ঢাকা ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন ষাটগম্বুজ মসজিদ

আবু-হানিফ, বাগেরহাট
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫ ১৩২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ বিশ্ব ঐতিহ্যের (ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ) স্থাপনা। নান্দনিক এ মসজিটটিতে সাত লাইনে ১১টি করে ৭৭টি ও চার কোনায় চারটিসহ মোট ৮১টি গম্বুজ হলেও ষাটগম্বুজ মসজিদ নামেই পরিচিত।

ইউনেস্কো ১৯৮৩ সালে বাগেরহাট ষাটগম্বুজ মসজিদসহ শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। বর্তমানে মসজিদের বাইরের মেঝে থেকে ওপরে ও ছাদের কার্নিশ থেকে নিচে লাইটিং ষাটগম্বুজ মসজিদটিকে আরও দর্শনীয় করে তুলেছে।

ঐতিহাসিক এ মসজিদটি ইটের তৈরি হলেও মাঝখানে ৬০টি পাথরের পিলারের ওপর ৭৭টি গম্বুজ নিয়ে দাঁড়িয়ে ষাটগম্বুজ মসজিদ। মসজিদের বাইরের দিক দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৬০ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ১০৪ ফুট লম্বা। আর ভিতরে উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৪৩ ফুট ও পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৮৮ ফুট লম্বা। মসজিদের দেয়াল ৮ দশমিক ৫ ফুট পুরু।

মসজিদটির পূর্ব দিকের দেয়ালে রয়েছে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা। অন্য দরজাগুলো থেকে মাঝখানের দরজাটি সবচেয়ে বড়। আর উত্তর ও দক্ষিণ দিকের দেয়ালে দরজা আছে সাতটি করে ১৪টি। মসজিদের চারকোণে চারটি গোলাকার মিনার আছে।

প্রতিটি মিনারের চূড়ায় রয়েছে একটি করে গোলাকার গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলোর উচ্চতা একটু বেশি। মসজিদের সামনের দিকের দুটি মিনারের একটির নাম রওশন কোঠা এবং অন্যটির নাম আন্ধার কোঠা। মিনারের ভেতরে রয়েছে প্যাঁচানো সিঁড়ি। আগে এই মিনার থেকে আজান দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।

মসজিদের অভ্যন্তরে মোট ষাটটি পিলার উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে ছয় সারিতে মোট ১০টি করে বিন্যস্ত। ষাটগম্বুজ মসজিদে ১১টি সারিতে মোট ৭৭টি গম্বুজ রয়েছে। আর মিনারের ওপর চারটি গম্বুজসহ মোট গম্বুজের সংখ্যা ৮১টি। মসজিদের মিহরাবের মধ্যবর্তী সারিতে সাতটি গম্বুজ ছাড়া বাকি ৭৪টি গম্বুজই অর্ধ গোলাকার। মসজিদের পশ্চিম দিকের দেয়ালে মিহরাব আছে ১০টি। মাঝখানের মিহরাবটি বড় ও পোড়া মাটির কারুকার্যপূর্ণ। দক্ষিণ দিকে পাঁচটি এবং উত্তর দিকে চারটি মিহরাব রয়েছে। উত্তর পাশে মিহরাবের বদলে একটি ছোট দরজা আছে। অনেকের মতে, হজরত জাহান এটিকে মসজিদ ছাড়াও দরবার ঘর হিসেবে ব্যবহার করতেন। ছোট দরজা ছিল তাঁর প্রবেশ পথ।

মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। জনশ্রুতি আছে, হজরত খানজাহান (র.) ষাটগুম্বুজ মসজিদ নির্মাণের জন্য সমুদয় পাথর সুদূর চট্টগ্রাম, মতান্তরে ভারতের ওড়িশার রাজমহল থেকে তাঁর অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে পাথর ভাসিয়ে এনেছিলেন। ইমারতটির গঠন বৈচিত্র্যে তুঘলক স্থাপত্যের বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী দেখলে এটি যে হজরত খানজাহান (রহ.) নির্মাণ করেছিলেন এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ থাকে না। হজরত খানজাহানের অমরকীর্তি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ষাটগুম্বুজ মসজিদটি দেখতে প্রতি বছর দেশি-বিদেশি লাখ লাখ পর্যটক দেখতে আসেন। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মসজিদটি পরিদর্শনে আসা দেশীয় পর্যটকদের কাছ থেকে ২০ টাকা ও বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে ২০০ টাকার প্রবেশ মূল্য নিয়ে থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন ষাটগম্বুজ মসজিদ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫

ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ বিশ্ব ঐতিহ্যের (ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ) স্থাপনা। নান্দনিক এ মসজিটটিতে সাত লাইনে ১১টি করে ৭৭টি ও চার কোনায় চারটিসহ মোট ৮১টি গম্বুজ হলেও ষাটগম্বুজ মসজিদ নামেই পরিচিত।

ইউনেস্কো ১৯৮৩ সালে বাগেরহাট ষাটগম্বুজ মসজিদসহ শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। বর্তমানে মসজিদের বাইরের মেঝে থেকে ওপরে ও ছাদের কার্নিশ থেকে নিচে লাইটিং ষাটগম্বুজ মসজিদটিকে আরও দর্শনীয় করে তুলেছে।

ঐতিহাসিক এ মসজিদটি ইটের তৈরি হলেও মাঝখানে ৬০টি পাথরের পিলারের ওপর ৭৭টি গম্বুজ নিয়ে দাঁড়িয়ে ষাটগম্বুজ মসজিদ। মসজিদের বাইরের দিক দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৬০ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ১০৪ ফুট লম্বা। আর ভিতরে উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৪৩ ফুট ও পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৮৮ ফুট লম্বা। মসজিদের দেয়াল ৮ দশমিক ৫ ফুট পুরু।

মসজিদটির পূর্ব দিকের দেয়ালে রয়েছে ১১টি খিলানযুক্ত দরজা। অন্য দরজাগুলো থেকে মাঝখানের দরজাটি সবচেয়ে বড়। আর উত্তর ও দক্ষিণ দিকের দেয়ালে দরজা আছে সাতটি করে ১৪টি। মসজিদের চারকোণে চারটি গোলাকার মিনার আছে।

প্রতিটি মিনারের চূড়ায় রয়েছে একটি করে গোলাকার গম্বুজ। ছাদের কার্নিশের চেয়ে মিনারগুলোর উচ্চতা একটু বেশি। মসজিদের সামনের দিকের দুটি মিনারের একটির নাম রওশন কোঠা এবং অন্যটির নাম আন্ধার কোঠা। মিনারের ভেতরে রয়েছে প্যাঁচানো সিঁড়ি। আগে এই মিনার থেকে আজান দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।

মসজিদের অভ্যন্তরে মোট ষাটটি পিলার উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে ছয় সারিতে মোট ১০টি করে বিন্যস্ত। ষাটগম্বুজ মসজিদে ১১টি সারিতে মোট ৭৭টি গম্বুজ রয়েছে। আর মিনারের ওপর চারটি গম্বুজসহ মোট গম্বুজের সংখ্যা ৮১টি। মসজিদের মিহরাবের মধ্যবর্তী সারিতে সাতটি গম্বুজ ছাড়া বাকি ৭৪টি গম্বুজই অর্ধ গোলাকার। মসজিদের পশ্চিম দিকের দেয়ালে মিহরাব আছে ১০টি। মাঝখানের মিহরাবটি বড় ও পোড়া মাটির কারুকার্যপূর্ণ। দক্ষিণ দিকে পাঁচটি এবং উত্তর দিকে চারটি মিহরাব রয়েছে। উত্তর পাশে মিহরাবের বদলে একটি ছোট দরজা আছে। অনেকের মতে, হজরত জাহান এটিকে মসজিদ ছাড়াও দরবার ঘর হিসেবে ব্যবহার করতেন। ছোট দরজা ছিল তাঁর প্রবেশ পথ।

মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। জনশ্রুতি আছে, হজরত খানজাহান (র.) ষাটগুম্বুজ মসজিদ নির্মাণের জন্য সমুদয় পাথর সুদূর চট্টগ্রাম, মতান্তরে ভারতের ওড়িশার রাজমহল থেকে তাঁর অলৌকিক ক্ষমতাবলে জলপথে পাথর ভাসিয়ে এনেছিলেন। ইমারতটির গঠন বৈচিত্র্যে তুঘলক স্থাপত্যের বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী দেখলে এটি যে হজরত খানজাহান (রহ.) নির্মাণ করেছিলেন এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ থাকে না। হজরত খানজাহানের অমরকীর্তি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ষাটগুম্বুজ মসজিদটি দেখতে প্রতি বছর দেশি-বিদেশি লাখ লাখ পর্যটক দেখতে আসেন। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মসজিদটি পরিদর্শনে আসা দেশীয় পর্যটকদের কাছ থেকে ২০ টাকা ও বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে ২০০ টাকার প্রবেশ মূল্য নিয়ে থাকে।