ঢাকা ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাটারিচালিত রিকশায় লাগবে নিবন্ধন, ফি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনতে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। এখন থেকে এসব যান চালাতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। দুই যাত্রী বহনক্ষমতার রিকশার নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং চার যাত্রী বহনক্ষমতার রিকশার জন্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও প্রতিবছর তা নবায়ন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করে। এতে ই-রিকশার নিবন্ধন ও সংখ্যা নির্ধারণ থেকে শুরু করে চলাচলের এলাকা, গতিসীমা, পার্কিং, চার্জিং এবং ব্যাটারির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে নতুন নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ায় ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর জারি করা আগের বিধিমালাটি বাতিল করা হয়েছে।

এক এনআইডিতে সর্বোচ্চ পাঁচটি রিকশা

নতুন নিয়মে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে যে সিটি করপোরেশনে নিবন্ধন করা হবে, তার বাইরে অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে ওই রিকশা চালানো যাবে না।

ই-রিকশার নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক ও কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী হতে হবে। আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, দুই কপি ছবি, ফি জমার রসিদ এবং নির্ধারিত ফিটনেস সনদ জমা দিতে হবে। আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার বিধান রয়েছে। আবেদন বাতিল হলে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে।

প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নম্বরপ্লেট দেওয়া হবে। গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শন করতে হবে। বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুসারে ফিটনেস সনদ নেওয়াও বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর ছাড়া নিবন্ধন বা নবায়ন করা যাবে না।

বিধিমালায় ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ বছর। এ সময়সীমা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধন ও নম্বরপ্লেট বাতিল করতে হবে। প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপনের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে বিমার আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।

মহাসড়ক ও ফুটপাতে চলাচল নিষিদ্ধ

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) করিডর এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সড়কে ই-রিকশা চলতে পারবে না। ফুটপাতেও এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ।

চালকদের সড়কের বাঁ পাশের লেন অনুসরণ করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য গাড়িকে অতিক্রম এবং অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লেন পরিবর্তন করা যাবে না।

ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চালানো যাবে না।

দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশায় চালকসহ নয়, চালক বাদে সর্বোচ্চ দুইজন এবং চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশায় সর্বোচ্চ চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন নিষিদ্ধ। হর্নের শব্দের তীব্রতাও ৪০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে।

জোন ভাগ করে নির্ধারিত হবে রুট

সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে ই-রিকশার চলাচলের রুট নির্ধারণ করবে। সিটি করপোরেশন এলাকাকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনে কতটি ই-রিকশা চলবে, কোন পথে চলবে এবং গাড়ির রং কী হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলতে পারবে না।

সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিটি সিটি করপোরেশন নিজ এলাকায় ই-রিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করবে। প্রয়োজনে এলাকাভিত্তিক বা জোনভিত্তিকভাবে এ সংখ্যা সীমিত করা যাবে।

পার্কিংয়ের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে বা উপযুক্ত স্থানে নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করবে কর্তৃপক্ষ। ব্যাটারি চার্জ দিতে হবে অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট অথবা নির্ধারিত গ্যারেজে। এসব স্থানে সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখার নির্দেশনা রয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে চার্জিং স্টেশন, গ্যারেজ ও ব্যাটারি বিনিময় কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের জন্য সরকারি অনুমোদন নিতে হবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করলে সংশ্লিষ্ট আইনে শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ব্যাটারি ফেলা যাবে না সাধারণ বর্জ্যে

পরিবেশদূষণ ঠেকাতে পুরোনো বা অকার্যকর ব্যাটারি এবং এর অংশবিশেষ খোলা জায়গা, মাটি, জলাশয় কিংবা সাধারণ বর্জ্যে ফেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যাটারি পোড়ানোও যাবে না।

নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় বিক্রেতাকে ক্রেতার কাছ থেকে একটি পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে অনুমোদিত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ব্যাটারি ভাঙা বা গলানোর কাজ করা যাবে না। পুরোনো ব্যাটারি অনুমোদিত এজেন্ট, ডিলার বা সংগ্রহকারীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

উৎপাদনেও লাগবে লাইসেন্স

ই-রিকশা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ, বুয়েট বা অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের যান্ত্রিক ও বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি থাকবেন।

কমিটির সুপারিশ ও সরকারের অনুমোদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ই-রিকশা উৎপাদনের লাইসেন্স দেবে।

নিয়ম ভাঙলে আইনগত ব্যবস্থা

নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন এবং নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচলকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

নতুন বিধিমালার মাধ্যমে ই-রিকশার সংখ্যা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিবন্ধন, নিরাপত্তা, পার্কিং, চার্জিং এবং ব্যাটারি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে নিয়মের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে নিবন্ধন নবায়নের ফি, বিধিমালার অপরাধগুলোর জন্য নির্দিষ্ট দণ্ড এবং নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে প্রজ্ঞাপনের পূর্ণাঙ্গ পাঠ যাচাই করা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ব্যাটারিচালিত রিকশায় লাগবে নিবন্ধন, ফি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনতে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। এখন থেকে এসব যান চালাতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। দুই যাত্রী বহনক্ষমতার রিকশার নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং চার যাত্রী বহনক্ষমতার রিকশার জন্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও প্রতিবছর তা নবায়ন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করে। এতে ই-রিকশার নিবন্ধন ও সংখ্যা নির্ধারণ থেকে শুরু করে চলাচলের এলাকা, গতিসীমা, পার্কিং, চার্জিং এবং ব্যাটারির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে নতুন নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ায় ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর জারি করা আগের বিধিমালাটি বাতিল করা হয়েছে।

এক এনআইডিতে সর্বোচ্চ পাঁচটি রিকশা

নতুন নিয়মে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে যে সিটি করপোরেশনে নিবন্ধন করা হবে, তার বাইরে অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে ওই রিকশা চালানো যাবে না।

ই-রিকশার নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক ও কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী হতে হবে। আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, দুই কপি ছবি, ফি জমার রসিদ এবং নির্ধারিত ফিটনেস সনদ জমা দিতে হবে। আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার বিধান রয়েছে। আবেদন বাতিল হলে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে।

প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নম্বরপ্লেট দেওয়া হবে। গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শন করতে হবে। বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুসারে ফিটনেস সনদ নেওয়াও বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর ছাড়া নিবন্ধন বা নবায়ন করা যাবে না।

বিধিমালায় ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ বছর। এ সময়সীমা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধন ও নম্বরপ্লেট বাতিল করতে হবে। প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপনের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে বিমার আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।

মহাসড়ক ও ফুটপাতে চলাচল নিষিদ্ধ

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) করিডর এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সড়কে ই-রিকশা চলতে পারবে না। ফুটপাতেও এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ।

চালকদের সড়কের বাঁ পাশের লেন অনুসরণ করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য গাড়িকে অতিক্রম এবং অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লেন পরিবর্তন করা যাবে না।

ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চালানো যাবে না।

দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশায় চালকসহ নয়, চালক বাদে সর্বোচ্চ দুইজন এবং চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশায় সর্বোচ্চ চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন নিষিদ্ধ। হর্নের শব্দের তীব্রতাও ৪০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে।

জোন ভাগ করে নির্ধারিত হবে রুট

সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে ই-রিকশার চলাচলের রুট নির্ধারণ করবে। সিটি করপোরেশন এলাকাকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনে কতটি ই-রিকশা চলবে, কোন পথে চলবে এবং গাড়ির রং কী হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলতে পারবে না।

সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিটি সিটি করপোরেশন নিজ এলাকায় ই-রিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করবে। প্রয়োজনে এলাকাভিত্তিক বা জোনভিত্তিকভাবে এ সংখ্যা সীমিত করা যাবে।

পার্কিংয়ের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে বা উপযুক্ত স্থানে নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করবে কর্তৃপক্ষ। ব্যাটারি চার্জ দিতে হবে অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট অথবা নির্ধারিত গ্যারেজে। এসব স্থানে সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখার নির্দেশনা রয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে চার্জিং স্টেশন, গ্যারেজ ও ব্যাটারি বিনিময় কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের জন্য সরকারি অনুমোদন নিতে হবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করলে সংশ্লিষ্ট আইনে শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ব্যাটারি ফেলা যাবে না সাধারণ বর্জ্যে

পরিবেশদূষণ ঠেকাতে পুরোনো বা অকার্যকর ব্যাটারি এবং এর অংশবিশেষ খোলা জায়গা, মাটি, জলাশয় কিংবা সাধারণ বর্জ্যে ফেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যাটারি পোড়ানোও যাবে না।

নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় বিক্রেতাকে ক্রেতার কাছ থেকে একটি পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে অনুমোদিত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ব্যাটারি ভাঙা বা গলানোর কাজ করা যাবে না। পুরোনো ব্যাটারি অনুমোদিত এজেন্ট, ডিলার বা সংগ্রহকারীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

উৎপাদনেও লাগবে লাইসেন্স

ই-রিকশা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ, বুয়েট বা অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের যান্ত্রিক ও বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি থাকবেন।

কমিটির সুপারিশ ও সরকারের অনুমোদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ই-রিকশা উৎপাদনের লাইসেন্স দেবে।

নিয়ম ভাঙলে আইনগত ব্যবস্থা

নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন এবং নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচলকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

নতুন বিধিমালার মাধ্যমে ই-রিকশার সংখ্যা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিবন্ধন, নিরাপত্তা, পার্কিং, চার্জিং এবং ব্যাটারি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে নিয়মের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে নিবন্ধন নবায়নের ফি, বিধিমালার অপরাধগুলোর জন্য নির্দিষ্ট দণ্ড এবং নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে প্রজ্ঞাপনের পূর্ণাঙ্গ পাঠ যাচাই করা প্রয়োজন।