ঢাকা ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি ভাঙলে প্রার্থিতা বাতিল, হতে পারে জেল স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা, এক বছরে ১২৮ বার দাম সমন্বয় ৩০ নভেম্বরের সময়সীমা, মাধ্যমিকের বই ছাপায় পিছিয়ে এনসিটিবি সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসকের হামলায় ২ সাংবাদিক আহত তুরাগ নদে মিলল সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট শুরু, নিরাপত্তার চাদরে ১৮৫ কেন্দ্র সিগন্যাল মেরামত চলছিল, চালককে সতর্ক করা হয়নি! বাংলাদেশ-জাপান ছয় সহযোগিতা দলিল সই, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে টোকিও খুদেকে সবজি খাওয়ানোর সহজ কৌশল, ১০ মিনিটেই তৈরি মজার কাটলেট সৌদি থেকে ৯ মাসে ফিরেছেন ৯৭৯ নারী, গর্ভাবস্থা ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি ভাঙলে প্রার্থিতা বাতিল, হতে পারে জেল

বাসস
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে প্রার্থিতা বাতিলসহ কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে প্রার্থীদের। ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কিংবা বলপ্রয়োগের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ফল স্থগিত কিংবা নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দিতে পারবে কমিশন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচনে আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে এলে তা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রার্থিতা বাতিলের ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

ভোটারকে বাধা দিলেই শাস্তি

ইসির হালনাগাদ করা স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় নির্বাচনী অপরাধের সংজ্ঞা ও শাস্তির বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। বিধিমালার ৮০(ক) অনুযায়ী, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া, ভয় দেখানো, আঘাত করা কিংবা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা দেওয়া, তাঁদের শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা কিংবা দায়িত্ব পালনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম নষ্ট করলেও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

এ ছাড়া কোনো ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না দেওয়া কিংবা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ডও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে উপস্থিত বা অপেক্ষমাণ কাউকে ভোট দিতে বাধা দিয়ে কেন্দ্র ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

তদন্তে প্রমাণ মিললে বাতিল হতে পারে প্রার্থিতা

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। কোনো উৎস থেকে পাওয়া নথি বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে যে চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী কোনো প্রার্থী কিংবা তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন, সে ক্ষেত্রে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে কমিশন।

তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে লিখিত আদেশে প্রার্থিতা বাতিল করা যাবে। প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনী এজেন্টের পাশাপাশি তাঁদের নির্দেশে কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিতে অন্য কেউ বিধিমালা লঙ্ঘন করলেও এ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অনিয়ম হলে স্থগিত হতে পারে কেন্দ্রের ফল

ভোটকেন্দ্রে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে কমিশন।

প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান শেষে কমিশন ফলাফল প্রকাশের নির্দেশ দিতে পারবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ন্যায়সংগত মনে করলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দেওয়া যাবে।

সিইসি জানান, নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ। ভোটার স্লিপসহ প্রচারে কোন ধরনের উপকরণ কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, তা আচরণবিধিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন

নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে কমিশন। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনে পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সিইসি বলেন, কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে কমিশন।

ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। সাধারণত ভোটগ্রহণের ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনগতভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোর বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রতি ধাপে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট আয়োজন করা হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি ভাঙলে প্রার্থিতা বাতিল, হতে পারে জেল

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে প্রার্থিতা বাতিলসহ কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে প্রার্থীদের। ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কিংবা বলপ্রয়োগের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ফল স্থগিত কিংবা নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দিতে পারবে কমিশন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচনে আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে এলে তা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রার্থিতা বাতিলের ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

ভোটারকে বাধা দিলেই শাস্তি

ইসির হালনাগাদ করা স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় নির্বাচনী অপরাধের সংজ্ঞা ও শাস্তির বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। বিধিমালার ৮০(ক) অনুযায়ী, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া, ভয় দেখানো, আঘাত করা কিংবা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা দেওয়া, তাঁদের শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা কিংবা দায়িত্ব পালনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম নষ্ট করলেও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

এ ছাড়া কোনো ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না দেওয়া কিংবা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ডও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে উপস্থিত বা অপেক্ষমাণ কাউকে ভোট দিতে বাধা দিয়ে কেন্দ্র ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

তদন্তে প্রমাণ মিললে বাতিল হতে পারে প্রার্থিতা

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। কোনো উৎস থেকে পাওয়া নথি বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে যে চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী কোনো প্রার্থী কিংবা তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন, সে ক্ষেত্রে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে কমিশন।

তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে লিখিত আদেশে প্রার্থিতা বাতিল করা যাবে। প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনী এজেন্টের পাশাপাশি তাঁদের নির্দেশে কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিতে অন্য কেউ বিধিমালা লঙ্ঘন করলেও এ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অনিয়ম হলে স্থগিত হতে পারে কেন্দ্রের ফল

ভোটকেন্দ্রে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে কমিশন।

প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান শেষে কমিশন ফলাফল প্রকাশের নির্দেশ দিতে পারবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ন্যায়সংগত মনে করলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দেওয়া যাবে।

সিইসি জানান, নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ। ভোটার স্লিপসহ প্রচারে কোন ধরনের উপকরণ কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, তা আচরণবিধিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন

নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে কমিশন। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনে পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সিইসি বলেন, কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে কমিশন।

ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। সাধারণত ভোটগ্রহণের ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনগতভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোর বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রতি ধাপে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট আয়োজন করা হতে পারে।