ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংক খাতে নতুন বিতর্ক! রেমিট্যান্সে ভ্যাট ফাঁকি প্রাইম ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ওপর সরাসরি কোনো কর না থাকলেও ব্যবস্থাপনা খাতে নির্দিষ্ট হারে উৎসে ভ্যাট দিতে হয়। এ নিয়ম লঙ্ঘন করে বেসরকারি প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড গত পাঁচ বছরে ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮ হাজার টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে—এমন প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ব্যাংকটি বকেয়া ভ্যাট পরিশোধের কথা জানিয়েছে। তবে ফাঁকির কারণে এখন তাদের বড় অঙ্কের সুদ ও জরিমানা গুনতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) সূত্রে জানা গেছে, শুধু রেমিট্যান্স নয়—ব্যাংকটির নিজস্ব কেনাকাটা ও বিভিন্ন ব্যয়ের ক্ষেত্রেও ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে।

সূত্রমতে, বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রাইম ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে সিআইসি। তদন্ত শেষে বিপুল ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পেয়ে গত ২৮ আগস্ট এলটিইউতে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। এর ভিত্তিতে ব্যাংকটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়।

এনবিআরের তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত দুই ধাপে এ ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ১ কোটি ৭৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা এবং ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত ২ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার টাকা অপরিশোধিত ছিল।

গত ১৬ নভেম্বর শুনানিতে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, মোট বকেয়া টাকার একটি অংশ ২০২৩ সালের মার্চ মাসের ভ্যাট রিটার্নে দেখানো হয়েছে এবং বাকি ২ কোটি ৪০ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, বকেয়া পরিশোধের মাধ্যমে ব্যাংকটি পরোক্ষভাবে ফাঁকির বিষয়টি স্বীকার করেছে। ভ্যাট আইন অনুযায়ী, ফাঁকি দেওয়া অর্থের ওপর এখন সুদ ও জরিমানা আরোপ করা হবে এবং এ বিষয়ে শিগগিরই নোটিশ জারি করবে এলটিইউ।

অন্যদিকে, মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের নিরীক্ষায় ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে কেনাকাটা ও ব্যয়ের বিপরীতে আরও ২০ লাখ ৭০ হাজার টাকা ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়েও ব্যাংকটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ব্যাংক খাতে নতুন বিতর্ক! রেমিট্যান্সে ভ্যাট ফাঁকি প্রাইম ব্যাংকের

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ওপর সরাসরি কোনো কর না থাকলেও ব্যবস্থাপনা খাতে নির্দিষ্ট হারে উৎসে ভ্যাট দিতে হয়। এ নিয়ম লঙ্ঘন করে বেসরকারি প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড গত পাঁচ বছরে ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮ হাজার টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে—এমন প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ব্যাংকটি বকেয়া ভ্যাট পরিশোধের কথা জানিয়েছে। তবে ফাঁকির কারণে এখন তাদের বড় অঙ্কের সুদ ও জরিমানা গুনতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) সূত্রে জানা গেছে, শুধু রেমিট্যান্স নয়—ব্যাংকটির নিজস্ব কেনাকাটা ও বিভিন্ন ব্যয়ের ক্ষেত্রেও ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে।

সূত্রমতে, বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রাইম ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে সিআইসি। তদন্ত শেষে বিপুল ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পেয়ে গত ২৮ আগস্ট এলটিইউতে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। এর ভিত্তিতে ব্যাংকটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়।

এনবিআরের তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত দুই ধাপে এ ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ১ কোটি ৭৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা এবং ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত ২ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার টাকা অপরিশোধিত ছিল।

গত ১৬ নভেম্বর শুনানিতে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, মোট বকেয়া টাকার একটি অংশ ২০২৩ সালের মার্চ মাসের ভ্যাট রিটার্নে দেখানো হয়েছে এবং বাকি ২ কোটি ৪০ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, বকেয়া পরিশোধের মাধ্যমে ব্যাংকটি পরোক্ষভাবে ফাঁকির বিষয়টি স্বীকার করেছে। ভ্যাট আইন অনুযায়ী, ফাঁকি দেওয়া অর্থের ওপর এখন সুদ ও জরিমানা আরোপ করা হবে এবং এ বিষয়ে শিগগিরই নোটিশ জারি করবে এলটিইউ।

অন্যদিকে, মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের নিরীক্ষায় ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে কেনাকাটা ও ব্যয়ের বিপরীতে আরও ২০ লাখ ৭০ হাজার টাকা ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়েও ব্যাংকটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।