ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা, পরে দেহ ৮ টুকরো করে ফেলা হয়
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১১:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
মুগদার মান্ডা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টে যখন পলিথিনে মোড়ানো খণ্ডিত মরদেহটি পাওয়া যায়, তখন চারপাশে নেমে আসে নিস্তব্ধ আতঙ্ক। ৭–৮ টুকরো করা দেহ, মাথা অনুপস্থিত—প্রথম মুহূর্তে কেউই বুঝে উঠতে পারেনি, এটি কেবল একটি অপরাধের দৃশ্য নয়, এটি ছিল কারও শেষ ঠিকানা।
পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, নিহত ব্যক্তি সৌদি প্রবাসী মুকাররম। প্রবাস থেকে দেশে ফেরা বা পরিবারকে ঘিরে নতুন কোনো জীবনের স্বপ্ন—সবই এক মুহূর্তে থেমে গেছে নির্মম এক পরিণতিতে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সম্পর্কের জটিলতা আর অর্থনৈতিক লেনদেনের দ্বন্দ্বই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কাজ করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ লাখ টাকার লেনদেন নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়, আর সেই বিরোধই শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় ভয়াবহ সহিংসতায়। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় তাকে। পরে লাশ টুকরো টুকরো করে ফেলে দেওয়া হয় ময়লার ভেতরে—যেন পরিচয়ও হারিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা শুধু একটি হত্যার আলামত নয়, দেখতে পেয়েছেন একটি ভাঙা জীবনের ছাপও। একজন মানুষ, যিনি প্রবাসে কষ্ট করে আয় করেছেন, হয়তো পরিবারকে ঘিরে স্বপ্ন দেখেছেন—তার শেষ পরিণতি এভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকবে, তা কেউ কল্পনাও করেনি।
মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, মরদেহের অবস্থা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে শুরুতে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজ, আঙুলের ছাপ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় ধীরে ধীরে উঠে আসে পুরো সত্য।
এখনও তদন্ত চলছে। কারা জড়িত, কীভাবে পুরো পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল—সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তবে এলাকাবাসীর জন্য এই ঘটনা রেখে গেছে এক গভীর শূন্যতা আর অস্বস্তি।
কারও জীবন যখন এভাবে নিঃশেষ হয়ে যায়, তখন কেবল একটি অপরাধ নয়—একটি পরিবারের নীরব ভাঙনও রেখে যায় পেছনে।




















