বাংলাদেশ হবে বৈশ্বিক উৎপাদন হাব: প্রধানমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
দেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এফডিআই সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “আমাদের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।” এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, নীতিগত সংস্কার এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে একটি বৃহৎ উৎপাদন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার কাজ করছে। তৈরি পোশাক শিল্পে বৈচিত্র্য আনা, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “নতুন ও দূরদর্শী সরকার চায়—বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসুন, নতুন উদ্যোগ নিন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুন। দেশীয় উদ্যোক্তা কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী—যে কেউ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ও সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে পাশে থাকবে।”
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা, আধুনিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজ কর ব্যবস্থা, মুনাফা প্রত্যাহারের নির্বিঘ্ন প্রক্রিয়া, শক্তিশালী পুঁজিবাজার ও উন্নত অবকাঠামো। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর ও ভ্যাট প্রশাসন সহজীকরণ এবং সরকারি সেবা ডিজিটালাইজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্টার্টআপ খাতকে উৎসাহিত করা, অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং বন্দর, লজিস্টিকস অবকাঠামো ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্ভাবনা অনেক বেশি। দেশের বড় অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং নির্বাচিত সরকারের জনসমর্থন—এসব শক্তি অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি করছে।
বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা শুধু বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি না, বরং এই রূপকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী সংগঠন, অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মতামত নিয়েছে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি নিজেও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন—ব্যবসার সফলতার জন্য শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতা নয়, সরকারের সহায়ক নীতিমালাও গুরুত্বপূর্ণ।
সম্মেলনে দেশি-বিদেশি প্রায় ৬০০ প্রতিনিধি অংশ নেন। এতে সরকারি কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে এফআইসিসিআইয়ের সভাপতি ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুপালী হক চৌধুরী সূচনা বক্তব্য দেন। পরে ‘ফিকি এফডিআই’ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগকারীদের এক্সপো পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।




















