খরচের ঢেউ এবার সড়কে, বাড়তে পারে বাসভাড়া
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ৮০ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানির দাম বাড়ার পর থেকেই যেন অস্থির হয়ে উঠেছে সড়কপথের চাকা। ডিজেলের নতুন দামে বাড়তি চাপ সামলাতে না পেরে এবার বাস ও ট্রাক ভাড়া বাড়ানোর দাবি তুলেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
রোববার সমিতির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৫ পয়সা করা হোক। সংখ্যাটা হয়তো কাগজে সহজ মনে হয়, কিন্তু এর প্রভাব গিয়ে পড়বে সাধারণ যাত্রীর পকেটেই।
সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম বলছেন, সরকার জ্বালানির দাম বাড়ালেও এখনো ভাড়া সমন্বয়ের কোনো গেজেট প্রকাশ হয়নি। ফলে মালিকদের বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে, কিন্তু আগের ভাড়াতেই যাত্রী বহন করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
তবে এই হিসাবের অন্য পাশটাও আছে—যাত্রীদের। প্রতিদিন যেসব মানুষ কর্মস্থলে যেতে বাসের ওপর নির্ভর করেন, তাদের জন্য ভাড়া বাড়া মানে মাস শেষে খরচের খাতা আরও ভারী হয়ে যাওয়া। একজন নিম্নআয়ের কর্মজীবী মানুষের কাছে কয়েক টাকা বাড়তি ভাড়াও বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
পরিবহন মালিকরা বলছেন, শুধু জ্বালানি নয়—বাস নির্মাণ খরচও গত কয়েক বছরে অনেক বেড়েছে। ২০২২ সালে যেখানে একটি বাসের চেসিস কিনতে খরচ হতো প্রায় ২৪ লাখ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩৬ লাখ। বডি তৈরির খরচও প্রায় দ্বিগুণ। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাংক ঋণের সুদের বাড়তি চাপ।
সব মিলিয়ে মালিকদের দাবি—বর্তমান ভাড়ায় পরিবহন চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তাদের মতে, কিলোমিটারপ্রতি অন্তত সাড়ে ৩ টাকা না হলে এই খাত টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
কিন্তু এই সমীকরণে সবচেয়ে কঠিন অবস্থানে পড়ে যায় সাধারণ মানুষ। একদিকে জ্বালানি, গ্যাস, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে; অন্যদিকে যদি পরিবহন ভাড়াও বাড়ে, তাহলে প্রতিদিনের যাতায়াতই হয়ে উঠবে নতুন এক চাপ।
অর্থাৎ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ঢেউ এখন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে জীবনের প্রতিটি স্তরে—আর সেই ঢেউয়ের ভার সবচেয়ে বেশি বহন করছে সাধারণ মানুষই।



















