চিকিৎসক, নার্স নাকি দালাল—চেনা দায়, বললেন দুদক চেয়ারম্যান

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা মেডিকেলে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি কক্ষে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, ডিউটি চিকিৎসকদের নির্ধারিত পোশাক না থাকা এবং রোগীদের ভোগান্তি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসকদের নির্ধারিত পোশাক না থাকায় তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, তাঁদের দেখে বোঝার উপায় নেই—কে চিকিৎসক, কে নার্স আর কে দালাল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুদকের অভিযানকালে এসব মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় চিকিৎসকদের কয়েকটি কক্ষে তাঁদের উপস্থিতি না পেয়ে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়ার নির্দেশ দেন হাসপাতাল পরিচালককে।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা নিয়ে রোগীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই যথাযথ চিকিৎসা পান না, আবার দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিত থাকার অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। এ কারণে তিনি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় দুদক ঢাকা মেডিকেলে এসেছে। পর্যায়ক্রমে অন্য হাসপাতালেও অভিযান চালানো হবে।
অভিযানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের কয়েকটি কক্ষে চিকিৎসকদের পাওয়া যায়নি। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তানভীর এবং নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধানকেও তাঁর কক্ষে পাওয়া যায়নি। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের কেউ বাইরে গেছেন, কেউ চা খেতে গেছেন বলে জানানো হয়।
তিনি আরও বলেন, জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকারীদের কারও গায়ে চিকিৎসকদের নির্ধারিত পোশাক নেই। ফলে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁরা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে রোগীরা চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম খুঁজতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটছেন। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।
অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, হাসপাতাল পরিচালককে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের শোকজ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দুদকও এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য এবং চিকিৎসকদের কেউ কেউ দালালির মাধ্যমে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এসব অভিযোগের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বেসরকারি হাসপাতালের এ ধরনের কার্যক্রম একটি ব্যবসায়িক বিষয়; এটি বন্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে। বিষয়টি দুদকের এখতিয়ারভুক্ত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন বলেন, তিনি সম্প্রতি এ হাসপাতালে যোগ দিয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। দুদক চেয়ারম্যান যেসব সমস্যা তুলে ধরেছেন, সেগুলো সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।
























