ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিজিআরকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

নিরাপত্তার নামে সরকারপ্রধান যেন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না হন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে, যাতে সরকারপ্রধান জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়েন—প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যদের প্রতি এমন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার ওপরই তিনি নির্ভর করতে চান। তাই নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়নের সময় এমন ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে, যাতে জনগণ নিজেদের সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত পিজিআর একটি বিশেষায়িত ইউনিট। ফলে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও দায়িত্ববোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। সদস্যদের কর্মকাণ্ডেই বাহিনীর দক্ষতা ও নিষ্ঠার প্রতিফলন ঘটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বও পালন করতে হয় পিজিআরকে। এ কারণে নানা ধরনের জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় বাহিনীর সদস্যদের। তাদের বিশ্বস্ততা, কর্তব্যপরায়ণতা ও শৃঙ্খলাই পিজিআরকে একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ সম্মাননার জন্য পিজিআর মনোনীত হওয়ায় সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাহিনীর জন্য গৌরবের বিষয় এবং তাদের দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। এজন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।

তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর ও স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর মতো বিশেষায়িত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠিত ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) নামে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পিজিআর সদস্যদেরও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন এবং সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এছাড়া শহীদ পিজিআর সদস্যদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও তাদের খোঁজখবর নেন।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই বিশেষায়িত ইউনিট রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা, প্রটোকল ও বিভিন্ন সামরিক দায়িত্ব পালন করে থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পিজিআরকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

নিরাপত্তার নামে সরকারপ্রধান যেন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না হন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে, যাতে সরকারপ্রধান জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়েন—প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যদের প্রতি এমন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার ওপরই তিনি নির্ভর করতে চান। তাই নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়নের সময় এমন ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে, যাতে জনগণ নিজেদের সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত পিজিআর একটি বিশেষায়িত ইউনিট। ফলে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও দায়িত্ববোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। সদস্যদের কর্মকাণ্ডেই বাহিনীর দক্ষতা ও নিষ্ঠার প্রতিফলন ঘটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বও পালন করতে হয় পিজিআরকে। এ কারণে নানা ধরনের জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় বাহিনীর সদস্যদের। তাদের বিশ্বস্ততা, কর্তব্যপরায়ণতা ও শৃঙ্খলাই পিজিআরকে একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ সম্মাননার জন্য পিজিআর মনোনীত হওয়ায় সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাহিনীর জন্য গৌরবের বিষয় এবং তাদের দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। এজন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।

তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর ও স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর মতো বিশেষায়িত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠিত ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) নামে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পিজিআর সদস্যদেরও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন এবং সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এছাড়া শহীদ পিজিআর সদস্যদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও তাদের খোঁজখবর নেন।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই বিশেষায়িত ইউনিট রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা, প্রটোকল ও বিভিন্ন সামরিক দায়িত্ব পালন করে থাকে।