ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নে কাজ চলছে: প্রধানমন্ত্রী তিন দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন হবে: মাহদী আমিন মানব পাচার ও চোরাচালান দমনে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই গণহত্যায় জড়িত কাউকে ছাড় নয়: চিফ প্রসিকিউটর দেশকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে সবার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান চার বছর পর বাংলাদেশ সফরে আসছে ভারতীয় দল জব্দ পাথর নিয়ে ইউএনও’র লুকোচুরি ব্রাজিলের চিনির চুক্তি ভেঙে লন্ডনে ধরা খেল এস আলম, দিতে হবে ২৫ কোটির ক্ষতিপূরণ শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ আইন অনুযায়ীই হবে: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সংসারের চুলায় বাড়তি চাপ, বাড়ল এলপিজির দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ৭৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একটার পর একটা বাড়ছে খরচ—সংসারের হিসাব যেন প্রতিদিনই নতুন করে ভেঙে পড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই এবার বেড়েছে এলপি গ্যাসের দাম, যা সরাসরি আঘাত হানছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে।

নতুন নির্ধারিত দরে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। এক লাফে ২১২ টাকা বৃদ্ধি—যা অনেক পরিবারের মাসিক বাজেটে বড় এক ধাক্কা হয়ে এসেছে। পাশাপাশি অটোগ্যাসের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), আর সন্ধ্যা থেকেই তা কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ, দিনের শেষে যখন অনেকেই রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই তাদের সামনে হাজির হয়েছে নতুন দামের বাস্তবতা।

একজন গৃহিণীর জন্য এই বাড়তি খরচ মানে শুধু গ্যাসের বিল বাড়া নয়—বরং বাজারের অন্য খরচ কমিয়ে আনা, সন্তানের পছন্দের খাবার বাদ দেওয়া, কিংবা মাসের শেষে কিছু টাকা বাঁচানোর স্বপ্ন ছেড়ে দেওয়া।

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এলপিজি এখন এক ধরনের প্রয়োজনীয় বিলাসিতায় পরিণত হচ্ছে। শহরের অনেক বাসায় পাইপলাইন গ্যাস না থাকায় এই সিলিন্ডারের ওপরই নির্ভর করতে হয়। ফলে দাম বাড়ার প্রতিটি সিদ্ধান্ত তাদের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

অটোগ্যাসের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বাড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত বাজারের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে। অর্থাৎ, এই এক সিদ্ধান্তের প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে পুরো অর্থনীতিতে—খাবার টেবিল থেকে শুরু করে প্রতিদিনের যাতায়াত পর্যন্ত।

এর আগের রাতেই যখন সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল, তখনই মানুষ আশঙ্কা করছিল নতুন করে আরেক দফা চাপ আসতে পারে। সেই আশঙ্কাই এবার বাস্তবে রূপ নিল।

সংখ্যার হিসেবে এটি হয়তো একটি মূল্য সমন্বয়, কিন্তু বাস্তবে এটি হাজারো পরিবারের জন্য নতুন করে টিকে থাকার লড়াই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সংসারের চুলায় বাড়তি চাপ, বাড়ল এলপিজির দাম

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

একটার পর একটা বাড়ছে খরচ—সংসারের হিসাব যেন প্রতিদিনই নতুন করে ভেঙে পড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই এবার বেড়েছে এলপি গ্যাসের দাম, যা সরাসরি আঘাত হানছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে।

নতুন নির্ধারিত দরে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। এক লাফে ২১২ টাকা বৃদ্ধি—যা অনেক পরিবারের মাসিক বাজেটে বড় এক ধাক্কা হয়ে এসেছে। পাশাপাশি অটোগ্যাসের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), আর সন্ধ্যা থেকেই তা কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ, দিনের শেষে যখন অনেকেই রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই তাদের সামনে হাজির হয়েছে নতুন দামের বাস্তবতা।

একজন গৃহিণীর জন্য এই বাড়তি খরচ মানে শুধু গ্যাসের বিল বাড়া নয়—বরং বাজারের অন্য খরচ কমিয়ে আনা, সন্তানের পছন্দের খাবার বাদ দেওয়া, কিংবা মাসের শেষে কিছু টাকা বাঁচানোর স্বপ্ন ছেড়ে দেওয়া।

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এলপিজি এখন এক ধরনের প্রয়োজনীয় বিলাসিতায় পরিণত হচ্ছে। শহরের অনেক বাসায় পাইপলাইন গ্যাস না থাকায় এই সিলিন্ডারের ওপরই নির্ভর করতে হয়। ফলে দাম বাড়ার প্রতিটি সিদ্ধান্ত তাদের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

অটোগ্যাসের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বাড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত বাজারের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে। অর্থাৎ, এই এক সিদ্ধান্তের প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে পুরো অর্থনীতিতে—খাবার টেবিল থেকে শুরু করে প্রতিদিনের যাতায়াত পর্যন্ত।

এর আগের রাতেই যখন সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল, তখনই মানুষ আশঙ্কা করছিল নতুন করে আরেক দফা চাপ আসতে পারে। সেই আশঙ্কাই এবার বাস্তবে রূপ নিল।

সংখ্যার হিসেবে এটি হয়তো একটি মূল্য সমন্বয়, কিন্তু বাস্তবে এটি হাজারো পরিবারের জন্য নতুন করে টিকে থাকার লড়াই।