বাপাউবো মহাপরিচালক এনায়েতের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ (পর্ব-১)
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ ১০৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পে টেন্ডার বাণিজ্য, জরুরি প্রকল্পকে নতুন প্রকল্পে রূপান্তর, বদলি বাণিজ্য, প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং প্রকল্প নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণসহ নানা অনিয়মের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলারও অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, তার নামে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শেখেরটেক পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটিতে একটি তিনতলা বাড়ি, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও পূর্বাচলে জমি, সাভারে জমি এবং পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় জমির উল্লেখ রয়েছে। এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের নামে সম্পত্তি ক্রয় এবং মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
সূত্রের বরাতে অভিযোগে বলা হয়, পূর্ববর্তী রাজনৈতিক প্রশাসনের সময় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। সেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রশাসনিক পরিবর্তনের পরও তার প্রভাব কমেনি। বরং প্রশাসনের কিছু প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় এখনো তিনি বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রকল্পে কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটছে।
এদিকে অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এ বিষয়ে আবেদন করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে দুদকের কিছু অসৎ কর্মকর্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, এই অভিযোগের কারণে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন অগ্রাধিকার প্রকল্প অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
অভিযোগকারীরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে একটি নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহর বক্তব্য নিতে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার সাড়া মেলেনি। এমনকি তার হোয়াটসঅপ নাম্বারে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোন মন্তব্য করেননি।

























