দিনে ৫ ঘণ্টা কাটে ডিজিটাল স্ক্রিনে
মানসিক ঝুঁকিতে শিশুরা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
প্রযুক্তিনির্ভর জীবন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি, পারিবারিক দূরত্ব ও পড়াশোনার চাপ—সব মিলিয়ে দিন দিন মানসিক ঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা। উদ্বেগ, হতাশা, একাকীত্ব ও আচরণগত সমস্যার মতো বিষয় এখন শিশুদের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষ করে মোবাইল ফোন, ট্যাব, টিভি ও কম্পিউটারের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেক শিশু পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে ভার্চুয়াল জগতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এর ফলে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, অস্থিরতা, রাগ ও বিষণ্নতার প্রবণতা বাড়ছে।
আইসিডিডিআর,বির সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার শিশুরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় ডিজিটাল স্ক্রিনে কাটায়। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকার ছয়টি স্কুলের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ জন শিশুর ওপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। সম্প্রতি গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চ (জেএমআইআর) হিউম্যান ফ্যাক্টরস-এ।
গবেষণায় উঠে এসেছে, অংশগ্রহণকারী শিশুদের ৮৩ শতাংশই আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি সময় বিনোদনের জন্য স্ক্রিন ব্যবহার করছে। এর প্রভাব হিসেবে প্রতি তিনজন শিশুর মধ্যে একজন চোখের সমস্যায় ভুগছে এবং প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু নিয়মিত মাথাব্যথার কথা জানিয়েছে।
এ ছাড়া প্রয়োজনীয় সময়ের তুলনায় শিশুদের ঘুম কম হচ্ছে ১ থেকে ৩ ঘণ্টা। প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে দুইজন এক বা একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষকরা শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, শারীরিক পরীক্ষা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রশ্নপত্র ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করেন। সেখানে দেখা যায়, রাতে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার ঘুমের স্বাভাবিক চক্রকে ব্যাহত করছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণে কমে যাচ্ছে খেলাধুলা ও শারীরিক পরিশ্রম, বাড়ছে স্থূলতার ঝুঁকি।
গবেষণার প্রধান গবেষক ও আইসিডিডিআর,বির অ্যাসিসট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ডা. শাহরিয়া হাফিজ কাকন বলেন, “দেরিতে ঘুমানো, বারবার মাথাব্যথা, চোখের অস্বস্তি, খিটখিটে মেজাজ, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া কিংবা বাইরের খেলাধুলায় অনীহা—এসব লক্ষণকে অভিভাবকদের গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত।”
আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ বলেন, ডিজিটাল ডিভাইস এখন জীবনের অংশ হলেও শিশুদের সুস্থ বিকাশের জন্য এর ব্যবহার সীমিত রাখা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, স্কুলগামী শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন টাইম দিনে দুই ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।
গবেষকদের মতে, প্রযুক্তি পুরোপুরি বন্ধ করা সমাধান নয়। বরং শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তুলতে পরিবার, স্কুল ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

























