ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে টানাপোড়েন, আইএমএফের সঙ্গে মতবিরোধে সরকার
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫২:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
সরকারের বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে নতুন করে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির এই বড় উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখন আলোচনা ও চাপা টানাপোড়েন চলছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪০ লাখ পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এজন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়েছে। এটিকে দেশের ইতিহাসে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অন্যতম বড় সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে International Monetary Fund এই কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটির মতে, বড় আকারের এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে এর অর্থনৈতিক কার্যকারিতা, ব্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ভালোভাবে যাচাই করা দরকার। তারা কর্মসূচিটিকে বিদ্যমান অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় করার পরামর্শ দিয়েছে।
রাজস্ব ও সংস্কার নিয়েও চাপ
শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয়, রাজস্ব আদায়, মুদ্রা বিনিময় হার এবং আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়েও ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। আইএমএফ বাজারভিত্তিক ডলার রেট এবং কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব সংস্কার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থমন্ত্রী A. H. M. Mustafa Kamal (প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখিত) জানিয়েছেন, কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও আগামী ১৫–২০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
ঋণ কর্মসূচির চাপ
বাংলাদেশ বর্তমানে আইএমএফের প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩.৬৫ বিলিয়ন ডলার ছাড় হয়েছে। শর্ত পূরণে দেরি হলে পরবর্তী কিস্তি পেতে বিলম্ব হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের অবস্থান
সরকারের দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে তা দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ধীরে ধীরে করা হবে।
অন্যদিকে, আইএমএফ বলছে—যেকোনো বড় ব্যয় পরিকল্পনা আগে বিশ্লেষণ ও কাঠামোগত সমন্বয়ের মধ্যে আনা জরুরি।
সব মিলিয়ে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সামাজিক সুরক্ষা, আর্থিক সংস্কার এবং বৈদেশিক সহায়তার শর্ত—সব মিলিয়ে সরকারের জন্য এক ধরনের নীতিগত ভারসাম্যের চাপ তৈরি হয়েছে। -তথ্য ও সূত্র : ডেউলি স্টার






















