ঢাকা ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি ভাঙলে প্রার্থিতা বাতিল, হতে পারে জেল স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা, এক বছরে ১২৮ বার দাম সমন্বয় ৩০ নভেম্বরের সময়সীমা, মাধ্যমিকের বই ছাপায় পিছিয়ে এনসিটিবি সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসকের হামলায় ২ সাংবাদিক আহত তুরাগ নদে মিলল সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট শুরু, নিরাপত্তার চাদরে ১৮৫ কেন্দ্র সিগন্যাল মেরামত চলছিল, চালককে সতর্ক করা হয়নি! বাংলাদেশ-জাপান ছয় সহযোগিতা দলিল সই, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে টোকিও খুদেকে সবজি খাওয়ানোর সহজ কৌশল, ১০ মিনিটেই তৈরি মজার কাটলেট সৌদি থেকে ৯ মাসে ফিরেছেন ৯৭৯ নারী, গর্ভাবস্থা ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় দাম বৃদ্ধি

স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা, এক বছরে ১২৮ বার দাম সমন্বয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের স্বর্ণবাজারে দামের ঘন ঘন পরিবর্তন অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১২৮ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এর মধ্যে ৬২ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৬৫ দফা কমানো হয়েছে এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয়ের মধ্যে ৬৪ দফা বাড়ানো এবং ২৯ দফা কমানো হয়েছিল। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর স্বর্ণের বাজারে মূল্য সমন্বয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এর মধ্যেই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণে নতুন করে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে বিয়ের গয়না, ব্যক্তিগত সঞ্চয় কিংবা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ কিনতে আগ্রহীদের ব্যয় আরও বাড়ল।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৯১ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব দাম ভ্যাটসহ প্রযোজ্য।

এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে বাজুস। ওই দফায় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সময়ে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এক দিনের ব্যবধানে নতুন করে দাম বাড়ায় ক্রেতাদের ওপর স্বর্ণ কেনার ব্যয়ের চাপ আরও বেড়েছে।

দামের ওঠানামায় বাজারের হিসাব

স্বর্ণের দাম ঘন ঘন সমন্বয়ের ফলে বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষকেই পরিবর্তিত দামের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে গয়না কেনার পরিকল্পনা করা পরিবারগুলোর বাজেটে এর প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, স্বর্ণকে সঞ্চয়ের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা ব্যক্তিদের জন্যও দামের এই ওঠানামা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তবে দাম বাড়লেই স্বর্ণের বাজারে বিক্রি বা বিনিয়োগ বাড়ছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি বুঝতে বিক্রির পরিমাণ, ক্রেতাদের চাহিদা, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা এবং স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের সরবরাহের তথ্যও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

গয়না কেনায় বাড়তি খরচের হিসাব

বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির ক্ষেত্রে নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

এ ছাড়া পুরোনো অলঙ্কার বিনিময়ের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে নির্ধারিত মূল্যের ওপর ১২ শতাংশ এবং পুরোনো স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত মূল্য কার্যকর থাকবে।

সব মিলিয়ে, চলতি বছরে স্বর্ণের দামের ঘন ঘন সমন্বয় বাজারের মূল্যগত অস্থিরতার একটি চিত্র তুলে ধরছে। তবে দাম বাড়ানো ও কমানোর দফা প্রায় কাছাকাছি হওয়ায় শুধু সমন্বয়ের সংখ্যা দিয়ে পুরো বছরের মূল্যপ্রবণতা নির্ধারণ করা যাবে না। এ জন্য বছরের শুরু ও শেষের দাম, মোট মূল্যবৃদ্ধি-হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে স্থানীয় দামের সম্পর্ক বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় দাম বৃদ্ধি

স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা, এক বছরে ১২৮ বার দাম সমন্বয়

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

দেশের স্বর্ণবাজারে দামের ঘন ঘন পরিবর্তন অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১২৮ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এর মধ্যে ৬২ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৬৫ দফা কমানো হয়েছে এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয়ের মধ্যে ৬৪ দফা বাড়ানো এবং ২৯ দফা কমানো হয়েছিল। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর স্বর্ণের বাজারে মূল্য সমন্বয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এর মধ্যেই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণে নতুন করে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে বিয়ের গয়না, ব্যক্তিগত সঞ্চয় কিংবা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ কিনতে আগ্রহীদের ব্যয় আরও বাড়ল।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৯১ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব দাম ভ্যাটসহ প্রযোজ্য।

এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে বাজুস। ওই দফায় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সময়ে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এক দিনের ব্যবধানে নতুন করে দাম বাড়ায় ক্রেতাদের ওপর স্বর্ণ কেনার ব্যয়ের চাপ আরও বেড়েছে।

দামের ওঠানামায় বাজারের হিসাব

স্বর্ণের দাম ঘন ঘন সমন্বয়ের ফলে বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষকেই পরিবর্তিত দামের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে গয়না কেনার পরিকল্পনা করা পরিবারগুলোর বাজেটে এর প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, স্বর্ণকে সঞ্চয়ের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা ব্যক্তিদের জন্যও দামের এই ওঠানামা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তবে দাম বাড়লেই স্বর্ণের বাজারে বিক্রি বা বিনিয়োগ বাড়ছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি বুঝতে বিক্রির পরিমাণ, ক্রেতাদের চাহিদা, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা এবং স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের সরবরাহের তথ্যও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

গয়না কেনায় বাড়তি খরচের হিসাব

বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির ক্ষেত্রে নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

এ ছাড়া পুরোনো অলঙ্কার বিনিময়ের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে নির্ধারিত মূল্যের ওপর ১২ শতাংশ এবং পুরোনো স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত মূল্য কার্যকর থাকবে।

সব মিলিয়ে, চলতি বছরে স্বর্ণের দামের ঘন ঘন সমন্বয় বাজারের মূল্যগত অস্থিরতার একটি চিত্র তুলে ধরছে। তবে দাম বাড়ানো ও কমানোর দফা প্রায় কাছাকাছি হওয়ায় শুধু সমন্বয়ের সংখ্যা দিয়ে পুরো বছরের মূল্যপ্রবণতা নির্ধারণ করা যাবে না। এ জন্য বছরের শুরু ও শেষের দাম, মোট মূল্যবৃদ্ধি-হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে স্থানীয় দামের সম্পর্ক বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।