নতুন দলের নেতৃত্বে থাকছেন নাহিদ-আকতার
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৭:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১৩৮ বার পড়া হয়েছে
ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিবেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব আকতার হোসেন। এ ছাড়া দলটিতে মুখপাত্র ও মুখ্য সংগঠকের পদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমই থাকছেন। তবে নতুন সৃজন করা জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদে পরিবর্তন আসছে বলে জানা গেছে।
এই পদ দুটিতে শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ও জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক আলী আহসান জোনায়েদ এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির আহবায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম আলোচনায় ছিল।
সমাঝোতার ভিত্তিতে এই দুটি পদ প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে এক পোস্টে নতুন রাজনৈতিক দলে থাকছেন না বলে জানিয়েছেন আলী আহসান জোনায়েদ। তার সাথে শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব রাফে সালমান রিফাতও দলটিতে থাকছেন না বলে জানান।
আলী আহসান জোনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে। তাদের
আলী আহসান জোনায়েদের সঙ্গে নাগরিক কমিটির নেতাদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে নতুন রাজনৈতিক দলের সদস্যসচিব পদ নিয়ে। তার অনুসারীরা তাকে এই পদে দাবি করলেও আরেকটি অংশ নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে চান। এ নিয়ে টানাপড়েন চলে নাগরিক কমিটিতে।
আলী আহসান জোনায়েদ ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি তরুণদের নেতৃত্বে যে নতুন রাজনৈতিক দলটি আসছে, সেখানে আমি থাকছি না। সে কথা আমি আরো সপ্তাহখানেক আগেই জানিয়েছি দলের নেতাদের। বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে ও জাতির নজর নতুন দলের ওপর নিবদ্ধ রাখতে নীরবতা বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু চারপাশের গুঞ্জন থামছে না। তাই স্পষ্ট করে রাখছি।
এদিকে জোনায়েদের ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করে রাফে সালমান রিফাত লিখেছেন, ‘২৮ তারিখে ঘোষিত হতে যাওয়া নতুন রাজনৈতিক দলে আমিও থাকছি না। তবে আমার রাজনৈতিক পথচলা থেমে থাকবে না। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার যে জোয়ার তৈরি হয়েছিল তাতে শর্ট টার্মে খুব ভালো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা রাখি না আপাতত। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও মনে রাখি, রাজনীতি একটা লম্বা রেস। ধৈর্য নিয়ে লম্বা সময়ের জন্যই আমাদের এই রেসে টিকে থাকতে হবে। আমরা নতুন সেই বাংলাদেশের প্রত্যাশী, যেটা হবে সত্যিকার অর্থেই ডেমোক্রেটিক, ইনক্লুসিভ, বৈষম্যহীন ও আধিপত্যমুক্ত। ঐক্যবদ্ধতা ও মধ্যম পন্থাই হবে আমাদের শক্তি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিহাদ চলবে। আঞ্চলিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই চলবে। বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য আমরা জান দিয়ে লড়ব। নতুন দলের জন্য দোয়া এবং শুভ কামনা রইল।’
এদিকে, শোনা যাচ্ছে, আলী আহসান জোনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাতের নতুন রাজনৈতিক দলে না থাকার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর জাতীয় নাগরিক কমিটিতে থাকা শিবিরের সাবেক অনেক সদস্যই নতুন রাজনৈতিক দলে থাকবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে আলী আহসান জোনায়েদ না থাকার খবর জানানোর পর নতুন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের পদটি শূন্য হয়। এই পদের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়ে বুধবার বিকেলে আলোচনায় বসেন জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা।
জাতীয় নাগরিক কমিটির একাধিক সূত্র বলছে, এই পদে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহবায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়েই আলোচনা করছেন শীর্ষ নেতারা, যাকে নতুন দলে সমঝোতার ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদে রাখা হয়েছিল। আর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিনকে নিয়ে আলোচনা চলছে। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, দলটির শীর্ষ পদে নারী নেতৃত্ব থাকছে না বলে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা হচ্ছে। সেই সমালোচনার জন্য এই পদে সামান্তা শারমিনকেই রাখার চিন্তা-ভাবনা চলছে। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদ ছাড়াও নতুন আরো তিনটি পদ সৃষ্টি করে গুরুত্বপূর্ণ সাবেক ছাত্রনেতাদের জায়গা করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানা যায়। এই পদগুলো হলো মুখ্য সমন্বয়ক, কোষাধ্যক্ষ ও দপ্তর সম্পাদক। এসব পদ এবং এর বাইরের গুরুত্বপূর্ণ পদে জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, তাসনিম জারা, আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম সদস্যসচিব অনিক রায়, মাহবুব আলম ও অলিক মৃকে দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব আরিফ সোহেল, মুখপাত্র উমামা ফাতেমা এবং মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদকেও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যেতে পারে।
এদিকে বুধবার বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদারকে আহবায়ক এবং জাহিদ আহসানকে সদস্যসচিব করে নতুন ছাত্রসংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। সূত্র বলছে, নতুন এই ছাত্রসংগঠন নতুন রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠন হিসেবেই কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন এই ছাত্রসংগঠনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ’।
তবে নতুন দলের নাম কী ঠিক করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। নাগরিক কমিটির একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই ছাত্রসংগঠনের নামের আদলেই নতুন দলের নাম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে দলটির নাম হতে পারে ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক নাগরিক সংসদ’। তবে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ ও ‘বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি’ নাম দুটি আলোচনায় রয়েছে।
আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) নতুন দলের আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে অবহিত করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। জাতীয় নাগরিক কমিটির সহকারী দপ্তর সেল সম্পাদক আবু সাঈদ লিয়নের সই করা চিঠিতে বলা হয়, ‘আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি মানিক মিয়া এভিনিউয়ে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবহিত করা হলো।
এদিকে নতুন দলের আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠানে গণতান্ত্রিক সমমনা সব রাজনৈতিক দলকে দাওয়াত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন।
চার পদ রেখে সব সেল বিলুপ্ত ঘোষণা: নতুন দল গঠনকে কেন্দ্র করে চার পদ রেখে সব সেল বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। গতকাল সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ১১তম সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।



























