্গভবনের কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাতে পারেন। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনের থাকা না থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে সংবিধান রক্ষার স্বার্থে তার কাছেই শপথ নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে তারাও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকেই শপথ নেয়। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি উঠলেও বিএনপি তখন সেই দাবিতে সমর্থন দেয়নি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগের ইচ্ছা

রাষ্ট্রপতির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মো. সাহাবুদ্দিন বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার নিউরোলজিক্যাল জটিলতা ধরা পড়েছে। চিকিৎসার জন্য স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সিঙ্গাপুর যেতে চান তিনি।

লন্ডন সফর নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের ৯ মে রাষ্ট্রপতি লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। ওই সফরে তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন—এমন তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পৌঁছানোর পর সরকার তার পদত্যাগের বিষয়ে উদ্যোগ নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে বা পদত্যাগ করতে চাইলে সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।