ধর্মপাশায় দলিল লেখক থেকে কোটিপতি বিএনপি নেতা ভুট্টো
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:০২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ ২৪৩ বার পড়া হয়েছে
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টো পেশায় তিনি একজন দলিল লেখক। উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারে অবস্থিত সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনের সড়কের পাশের একটি মার্কেটে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে সেখানে বসেই তিনি দীর্ঘদিন যাবত দলিল লেখকের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুথানে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর রাতারাতি ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় ওই বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর।
দলীয় পদ-পদবির জোরে টিআর-কাবিটা ও পিআইসি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অফিস অদালতে দালালী ও তদবির বাণিজ্য করে অল্প সময়ের মধ্যেই জিরো থেকে কোটি টাকার মালিক হয়ে যান তিনি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের টিআর কর্মসূচির আওতায় মাটিকাটা জেলা সড়ক হইতে আনজুল হকের বাড়ি সামন পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজ না করেই কাগজে-কলমে তা সম্পন্ন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো।
এলাকাবাসী অভিযোগ, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের গত জুনে ওই প্রকল্পের পুরো টাকাই উত্তোলন করেছেন। রাস্তায় কোন কাজ না করে বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো সাকল্য টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ওই প্রকল্পের সভাপতি দেখানো হয়েছে ইউপি সদস্য আবু চাঁন মিয়াকে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে টি,আর ওই প্রকল্পের আওতায় রাস্তায় কোনো মাটি কাটা হয়নি।
স্থানীয় আরোও বাসিন্দারা জানান, আগে যেরকম ছিল, এখনও সেরকমই রয়েছে। কোনো কাজ হয়নি। কাজ না করেই সাকল্য টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টো বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে স্থানীয় আওয়ামী এমপি ও আওয়ামী নেতা-কর্মীদের সাথে আঁতাত করে বাদশাগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক হিসেবে কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টো নিজের দলীয় পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করেন। বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো জুলাই-আগস্টের পর থেকে প্রশাসনের সাথে দালালি, থানায় গ্রেফতার বাণিজ্য এবং টিআর-কাবিটা ও পিআইসি প্রকল্পের টাকা আত্মসাত ও মামলা বাণিজ্য এবং নাম খারিজের দালালী তদবিরের মধ্য দিয়ে অল্প দিনেই তিনি লক্ষ- লক্ষ টাকার মালিক হয়ে যান। এ ছাড়া বিএনপি নেতা ভুট্টো কমিটি বাণিজ্যের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক অডিও-ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছাড়াও বর্তমানে তাঁর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বহাল তবিয়তে থাকা স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। বিএনপি নেতা ভুট্টো ও তার ভাইদের অত্যাচারের এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ট ও চরম নিরাত্তাহীনতায় ভোগছেন এবং বিএনপি নেতা ভুট্টো আওয়ামী নেতাদেরকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করতে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা জানান, বিএনপির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো জুলাই-আগস্টের পর থেকে প্রশাসনের সাথে দালালি, থানায় গ্রেফতার বাণিজ্য এবং টিআর-কাবিটা ও পিআইসি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ও মামলা বাণিজ্য এবং নাম খারিজের দালালী তদবির করে অল্প দিনেই তিনি লক্ষ- লক্ষ টাকার মালিক হয়ে যান। তাঁর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বহাল তবিয়তে থাকা স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। জুলফিকার আলী ভুট্টো উপজেলা বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় তার এ ধরনের অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পায়না। এতে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মাটিকাটা গ্রামের বাসিন্দা আনজুল হক মিয়া বলেন, “ আমার বাড়ির রাস্তায় যে প্রকল্প আছে তা আমরা জানি না। কোন কাজ হয়নি । এখন শুনি টাকাই তুলে নিয়েছে!”
মাটিকাটা গ্রামের বাসিন্দা মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “আমরা এমনিতেই অবহেলিত। তার ওপর যে কাজ হওয়ার কথা, সেটাও না করে টাকা আত্মসাৎ হলে আমাদের অবস্থা কী হবে?” স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অর্থ আত্মসাৎ করার সাহস না পায়।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আবু চাঁন মিয়া বলেন, আমাকে চাপ দিয়ে ওই প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে। আমি এর থেকে বশি কিছু বলতে পারবো না।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তিনি বলেন, কেউ আমাকে হ্যায়-প্রতিপন্ন করার জন্য এরকম অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত) অ্যডভোকেট আব্দুল হক বলেন, বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর বিরুদ্ধে আমরা একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের কাছে উপস্থাপন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্মপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, খোঁজ নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
























