সোনামসজিদ স্থলবন্দরে তৃতীয় দিনের কর্মবিরতি, আটকা ৫০০ ট্রাক

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কর্মচারীরা। তাঁদের কর্মসূচির কারণে বন্দরে প্রায় ৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে। বন্ধ রয়েছে পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম, ব্যাহত হচ্ছে আমদানি-রপ্তানি।
আন্দোলনকারীরা জানান, ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করলেও পণ্য খালাস ও লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোনো ট্রাক পণ্য নিয়ে বের হতে পারছে না। এতে বন্দরের ভেতরে ট্রাকের দীর্ঘ জট তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বন্দরে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের পক্ষে মো. ওয়াসিম আকরামসহ অন্য বক্তারা কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।
বক্তারা বলেন, তুচ্ছ বিষয়েও কর্মচারীদের হয়রানি করা হচ্ছে। কোনো কারণ ছাড়াই আটকে রাখা হচ্ছে কার্ড। ফাইল জমা দেওয়ার পর নতুন জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। আগাম ঘোষণা ছাড়াই নতুন নিয়ম প্রয়োগের কারণেও কাজের ক্ষেত্রে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
এ ছাড়া কাস্টমস কর্মকর্তাদের অশোভন আচরণ এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে পণ্যের চালানে অতিরিক্ত কর ও জরিমানা আদায়ের অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
তাঁদের অভিযোগ, কোনো আমদানিকারকের ২০টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক থাকলে পণ্য পরীক্ষার নামে কোনো কারণ ছাড়াই সব ট্রাক পানামা পোর্টের ভেতরে নিয়ে আনলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।
এসব অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধ করে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
এ বিষয়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ মোহা. মবিন মিয়া ও সদস্য মো. বাইরুল ইসলাম জানান, কর্মচারীদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে কমিশনারের প্রতিনিধি, যুগ্ম সচিবসহ কাস্টমসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও কর্মচারীদের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।
তাঁরা জানান, আলোচনায় অংশ নিতে প্রতিনিধিদল রাজশাহী থেকে রওনা হয়েছে বলে তাঁরা শুনেছেন। তবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রতিনিধিরা বন্দরে পৌঁছাননি। অ্যাসোসিয়েশন কর্মচারীদের আন্দোলনে সরাসরি একাত্মতা ঘোষণা না করলেও তাঁদের উত্থাপিত দাবিগুলো যৌক্তিক বলে মনে করছে।
সোনামসজিদ পানামা পোর্টের ব্যবস্থাপক মোহা. মাইনুল ইসলাম বলেন, কর্মচারীদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকায় বন্দরে প্রায় ৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে। লোড-আনলোড বন্ধ থাকায় কোনো পণ্য খালাস হচ্ছে না। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আলোচনার জন্য কর্মচারীদের ডেকেছিল। তবে কমিশনার অথবা যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তার উপস্থিতি ছাড়া তাঁরা আলোচনায় বসতে রাজি হননি।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী থেকে কমিশনারের প্রতিনিধি আসার কথা থাকলেও বিকেল ৪টা পর্যন্ত তিনি বন্দরে পৌঁছাননি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সহকারী কমিশনার (এসি) মোহা. মাসুদ রানার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
























