ক্ষমতার ভারসাম্য না থাকলে স্বৈরতন্ত্রের ঝুঁকি থেকেই যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠান যেন এককভাবে সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য কার্যকর চেক অ্যান্ড ব্যালান্স ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে স্বৈরশাসন বা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার স্থায়ী আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা জরুরি। এসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের পক্ষেও মত দেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মনসুন থিয়েটারে আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সেমিনার সিরিজের প্রথম পর্বে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজন করে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ। প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আলোচনায় আরও অংশ নেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।
সেমিনারে ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। তাঁর মতে, এর মধ্য দিয়ে দেশে সাংবিধানিক সংকট ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের ভিত্তি তৈরি হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানের অন্যতম কারণ। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো কেমন হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতিফলন থাকতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচারকদের জবাবদিহিও আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র রক্ষায় কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠান বা ‘ওয়াচডগ’ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু এবং গণভোট-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে একক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিভাজনের পথে যেতে চায় না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ঐক্য ও সমঝোতা প্রয়োজন।





















