ছয় লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক এমপির মৃত্যুদণ্ড
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৩২:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর এবং একজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল রায় ঘোষণা করেন।
একই অভিযোগে আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি সৈয়দ রনির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া আসামির সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকার সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাজসাক্ষী হওয়ায় এসআই আবজালুলকে ক্ষমা ঘোষণা করেছেন আদালত।
এর আগে সকালে প্রিজনভ্যানে করে কারাগার থেকেমানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
হাজির করা আসামিরা হলেন— ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক এবং কনস্টেবল মুকুল।
এ মামলায় পলাতক রয়েছেন আটজন। তারা হলেন— ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
প্রসিকিউশন এ মামলায় মোট ৫৩ জনকে সাক্ষী করেছে। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম এবং শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান। ২২ কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানসহ মোট ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
পরবর্তীকালে আসামি আরাফাত হোসেন সাফাই সাক্ষ্য দেন। ১৪ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। এরপর আসামিপক্ষ ও প্রসিকিউশনের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষে ২০ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন ট্রাইব্যুনাল। গত ১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল-২।
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এটি তৃতীয় রায়। ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করবেন।
এই ঘটনায় শহীদ হন সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।
এর আগে গত বছরের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। সে সময় উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। একই বছরের ২ জুলাই প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত। অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা, দালিলিক প্রমাণাদি ১৬৮ পৃষ্ঠা এবং দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করে প্রসিকিউশন।
এ দিকে রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। একই সঙ্গে তৎপর রয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও।



















