বোমায় নিভে গেল দীপালির স্বপ্ন: পরিবারের একমাত্র ভরসা হারানোর কান্না
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে নিজের জীবনের চেয়েও বড় করে দেখেছিলেন পরিবারের স্বপ্নকে। সেই স্বপ্নই এক মুহূর্তে থেমে গেল—লেবাননের রাজধানী বৈরুত-এর আকাশে নেমে আসা বোমার আগুনে।
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের মেয়ে দীপালি আক্তার (৩৪)। ছোট্ট গ্রাম থেকে হাজার মাইল দূরে পাড়ি দিয়েছিলেন শুধু একটাই কারণে—পরিবারকে অভাব থেকে মুক্তি দিতে। কিন্তু সেই লড়াইয়ের শেষটা হলো নিথর দেহ হয়ে।
পরিবার জানায়, গত বুধবার রাতে ইসরায়েল-এর বিমান হামলায় বৈরুতের একটি বাসা মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সেখানে থাকা সাতজনের সঙ্গে প্রাণ হারান দীপালিও।
দীপালির বোন লাইজু আক্তারের কণ্ঠে এখন শুধু কান্না—“দুই দিন ধরে কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। মনে হচ্ছিল কিছু একটা হয়েছে… কিন্তু এমন খবর পাবো ভাবিনি।”
দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই ছিল তাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। কৃষক বাবার সংসারে অভাব যেন নিত্যসঙ্গী। সেই অভাব ঘোচাতে ২০১৫ সালে প্রথমবার লেবাননে যান দীপালি, গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে। সাত বছর পর ২০২৩ সালের শেষে দেশে ফিরলেও সংসারের টান তাকে আবারও ফিরিয়ে নেয় বিদেশে—২০২৪ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয়বারের মতো পাড়ি জমান তিনি।
নিজের বিয়ে, নিজের স্বপ্ন—সবকিছুই যেন পেছনে ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন পুরো সংসারের দায়িত্ব।
আজ সেই কাঁধ আর নেই। আছে শুধু শূন্যতা।
বর্তমানে তার মরদেহ রাখা হয়েছে বৈরুতের রফিক হারিরি ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল-এ। হাজারো স্মৃতি আর অপূর্ণ স্বপ্ন নিয়ে দূর দেশে পড়ে আছে একটি নিথর দেহ, আর এদিকে গ্রামে চলছে আহাজারি।
দীপালির গল্প শুধু একজন প্রবাসী নারীর মৃত্যু নয়—এটি হাজারো স্বপ্নভঙ্গের প্রতিচ্ছবি। যে মেয়েটি নিজের জীবনের চেয়ে পরিবারের হাসিকে বড় করে দেখেছিল, তার জীবনটাই শেষ হয়ে গেল যুদ্ধের নির্মমতায়।
এখন তার পরিবার শুধু একটাই অপেক্ষায়—শেষবারের মতো প্রিয় মুখটি দেখার, আর প্রশ্ন করছে—এই মৃত্যু কি কেবল একটি সংখ্যা হয়ে থাকবে, নাকি কেউ নেবে এর দায়?























