ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুবদলকর্মী হত্যার ঘটনায় মামলা, ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেফতার দুই

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লক্ষ্মীপুরে মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যুবদলকর্মী খোরশেদ আলমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ১০ জনকে আসামী করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে আজ ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকালে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ২জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়।

এদিকে বুধবার রাতে দিলসাদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইব্রাহিম খলিল ছুট্টু ও মাসুদ রানাকে আটক করে পুলিশ। পরে খোরশেদ হত্যা মামলায় তাদের দুইজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর গ্রামের বক্স আলী ভূঁইয়া বাড়ির মৃত সৈয়দ আহম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে ইব্রাহিম খলিল ছুট্টু। অপরজন বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ও রাধাপুর গ্রামের তোফায়েল আহমেদের ছেলে মাসুদ রানা।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে সদর হাসপাতালে নিহত খোরশেদ আলম এর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে তার স্বজনরা মরদেহ গ্রহন করে। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রামের বাড়ি দিলশাদপুরে লাশ নেয়ার পর স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

এসময় স্বজনদের সাথে নিহতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরলেই স্বামী হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন। বলেন, মাটির ব্যবসায় তার কাল হলো। অকালে স্বামীকে হারিয়ে আমি এখন বিধবা। এক মেয়ে দুই ছেলেকে নিয়ে কিভাবে চলবে আমার এ সংসার। সামনে শুধুই অন্ধকার। কে করবে কার কাছে চাইব। এই খুনিদের বিচার। এরপর জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এসময় নিহতের মেয়ে প্রেমা আক্তার জানান, বুধবার দুপুরে বাড়ির সামনে দিয়ে একটি নারকেলের গাড়ি যাচ্ছিল। গাড়ির পিছনে বাবা খোরশেদ আলম হেটে বাড়িতে আসেন। এসময় মোরশেদ আলম, মজিদ হোসেন,বাচ্চু ও হিরু বাবাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। বাড়ির পাশে নিয়ে তার বুকে তিনটি গুলি করে। গুলির শব্দ শুনে আমি ও আমার দৌড়ে গিয়ে দেখি মাটিতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার আগে তার মৃত্যু হয়। অথচ হত্যাকারীরা বাবার সাথে বন্ধুৃত্ব ছিল বলে জানান মেয়ে প্রেমা। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

ছেলে তানভীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তার বাবা খোরশেদ আলম বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও মাটি ব্যবসার দ্বন্দ্বের জেরে তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। এর আগে বিভিন্নভাবে হত্যার হুমকি ও চার লাখ টাকা চাঁদাও দাবী করে হত্যাকারীরা। বিষয়টি জানার পরও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন তিনি।

স্থানীয় কয়েকজন মানুষ নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, খোরশেদ বিএনপি করলেও তার রয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি বিক্রি করে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, সাধারন কৃষকদের কাছ থেকে মাটি কম মূল্যে ক্রয় করে ইটভাটায় বেশি দামে বিক্রি করে থাকেন। মূলত মাটি ব্যবসা ও আধিপত্যা বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারনা করছে স্থানীয়রা। তবে খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, কারা এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সেটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যার সাথে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। নিহতের স্ত্রী ৮জনের নাম উল্লেখ করে ২জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উল্লেখ্য যে, খোরশেদ আলম বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। রাজনীতি করার কারনে আওয়ামীলীগের সময় বেশ কয়েকটি মিথ্যা মামলায় কারাবরন করেন খোরশেদ। এরপর ৫ আগেষ্টর পর জামিনে এসে এলাকায় মাটির ব্যবসা করতো। এই মাটির ব্যবসা নিয়ে মোরশেদ আলম ও মজিদ হোসেন এর সাথে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জের বুধবার দুপুরে খোরশেদ আলমকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে বাড়ির পাশে দিলশাদপুর খাঁনের বাড়িতে নিয়ে বুকে একাধিক গুলি করে হত্যা করে তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

যুবদলকর্মী হত্যার ঘটনায় মামলা, ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেফতার দুই

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যুবদলকর্মী খোরশেদ আলমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ১০ জনকে আসামী করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে আজ ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকালে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ২জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়।

এদিকে বুধবার রাতে দিলসাদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইব্রাহিম খলিল ছুট্টু ও মাসুদ রানাকে আটক করে পুলিশ। পরে খোরশেদ হত্যা মামলায় তাদের দুইজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর গ্রামের বক্স আলী ভূঁইয়া বাড়ির মৃত সৈয়দ আহম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে ইব্রাহিম খলিল ছুট্টু। অপরজন বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ও রাধাপুর গ্রামের তোফায়েল আহমেদের ছেলে মাসুদ রানা।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে সদর হাসপাতালে নিহত খোরশেদ আলম এর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে তার স্বজনরা মরদেহ গ্রহন করে। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রামের বাড়ি দিলশাদপুরে লাশ নেয়ার পর স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

এসময় স্বজনদের সাথে নিহতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরলেই স্বামী হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন। বলেন, মাটির ব্যবসায় তার কাল হলো। অকালে স্বামীকে হারিয়ে আমি এখন বিধবা। এক মেয়ে দুই ছেলেকে নিয়ে কিভাবে চলবে আমার এ সংসার। সামনে শুধুই অন্ধকার। কে করবে কার কাছে চাইব। এই খুনিদের বিচার। এরপর জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এসময় নিহতের মেয়ে প্রেমা আক্তার জানান, বুধবার দুপুরে বাড়ির সামনে দিয়ে একটি নারকেলের গাড়ি যাচ্ছিল। গাড়ির পিছনে বাবা খোরশেদ আলম হেটে বাড়িতে আসেন। এসময় মোরশেদ আলম, মজিদ হোসেন,বাচ্চু ও হিরু বাবাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। বাড়ির পাশে নিয়ে তার বুকে তিনটি গুলি করে। গুলির শব্দ শুনে আমি ও আমার দৌড়ে গিয়ে দেখি মাটিতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার আগে তার মৃত্যু হয়। অথচ হত্যাকারীরা বাবার সাথে বন্ধুৃত্ব ছিল বলে জানান মেয়ে প্রেমা। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

ছেলে তানভীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তার বাবা খোরশেদ আলম বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও মাটি ব্যবসার দ্বন্দ্বের জেরে তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। এর আগে বিভিন্নভাবে হত্যার হুমকি ও চার লাখ টাকা চাঁদাও দাবী করে হত্যাকারীরা। বিষয়টি জানার পরও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন তিনি।

স্থানীয় কয়েকজন মানুষ নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, খোরশেদ বিএনপি করলেও তার রয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি বিক্রি করে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, সাধারন কৃষকদের কাছ থেকে মাটি কম মূল্যে ক্রয় করে ইটভাটায় বেশি দামে বিক্রি করে থাকেন। মূলত মাটি ব্যবসা ও আধিপত্যা বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারনা করছে স্থানীয়রা। তবে খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, কারা এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সেটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যার সাথে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। নিহতের স্ত্রী ৮জনের নাম উল্লেখ করে ২জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উল্লেখ্য যে, খোরশেদ আলম বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। রাজনীতি করার কারনে আওয়ামীলীগের সময় বেশ কয়েকটি মিথ্যা মামলায় কারাবরন করেন খোরশেদ। এরপর ৫ আগেষ্টর পর জামিনে এসে এলাকায় মাটির ব্যবসা করতো। এই মাটির ব্যবসা নিয়ে মোরশেদ আলম ও মজিদ হোসেন এর সাথে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জের বুধবার দুপুরে খোরশেদ আলমকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে বাড়ির পাশে দিলশাদপুর খাঁনের বাড়িতে নিয়ে বুকে একাধিক গুলি করে হত্যা করে তারা।