ছাত্রদের নতুন দলের আহবায়ক নাহিদ!
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৩১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১৭১ বার পড়া হয়েছে
ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল কবে আসছে, দলের নেতৃত্ব কে দেবে- এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। চলতি মাসের ২৪ তারিখে সম্ভব্য রাজনৈতিক দলের নাম ঘোষণা হতে পারে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা এমনটা জানিয়েছেন।
ছাত্রদের দলটির দলটির নাম এবং প্রতীকের বিষয়ে চলছে জনমত জরিপ। এ ক্ষেত্রে জনগণের চিন্তাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন দলটির উদ্যোক্তারা। এরমধ্যে শুধু অনলাইনেই প্রায় দেড় লাখ মানুষ নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। নামের বিষয়ে নাগরিক কমিটির এক নেতা বলেন, বেশিরভাগ মানুষ নাগরিক, বৈষম্যবিরোধী, অধিকার এসব যুক্ত অর্থাৎ নাগরিক অধিকার পার্টি, নাগরিক মর্যাদা ইত্যাদি নাম সাজেস্ট করছেন। প্রতীক হিসেবে গতানুগতিক প্রতীকের বাইরে অর্থাৎ অভ্যুত্থানের কোনো চিহ্নকে বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও নাগরিক কমিটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে দল ঘোষণার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। দল ঘোষণার পর চলতি মাসের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় কর্মসূচিও পালন করতে চান তারা। সেক্ষেত্রে ২৫ ফেব্রুয়ারি দল ঘোষণার বিষয়ে মতামত আসে। ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা হত্যা দিবস হওয়ায় তার আগের দিন অর্থাৎ ২৪ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা হতে পারে।
নতুন দলের রাজনৈতিক কাঠামো কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে জানিয়ে এই নেতারা বলেন, শুরুতে আহবায়ক কমিটি দিয়েই শুরু করতে চান তারা। আহবায়ক হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম অনেকটা চূড়ান্ত হলেও সদস্য সচিব নিয়ে চলছে আলোচনা। সেক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহবায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তাদের দুজন থেকে একজন সদস্য সচিবের দায়িত্ব নেবেন।
এ ছাড়া নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহবায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, সদস্য সচিব আরিফ সোহেল ও মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ থাকছেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে।
অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, চমক হিসেবে কয়েকটি দলের তরুণ নেতাদের দেখা যেতে পারে এই দলে। কেউ কেউ দল ঘোষণার সময় আর কেউ বা নির্বাচনের আগে দলে যোগ দিতে পারেন। ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাম ছাত্রনেতাদের কয়েকজনের যোগদানের বিষয়টি এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করলেও অন্য দুই তরুণ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমের এখনই পদত্যাগ করার সম্ভাবনা নেই। এ ছাড়া নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম সারির নেতারা রাজনৈতিক দলে যোগ দিলে এই দুই সংগঠনেও আসবে নতুন নেতৃত্ব। দ্বিতীয় সারির নেতারা অভ্যুত্থানের এই দুই শক্তির দায়িত্বে আসবেন।
নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, নাহিদ ইসলামকেই আহ্বায়ক হিসেবে আমাদের নীতিনির্ধারণী ফোরাম চিন্তা করছে। তিনি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করলে নতুন দলের দায়িত্ব নেবেন। নাগরিক কমিটি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এভাবেই পরিকল্পনা করছে।
এদিকে, নতুন দলের কাঠামো, গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করতে কাজ করছে নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। দেশের সব রাজনৈতিক দল এবং বহির্বিশ্বের যেসব দল অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে, সেসব দলকে নিয়ে বিস্তর গবেষণা করছেন তারা। এর মধ্যে ভারতের অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম-আদমি পার্টি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টি এবং পাকিস্তানের দল ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) রয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ বলেন, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে যাতে আমরা নতুন দল ঘোষণা করতে পারি, তা নিয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র তৈরিসহ অন্যান্য কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।



























