ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমনে ধান ৩৫, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা কেজি দরে কিনবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৫০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চলতি আমন মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে প্রতি কেজি ধান ৩৫ টাকা এবং মিলারদের কাছ থেকে সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা দরে কিনবে সরকার। এ ছাড়া আতপ চালের সংগ্রহমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কেজিপ্রতি ৪৮ টাকা। আমন মৌসুমে সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে একদিকে কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, অন্যদিকে সরকারি খাদ্য মজুত বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভায় ধান, চাল ও গম সংগ্রহ নিয়ে আলোচনার পর এসব দাম নির্ধারণ করা হয়। পরে ব্রিফিংয়ে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানান।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০২৬ আমন মৌসুমে সরকার ৩ লাখ মেট্রিক টন আমন ধান, ৫ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ করবে। অর্থাৎ ধান ও চাল মিলিয়ে মোট সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন।

সংগ্রহ শুরু ১৪ নভেম্বর, চলবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে আমন ধান সংগ্রহ শুরু হবে। এ কার্যক্রম চলবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। অন্যদিকে চাল সংগ্রহ শুরু হবে ১ ডিসেম্বর থেকে, যা একই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

পণ্যের ধরনসংগ্রহমূল্য (প্রতি কেজি)লক্ষ্যমাত্রা
আমন ধান৩৫ টাকা৩ লাখ মেট্রিক টন
সিদ্ধ চাল৪৯ টাকা৫ লাখ মেট্রিক টন
আতপ চাল৪৮ টাকা৫০ হাজার মেট্রিক টন

কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের প্রশ্ন

সরকারি সংগ্রহমূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে কৃষকের উৎপাদন খরচ, বাজারদর এবং খাদ্যশস্যের সরবরাহ পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। ধান কাটার মৌসুমে বাজারে সরবরাহ বাড়লে অনেক সময় কৃষককে তুলনামূলক কম দামে ফসল বিক্রি করতে হয়। এ পরিস্থিতিতে সরকার নির্ধারিত দামে সরাসরি ধান বিক্রির সুযোগ পেলে কৃষকের জন্য তা সহায়ক হতে পারে।

তবে সরকারি সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেই কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন—এমন নিশ্চয়তা তৈরি হয় না। প্রকৃত উৎপাদকদের কাছ থেকে ধান কেনা, সংগ্রহকেন্দ্রে হয়রানি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব ঠেকানো এবং নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে সরকারি সংগ্রহের সুবিধা প্রকৃত কৃষকের পরিবর্তে অন্যদের হাতে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বাজার স্থিতিশীল রাখাও বড় লক্ষ্য

সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রীয় খাদ্য মজুত শক্তিশালী করা। আমন মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহের মাধ্যমে সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুত বাড়লে ভবিষ্যতে বাজারে সরবরাহের চাপ মোকাবিলা এবং খাদ্যনিরাপত্তা কর্মসূচি পরিচালনায় সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

তবে সংগ্রহ কার্যক্রমের সফলতা নির্ভর করবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার কতটা বাস্তবে অর্জিত হচ্ছে, তার ওপর। পাশাপাশি বাজারদরের সঙ্গে সরকারি সংগ্রহমূল্যের সামঞ্জস্য, চালকল মালিকদের অংশগ্রহণ এবং গুদামজাতকরণ সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে আমন মৌসুমে সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত সরকারের খাদ্য মজুত ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এর প্রকৃত সুফল পেতে হলে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা, স্বচ্ছ সংগ্রহব্যবস্থা এবং সময়মতো অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আমনে ধান ৩৫, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা কেজি দরে কিনবে সরকার

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৫০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

চলতি আমন মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে প্রতি কেজি ধান ৩৫ টাকা এবং মিলারদের কাছ থেকে সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা দরে কিনবে সরকার। এ ছাড়া আতপ চালের সংগ্রহমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কেজিপ্রতি ৪৮ টাকা। আমন মৌসুমে সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে একদিকে কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, অন্যদিকে সরকারি খাদ্য মজুত বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভায় ধান, চাল ও গম সংগ্রহ নিয়ে আলোচনার পর এসব দাম নির্ধারণ করা হয়। পরে ব্রিফিংয়ে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানান।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০২৬ আমন মৌসুমে সরকার ৩ লাখ মেট্রিক টন আমন ধান, ৫ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ করবে। অর্থাৎ ধান ও চাল মিলিয়ে মোট সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন।

সংগ্রহ শুরু ১৪ নভেম্বর, চলবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে আমন ধান সংগ্রহ শুরু হবে। এ কার্যক্রম চলবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। অন্যদিকে চাল সংগ্রহ শুরু হবে ১ ডিসেম্বর থেকে, যা একই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

পণ্যের ধরনসংগ্রহমূল্য (প্রতি কেজি)লক্ষ্যমাত্রা
আমন ধান৩৫ টাকা৩ লাখ মেট্রিক টন
সিদ্ধ চাল৪৯ টাকা৫ লাখ মেট্রিক টন
আতপ চাল৪৮ টাকা৫০ হাজার মেট্রিক টন

কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের প্রশ্ন

সরকারি সংগ্রহমূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে কৃষকের উৎপাদন খরচ, বাজারদর এবং খাদ্যশস্যের সরবরাহ পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। ধান কাটার মৌসুমে বাজারে সরবরাহ বাড়লে অনেক সময় কৃষককে তুলনামূলক কম দামে ফসল বিক্রি করতে হয়। এ পরিস্থিতিতে সরকার নির্ধারিত দামে সরাসরি ধান বিক্রির সুযোগ পেলে কৃষকের জন্য তা সহায়ক হতে পারে।

তবে সরকারি সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেই কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন—এমন নিশ্চয়তা তৈরি হয় না। প্রকৃত উৎপাদকদের কাছ থেকে ধান কেনা, সংগ্রহকেন্দ্রে হয়রানি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব ঠেকানো এবং নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে সরকারি সংগ্রহের সুবিধা প্রকৃত কৃষকের পরিবর্তে অন্যদের হাতে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বাজার স্থিতিশীল রাখাও বড় লক্ষ্য

সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রীয় খাদ্য মজুত শক্তিশালী করা। আমন মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহের মাধ্যমে সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুত বাড়লে ভবিষ্যতে বাজারে সরবরাহের চাপ মোকাবিলা এবং খাদ্যনিরাপত্তা কর্মসূচি পরিচালনায় সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

তবে সংগ্রহ কার্যক্রমের সফলতা নির্ভর করবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার কতটা বাস্তবে অর্জিত হচ্ছে, তার ওপর। পাশাপাশি বাজারদরের সঙ্গে সরকারি সংগ্রহমূল্যের সামঞ্জস্য, চালকল মালিকদের অংশগ্রহণ এবং গুদামজাতকরণ সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে আমন মৌসুমে সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত সরকারের খাদ্য মজুত ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এর প্রকৃত সুফল পেতে হলে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা, স্বচ্ছ সংগ্রহব্যবস্থা এবং সময়মতো অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।