ঋণের পুরনো নীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
অর্থনীতিকে টেকসই পথে ফিরিয়ে আনতে টাকা ছাপিয়ে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পুরনো নীতির প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার ওপর জোর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, এই ধরনের নীতির কারণে একদিকে সুদের হার বেড়ে যায়, অন্যদিকে বেসরকারি খাত ‘ক্রাউড আউট’ হয়ে পড়ে—যা কোনোভাবেই টেকসই অর্থনীতির জন্য সহায়ক নয়। শনিবার (২৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিট কভার করা সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি নীতিগত কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহ করে মূল্যস্ফীতি না বাড়ে এবং বেসরকারি খাতের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি না হয়। তিনি এটিকে বর্তমান অর্থনৈতিক নীতির মূল দিকনির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতির কারণে অর্থনীতি কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতেই ‘ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি’ বা অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণে সরকার জোর দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
বক্তব্যে তিনি বলেন, অর্থনীতির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের সরাসরি অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে প্রাথমিক সেবা সম্প্রসারণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), স্টার্টআপ, গ্রামীণ কুটিরশিল্প ও সৃজনশীল খাতকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানি সম্ভাবনাও বাড়বে।
এছাড়া স্পোর্টস, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র ও সংগীতকে অর্থনীতির নতুন খাত হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এসব খাত দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থাকলেও এগুলো জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম।
বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার অভাব, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো কঠিন হলেও ব্যবসা-বাণিজ্য সচল না থাকলে কর আদায় বাড়ানো সম্ভব নয়। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, ভোকেশনাল শিক্ষা ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধুমাত্র প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; বরং সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ব্যবসার খরচ কমানো জরুরি।
সবশেষে তিনি বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য নিয়ন্ত্রণ শিথিল বা ‘ডিরেগুলেশন’-এর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন, যাতে ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা কমে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হয়।

























