ডিটারজেন্টের মোড়কে চিপস বিক্রি, খেয়ে অসুস্থ ১২ শিক্ষার্থী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:২৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
রামপালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষার্থী ও একজন অভিভাবক মা চিপস খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার খবর পেয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযুক্ত দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা ১২ টায় বড়দূর্গাপুর গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মিজ তামান্না ফেরদৌসি। তিনি দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ চিপস ও ডিটারজেন্টের মোড়কে চিপস বিক্রির প্রমাণ পান। এ সময় এলাকাবাসীর দাবীর মুখে তাৎক্ষণিকভাবে দোকানটি বন্ধ করে দেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২৯ জুন) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার সময় উপজেলার বড় দূর্গাপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি দোকান থেকে অনুমোদনহীন চিপস ক্রয় করে খাওয়ার পর তাদের মধ্যে খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, চিপসটি ডিটারজেন্টের প্যাকেটসদৃশ্য মোড়কে বিক্রি করা হচ্ছিল। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেটে ব্যথা, বমি ও শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিলে তাদের অভিভাবক এবং বিএনপির নেতা মোঃ শাহীনুর রহমান পলাশ ও রাজনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শামীম হাসান তিতাসের সহযোগিতায় দ্রুত রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রস্থ মৈত্রী হাসপাতালে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়।
অসুস্থ ওই শিক্ষার্থীরা হলো প্রাপ্তি অধিকারী (১০) তুফান শেখ (১৩) রাজদীপ (১০) আখিরা (১১) লামিয়া (১১) জান্নাতুল (১০) আরহী মন্ডল (৫) রাহুল মন্ডল (৮) সৃস্টি বিশ্বাস (১০) দিপিকা হালদার (অভিভাবক) (২৮) ফাতেমা আক্তার (৮) আমবিকা (৬) প্রোভাতী (১০) বছর। এদের ভিতর জান্নাতুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ার তাকে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রামপাল থানার বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান তুহিন মৈত্রী হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন ওই শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন। পরে তাদের অভিভাবকদের সাথে কথাও বলেন তিনি।
মৈত্রী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সাকিব রেজোয়ান জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ১৩ জনের মধ্যে ১২ জনকে মৈত্রী হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ এক শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৈত্রী হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করা হয়েছে। সেখানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্যান্য শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তারা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।
ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বন,পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম মৈত্রী হাসপাতালের চিকিৎসকের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

















