তাহসিফের মৃত্যু: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিবিআই হেফাজতে বন্ধু দীপ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১০:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে তাঁকে আটক বা গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় দীপকে পিবিআই সদস্যরা নিয়ে গেছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাঁর জানা নেই।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে নিয়ে যায় পিবিআই। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার দিন সন্ধ্যার পর দীপের সঙ্গেই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় দীপও জানান, গত ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফ তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
তাহসিফের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে দীপ বলেন, ‘উনি আমার বয়সে সিনিয়র। আমার খুবই কাছের একজন বড় ভাই ছিলেন। এমনও হয়েছে, আমরা সপরিবারে তাঁদের বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়েছি।’
নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফ প্রায় ছয় ঘণ্টা দীপের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তাঁদের একসঙ্গে চলাফেরার একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ্যে এসেছে। এতে দেখা যায়, দুজন হাত মেলানোর পর আলাদা মোটরসাইকেলে বাসা থেকে বের হচ্ছেন। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় ফুটেজটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে তাহসিফের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ। তবে নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার তথ্য রয়েছে প্রতিবেদনে। মরদেহটি শনাক্ত করেন তাঁর খালাতো ভাই জহির হাসান।
সুরতহাল প্রতিবেদনের বর্ণনা অনুযায়ী, মরদেহের মাথার চুল কালো, উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। কপাল স্বাভাবিক ও মুখমণ্ডল গোলাকার। মুখ ও চোখ বন্ধ ছিল। মুখে ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। দুই হাত মাথার সামনের দিকে বাঁকানো এবং হাতের মুঠো খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। বুক, পেট, পিঠ ও দুই পা স্বাভাবিক থাকলেও পেট ফোলা ছিল।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ। পরদিন বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নৌ-পুলিশ। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরখানের তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের সময় তাহসিফের পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা ছিল। হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তাহসিফের বাবা জানান, ২৭ অক্টোবর সারাদিন পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করেছিলেন তাঁর ছেলে। সন্ধ্যার পর দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি।
তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া, দীপের সঙ্গে তাঁর শেষ সময় কাটানো, একসঙ্গে বাসা থেকে বের হওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ এবং পরে নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাগুলো ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় সামনে রেখে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য বেরিয়ে আসে, এখন সেদিকেই নজর তদন্তসংশ্লিষ্টদের।
























