ঢাকা ০৯:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথম ধাপে প্রায় এক হাজার ইউপিতে ভোট, থাকছে না ইভিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উপজেলাভিত্তিক নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা ইসির; বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রথম ধাপের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা, ছয় বছর বয়স থেকেই এনআইডির তথ্যভান্ডার তৈরির চিন্তা

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রথম ধাপে প্রায় এক হাজার মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়নে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিচ্ছিন্নভাবে ইউনিয়ন নির্বাচন না করে যেসব উপজেলায় অধিকাংশ বা সব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেসব উপজেলাকে একসঙ্গে নির্বাচনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে কমিশন। একই সঙ্গে এবারের নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ইসি।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে নির্বাচন ভবন প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমদ। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে কোন কোন ইউনিয়নে ভোট হবে, তার চূড়ান্ত তালিকা আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

উপজেলাভিত্তিক ভোটের পরিকল্পনা

ইসি সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ওই উপজেলায় একযোগে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উপজেলা সদরের ইউনিয়নগুলোকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রথম ধাপে প্রায় এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও কোন ইউনিয়নগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে মেয়াদোত্তীর্ণ পরিষদগুলোর পাশাপাশি উপজেলাভিত্তিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এ ধরনের পরিকল্পনার ফলে একই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আলাদা সময়ে নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজন কমতে পারে। তবে ইউনিয়নগুলোর মেয়াদ, সীমানা, মামলা বা অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে চূড়ান্ত তালিকা তৈরিতে সেগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

ইভিএম বাদ, যন্ত্রপাতি অপসারণের প্রস্তুতি

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ইসি সচিব। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকা মেশিনগুলো ধ্বংস বা অপসারণের লক্ষ্যে চূড়ান্ত স্টক টেকিং শুরু হয়েছে।

ইভিএমগুলো কী পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করা হবে, তা নির্ধারণে একটি কমিটি কাজ করছে। কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রচলিত ব্যালট পদ্ধতির ওপরই নির্ভর করতে হবে। তবে শুধু ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তই নয়, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, ব্যালট ব্যবস্থাপনা, ভোট গণনা এবং ফল প্রকাশের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ছয় বছর বয়স থেকেই এনআইডির তথ্য সংগ্রহের ভাবনা

ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যভান্ডার আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন ইসি সচিব।

বর্তমানে ভোটার নিবন্ধনের জন্য ১৬ বছর বয়স থেকে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং বারবার তথ্য পরিবর্তনের প্রবণতা কমাতে প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে প্রবেশের সময় থেকেই নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করে একটি স্থায়ী ডেটাবেইজ তৈরির চিন্তা করছে কমিশন।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ছয় বছর বয়স থেকেই শিশুদের এনআইডি-সংক্রান্ত তথ্য নিবন্ধনের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। আখতার আহমদ বলেন, তথ্য বারবার পরিবর্তনের সুযোগ বা প্রবণতা কমাতেই নিবন্ধনের বয়সসীমা শিথিল করে প্রাথমিক শিক্ষা স্তর থেকে তথ্য সংগ্রহের আগাম পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নির্বাচন প্রস্তুতির পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতার চ্যালেঞ্জ

প্রথম ধাপে প্রায় এক হাজার ইউনিয়নে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে উপজেলাভিত্তিক নির্বাচন আয়োজন করতে হলে মেয়াদোত্তীর্ণ পরিষদের তালিকা নির্ভুল করা, প্রশাসনিক জটিলতা চিহ্নিত করা এবং ভোটকেন্দ্র ও জনবল প্রস্তুত রাখার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে ইভিএম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর ব্যালটভিত্তিক ভোটের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়িত্বও বাড়বে। একই সঙ্গে ছয় বছর বয়স থেকে এনআইডির তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, তথ্য সংশোধনের নিয়ম, অভিভাবকের সম্মতি এবং তথ্য ব্যবহারের সীমা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে এখন দুটি বড় কাজ—প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তালিকা ও সময়সূচি চূড়ান্ত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে নাগরিক তথ্যভান্ডারকে নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য করা। বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য তালিকা থেকে প্রথম ধাপের নির্বাচন পরিকল্পনার বাস্তব চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

পাঁচ ধাপে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন করছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি।দ্বিতীয় ধাপের ভোট হবে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ভোট হবে ২৭ মে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

প্রথম ধাপে প্রায় এক হাজার ইউপিতে ভোট, থাকছে না ইভিএম

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উপজেলাভিত্তিক নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা ইসির; বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রথম ধাপের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা, ছয় বছর বয়স থেকেই এনআইডির তথ্যভান্ডার তৈরির চিন্তা

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রথম ধাপে প্রায় এক হাজার মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়নে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিচ্ছিন্নভাবে ইউনিয়ন নির্বাচন না করে যেসব উপজেলায় অধিকাংশ বা সব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেসব উপজেলাকে একসঙ্গে নির্বাচনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে কমিশন। একই সঙ্গে এবারের নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ইসি।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে নির্বাচন ভবন প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমদ। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে কোন কোন ইউনিয়নে ভোট হবে, তার চূড়ান্ত তালিকা আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

উপজেলাভিত্তিক ভোটের পরিকল্পনা

ইসি সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ওই উপজেলায় একযোগে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উপজেলা সদরের ইউনিয়নগুলোকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রথম ধাপে প্রায় এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও কোন ইউনিয়নগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে মেয়াদোত্তীর্ণ পরিষদগুলোর পাশাপাশি উপজেলাভিত্তিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এ ধরনের পরিকল্পনার ফলে একই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আলাদা সময়ে নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজন কমতে পারে। তবে ইউনিয়নগুলোর মেয়াদ, সীমানা, মামলা বা অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে চূড়ান্ত তালিকা তৈরিতে সেগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

ইভিএম বাদ, যন্ত্রপাতি অপসারণের প্রস্তুতি

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ইসি সচিব। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকা মেশিনগুলো ধ্বংস বা অপসারণের লক্ষ্যে চূড়ান্ত স্টক টেকিং শুরু হয়েছে।

ইভিএমগুলো কী পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করা হবে, তা নির্ধারণে একটি কমিটি কাজ করছে। কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রচলিত ব্যালট পদ্ধতির ওপরই নির্ভর করতে হবে। তবে শুধু ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তই নয়, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, ব্যালট ব্যবস্থাপনা, ভোট গণনা এবং ফল প্রকাশের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ছয় বছর বয়স থেকেই এনআইডির তথ্য সংগ্রহের ভাবনা

ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যভান্ডার আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন ইসি সচিব।

বর্তমানে ভোটার নিবন্ধনের জন্য ১৬ বছর বয়স থেকে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং বারবার তথ্য পরিবর্তনের প্রবণতা কমাতে প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে প্রবেশের সময় থেকেই নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করে একটি স্থায়ী ডেটাবেইজ তৈরির চিন্তা করছে কমিশন।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ছয় বছর বয়স থেকেই শিশুদের এনআইডি-সংক্রান্ত তথ্য নিবন্ধনের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। আখতার আহমদ বলেন, তথ্য বারবার পরিবর্তনের সুযোগ বা প্রবণতা কমাতেই নিবন্ধনের বয়সসীমা শিথিল করে প্রাথমিক শিক্ষা স্তর থেকে তথ্য সংগ্রহের আগাম পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নির্বাচন প্রস্তুতির পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতার চ্যালেঞ্জ

প্রথম ধাপে প্রায় এক হাজার ইউনিয়নে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে উপজেলাভিত্তিক নির্বাচন আয়োজন করতে হলে মেয়াদোত্তীর্ণ পরিষদের তালিকা নির্ভুল করা, প্রশাসনিক জটিলতা চিহ্নিত করা এবং ভোটকেন্দ্র ও জনবল প্রস্তুত রাখার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে ইভিএম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর ব্যালটভিত্তিক ভোটের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়িত্বও বাড়বে। একই সঙ্গে ছয় বছর বয়স থেকে এনআইডির তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, তথ্য সংশোধনের নিয়ম, অভিভাবকের সম্মতি এবং তথ্য ব্যবহারের সীমা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে এখন দুটি বড় কাজ—প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তালিকা ও সময়সূচি চূড়ান্ত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে নাগরিক তথ্যভান্ডারকে নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য করা। বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য তালিকা থেকে প্রথম ধাপের নির্বাচন পরিকল্পনার বাস্তব চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

পাঁচ ধাপে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন করছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি।দ্বিতীয় ধাপের ভোট হবে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ভোট হবে ২৭ মে।