ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে নিহত একই পরিবারের ৪ জনের বাড়িতে শোকের মাতম
প্রবাসী ছেলের ফেরা হলো না ঘরে, যাওয়া হলো না পাত্রী দেখতে
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ৩১৯ বার পড়া হয়েছে
যে বাড়িতে ১১ বছর পর প্রবাস থেকে ফেরা ছেলেকে নিয়ে বিয়ের ধুমধাম আয়োজন হওয়ার কথা ছিল, নতুন পুত্রবধূ ঘরে তোলার আনন্দ থাকার কথা ছিল—সেখানে এখন শোকের মাতম। কিন্তু সেই আনন্দ রূপ নিলো বিষাদে। ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চালক এবং মা ও প্রবাসী ছেলেসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ভোরে মালিগ্রাম এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ওইয়চারজনের মৃত্যুতে শোকের মাতম চলছে তাদের গ্রাম জুড়ে।
ঢাকা-ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রামে ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়া এই প্রাইভেটকারটি এখন এক বুক স্বপ্নের সমাধি। আজ ভোরে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে সজোরে ধাক্কা দেয়ায় মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে যায় প্রাইভেটকারটি। এতেই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান চালক ও যশোর ঝিকরগাছার বালিয়াডাঙ্গা গ্ৰামের এক পরিবারের মাসহ ৪জন। আহত হয় আরো দুই শিশু।
নিহতরা হলেন— মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফ ইসলাম, তার মা নুরজাহান বেগম, ভাই রাকিব, আত্মীয় আয়শা বেগম এবং গাড়িচালক জাহিদ। এ ঘটনায় আশরাফুল ও তাছফিয়া নামের দুটি শিশু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে লড়ছে মৃত্যুর সাথে।
নিহত আরিফের মামা নজরুল ইসলাম বলেন, আরিফ ১১ বছর বিদেশ ছিল। সোমবার দিবাগত রাতে বিমান বন্দরে নেমেছিল। সন্তানকে আনতে গিয়েছিল মা নূরজাহান বেগম ও তার দুই সন্তান, নাতিনাতনি । ফেরার পথে একই পরিবারের চারজন মারা গেছে। বাবা ছাড়া পরিবারে কেউ নেই।
প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ১৮ বছর বয়সে বিদেশ গিয়েছিল আরিফুল ইসলাম। অভাবের সংসার ছিল। এখন তাদের সুখের সংসার। যখন সুখ ভোগ করবে তখন পরিবারের চারজন চলে গেল।
ভূমিহীন পরিবারের সন্তান আরিফ ১১ বছর আগে সংসারের হাল ধরতে পাড়ি জমিয়েছিলেন দূর প্রবাসে। মালয়েশিয়ায় ঘাম ঝরানো উপার্জনে ৫ শতক জমি কিনে মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছিলেন। দীর্ঘ এক দশক পর, গতকাল সোমবার রাতে ছুটিতে দেশে ফেরেন আরিফ। বাড়ি ফিরেই আগামীকাল বুধবার বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে যাওয়ারও কথা ছিল। একবুক আশা ও আনন্দ নিয়ে প্রিয় সন্তান আর ভাইকে স্বাগত জানাতে ঢাকা বিমানবন্দরে ছুটে গিয়েছিলেন মা নুরজাহানসহ পুরো পরিবার। কিন্তু দুর্ঘটনার কারণে বাড়ি ফেরা আর হলো না। এখন সেই বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ১৮ বছর বয়সে বিদেশ গিয়েছিল আরিফুল ইসলাম। অভাবের সংসার ছিল। এখন তাদের সুখের সংসার। যখন সুখ ভোগ করবে তখন পরিবারের চারজন চলে গেল।
মামাতো ভাই মিন্টু রহমান বলেন, এই পরিবারটি খুবই দরিদ্র ছিল। ভূমিহীন ছিল। সংসারের সুখ ফেরাতে বিদেশ গিয়েছিল। বাড়ির জন্য জমি কিনেছিল, বাড়ি করেছে। সংসারে সুখ ফিরেছে। কিন্তু সেই সুখ আর হলো না। বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।
ভূমিহীন পরিবারের সন্তান আরিফ ১১ বছর আগে সংসারের হাল ধরতে পাড়ি জমিয়েছিলেন দূর প্রবাসে। মালয়েশিয়ায় ঘাম ঝরানো উপার্জনে ৫ শতক জমি কিনে মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছিলেন। দীর্ঘ এক দশক পর, গতকাল সোমবার রাতে ছুটিতে দেশে ফেরেন আরিফ। বাড়ি ফিরেই আগামীকাল বুধবার বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে যাওয়ারও কথা ছিল। একবুক আশা ও আনন্দ নিয়ে প্রিয় সন্তান আর ভাইকে স্বাগত জানাতে ঢাকা বিমানবন্দরে ছুটে গিয়েছিলেন মা নুরজাহানসহ পুরো পরিবার। কিন্তু দুর্ঘটনার কারণে বাড়ি ফেরা আর হলো না। এখন সেই বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
আব্দুল কাদের নামে এক মামা বলেন, আরিফের দেশে ফিরে বিয়ের কথা ছিলো। মেয়ে দেখা রয়েছে। আগামীকাল যাওয়ার কথাও ছিলো। যে পরিবারের আনন্দ উৎসব হবে সেখানে আমাদের চোখের জলে ভাসছে।
ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, পরিবারের ৫ সদস্যের মধ্যে শুধু বাড়িতে থাকার কারণে বেঁচে গেছেন হতভাগা পিতা শহিদুল ইসলাম। তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তার পুরো পৃথিবীটাই এখন শূন্য।
এদিকে স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোসলেম উদ্দিন জানান, এই পরিবারটি ভূমিহীন ছিলো। ৫শতক জমি কিনে বাড়ি করেছে। তাদের সুখের দিনে বিষাদে পরিণত হয়েছে। আমরা শোকাহত।
তিনি আরো বলেন, তাদের বাড়ি ছাড়া কোন জমি নেই। ফলে আমার পারিবারিক কবরস্থানেই তাদের দাফন করা হবে।
এ ব্যাপারে শিবচর হাইওয়ে থানার এসআই নুর আলম জানান, মালিগ্ৰাম বাসস্ট্যান্ডে গ্যাস ভর্তি দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে যশোরগামী একটি প্রাইভেটকার ঢুকে যায়। নিহতদের লাশ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নেয়া হয়। ময়নাতদন্ত শেষে তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।



















