ঢাকা ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা, এক বছরে ১২৮ বার দাম সমন্বয় ৩০ নভেম্বরের সময়সীমা, মাধ্যমিকের বই ছাপায় পিছিয়ে এনসিটিবি সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসকের হামলায় ২ সাংবাদিক আহত তুরাগ নদে মিলল সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট শুরু, নিরাপত্তার চাদরে ১৮৫ কেন্দ্র সিগন্যাল মেরামত চলছিল, চালককে সতর্ক করা হয়নি! বাংলাদেশ-জাপান ছয় সহযোগিতা দলিল সই, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে টোকিও খুদেকে সবজি খাওয়ানোর সহজ কৌশল, ১০ মিনিটেই তৈরি মজার কাটলেট সৌদি থেকে ৯ মাসে ফিরেছেন ৯৭৯ নারী, গর্ভাবস্থা ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ চাকরির প্রলোভনে চীনে পাচারের চেষ্টা, উদ্ধার ১২ পাহাড়ি নারী

৩০ নভেম্বরের সময়সীমা, মাধ্যমিকের বই ছাপায় পিছিয়ে এনসিটিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে তোড়জোড় শুরু করেছে সরকার। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপা ও সরবরাহের কাজ এগিয়ে নিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংস্থাটির সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার অগ্রগতি প্রায় ৯৩ শতাংশ। অন্যদিকে ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে ছাপা শেষ হয়েছে ৫৭ শতাংশের বেশি বই।

সরকারের লক্ষ্য, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের সব শ্রেণির বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া। তবে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপার কাজ পিছিয়ে থাকায় নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা নিয়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে এনসিটিবি।

সংস্থাটির ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার ৬২৩টি লটে ১১৩টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান পাঠ্যবই ছাপার কাজ পেয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরে মোট ৩০ কোটি ৭৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১টি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বইও অন্তর্ভুক্ত।

এনসিটিবি জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এবার এক মাস আগে বই ছাপার কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার কাজ শেষ হওয়ায় যেসব প্রেস মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপার দায়িত্বও পেয়েছে, সেগুলোতে এখন মাধ্যমিকের বই ছাপার কাজ শুরু হয়েছে। তবে সব প্রেসে কাজের গতি সমান নয়।

প্রাথমিকের অগ্রগতি বেশি, পিছিয়ে মাধ্যমিক

এনসিটিবির হিসাব অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক স্তরে মোট ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ১৫৩টি ছাপা হয়েছে। অগ্রগতির হার ৯৮ দশমিক ২১ শতাংশ। এর মধ্যে ৫০ লাখ ৭০ হাজার ২৪০টি বইয়ের প্রাক্‌-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট বইয়ের ৮৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ৬ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ১৭৩টি। অগ্রগতির হার ৮৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ স্তরে পিডিআই হয়েছে ৫ কোটি ৯১ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৯টি বইয়ের, যা মোটের ৭৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

অন্যদিকে ইবতেদায়ি স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৪ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৪টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ২ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৮৪টি। অর্থাৎ ৬৪ দশমিক ১৫ শতাংশ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। এ স্তরে পিডিআই সম্পন্ন হয়েছে ২ কোটি ১২ লাখ ৮১ হাজার ৪২২টি বইয়ের, যা মোটের ৫১ দশমিক ১১ শতাংশ।

মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৮টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ৯ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৫৬টি। অগ্রগতির হার ৫১ দশমিক ১৮ শতাংশ। এ স্তরে পিডিআই হয়েছে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫টি বইয়ের, যা মোটের ৩৭ দশমিক ০৫ শতাংশ।

সব মিলিয়ে ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তরে বই ছাপার গড় অগ্রগতি ৫৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

৩২ প্রেসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

বই ছাপার কাজে ধীরগতির কারণে ৩২টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এনসিটিবি। প্রয়োজন হলে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ বাতিল করে অন্য প্রেসকে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার কাজ ৯০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ইবতেদায়ি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বই ছাপার কাজও অর্ধেকের বেশি এগিয়েছে। তবে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপার গতি কিছুটা কম।

তিনি বলেন, এ স্তরের কয়েকটি লটে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করতে হওয়ায় কাজের অগ্রগতিতে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান জানান, বইয়ের মান ও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করতে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক দল মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।

নিম্নমানের ৯ লাখ ফর্মা ও ১২ হাজার বই বাতিল

বইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছে শিক্ষা প্রশাসন। এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ৫৩টি মনিটরিং দল বিভিন্ন ছাপাখানায় বইয়ের মান যাচাই করছে। মানদণ্ড পূরণ না করায় বিভিন্ন প্রেসের নিম্নমানের ফর্মা, বই ও কভার বাতিল করা হয়েছে।

এনসিটিবির মনিটরিং প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস, আলিফ প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং, আনন্দ প্রিন্টিং প্রেস, আমিন আর্ট প্রেস, অনিন্দ্য প্রিন্টিং প্রেস ও অনুপম প্রিন্টিং প্রেসসহ ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের ছাপানো বইয়ের মান যাচাই করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯ লাখ ফর্মা ও ১২ হাজার নিম্নমানের বই বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, বইয়ের মানের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নির্ধারিত মান বজায় না থাকলে কোনো বই গ্রহণ করা হবে না।

অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির বইয়ে উদ্বেগ

বই ছাপার অগ্রগতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির ক্ষেত্রে। এনসিটিবির মনিটরিং প্রতিবেদনে অনিন্দ্য প্রিন্টিং প্রেস, আলিফ প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং, অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস, অনুপম প্রিন্টার্স লিমিটেড, অ্যারিস্টোক্রেটস সিকিউরিটি প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, আমিন আর্ট প্রেস, দোয়েল প্রিন্টার্স ও বর্ণমালা প্রেসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাজের অগ্রগতি খুবই কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, ৩ নভেম্বরের মধ্যে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির ৫০ শতাংশ বই উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহের কথা। কিন্তু এনসিটিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই সরবরাহ নিশ্চিত করতে পিছিয়ে থাকা প্রেসগুলোকে কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বলেন, রোডম্যাপ অনুযায়ী বই ছাপা ও সরবরাহের কাজ চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার অগ্রগতি ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের ৯৫ শতাংশের বেশি বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এবার বই গ্রহণের সময় জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সরাসরি মান যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বই গ্রহণের পর মানে কোনো বিচ্যুতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট গ্রহীতা কর্মকর্তাকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, উপজেলা পর্যায়ে নিম্নমানের কাগজে ছাপানো বই সরবরাহ বরদাশত করা হবে না। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনসিটিবির লক্ষ্য, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব উপজেলায় মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া। তবে বিশেষ করে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপা এবং সরবরাহের গতি বাড়ানোই এখন সংস্থাটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

৩০ নভেম্বরের সময়সীমা, মাধ্যমিকের বই ছাপায় পিছিয়ে এনসিটিবি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে তোড়জোড় শুরু করেছে সরকার। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপা ও সরবরাহের কাজ এগিয়ে নিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংস্থাটির সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার অগ্রগতি প্রায় ৯৩ শতাংশ। অন্যদিকে ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে ছাপা শেষ হয়েছে ৫৭ শতাংশের বেশি বই।

সরকারের লক্ষ্য, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের সব শ্রেণির বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া। তবে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপার কাজ পিছিয়ে থাকায় নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা নিয়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে এনসিটিবি।

সংস্থাটির ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার ৬২৩টি লটে ১১৩টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান পাঠ্যবই ছাপার কাজ পেয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরে মোট ৩০ কোটি ৭৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১টি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বইও অন্তর্ভুক্ত।

এনসিটিবি জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এবার এক মাস আগে বই ছাপার কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার কাজ শেষ হওয়ায় যেসব প্রেস মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপার দায়িত্বও পেয়েছে, সেগুলোতে এখন মাধ্যমিকের বই ছাপার কাজ শুরু হয়েছে। তবে সব প্রেসে কাজের গতি সমান নয়।

প্রাথমিকের অগ্রগতি বেশি, পিছিয়ে মাধ্যমিক

এনসিটিবির হিসাব অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক স্তরে মোট ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ১৫৩টি ছাপা হয়েছে। অগ্রগতির হার ৯৮ দশমিক ২১ শতাংশ। এর মধ্যে ৫০ লাখ ৭০ হাজার ২৪০টি বইয়ের প্রাক্‌-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট বইয়ের ৮৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ৬ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ১৭৩টি। অগ্রগতির হার ৮৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ স্তরে পিডিআই হয়েছে ৫ কোটি ৯১ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৯টি বইয়ের, যা মোটের ৭৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

অন্যদিকে ইবতেদায়ি স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৪ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৪টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ২ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৮৪টি। অর্থাৎ ৬৪ দশমিক ১৫ শতাংশ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। এ স্তরে পিডিআই সম্পন্ন হয়েছে ২ কোটি ১২ লাখ ৮১ হাজার ৪২২টি বইয়ের, যা মোটের ৫১ দশমিক ১১ শতাংশ।

মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৮টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ৯ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৫৬টি। অগ্রগতির হার ৫১ দশমিক ১৮ শতাংশ। এ স্তরে পিডিআই হয়েছে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫টি বইয়ের, যা মোটের ৩৭ দশমিক ০৫ শতাংশ।

সব মিলিয়ে ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তরে বই ছাপার গড় অগ্রগতি ৫৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

৩২ প্রেসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

বই ছাপার কাজে ধীরগতির কারণে ৩২টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এনসিটিবি। প্রয়োজন হলে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ বাতিল করে অন্য প্রেসকে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার কাজ ৯০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ইবতেদায়ি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বই ছাপার কাজও অর্ধেকের বেশি এগিয়েছে। তবে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপার গতি কিছুটা কম।

তিনি বলেন, এ স্তরের কয়েকটি লটে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করতে হওয়ায় কাজের অগ্রগতিতে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান জানান, বইয়ের মান ও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করতে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক দল মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।

নিম্নমানের ৯ লাখ ফর্মা ও ১২ হাজার বই বাতিল

বইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছে শিক্ষা প্রশাসন। এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ৫৩টি মনিটরিং দল বিভিন্ন ছাপাখানায় বইয়ের মান যাচাই করছে। মানদণ্ড পূরণ না করায় বিভিন্ন প্রেসের নিম্নমানের ফর্মা, বই ও কভার বাতিল করা হয়েছে।

এনসিটিবির মনিটরিং প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস, আলিফ প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং, আনন্দ প্রিন্টিং প্রেস, আমিন আর্ট প্রেস, অনিন্দ্য প্রিন্টিং প্রেস ও অনুপম প্রিন্টিং প্রেসসহ ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের ছাপানো বইয়ের মান যাচাই করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯ লাখ ফর্মা ও ১২ হাজার নিম্নমানের বই বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, বইয়ের মানের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নির্ধারিত মান বজায় না থাকলে কোনো বই গ্রহণ করা হবে না।

অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির বইয়ে উদ্বেগ

বই ছাপার অগ্রগতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির ক্ষেত্রে। এনসিটিবির মনিটরিং প্রতিবেদনে অনিন্দ্য প্রিন্টিং প্রেস, আলিফ প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং, অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস, অনুপম প্রিন্টার্স লিমিটেড, অ্যারিস্টোক্রেটস সিকিউরিটি প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, আমিন আর্ট প্রেস, দোয়েল প্রিন্টার্স ও বর্ণমালা প্রেসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাজের অগ্রগতি খুবই কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, ৩ নভেম্বরের মধ্যে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির ৫০ শতাংশ বই উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহের কথা। কিন্তু এনসিটিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই সরবরাহ নিশ্চিত করতে পিছিয়ে থাকা প্রেসগুলোকে কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বলেন, রোডম্যাপ অনুযায়ী বই ছাপা ও সরবরাহের কাজ চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার অগ্রগতি ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের ৯৫ শতাংশের বেশি বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এবার বই গ্রহণের সময় জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সরাসরি মান যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বই গ্রহণের পর মানে কোনো বিচ্যুতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট গ্রহীতা কর্মকর্তাকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, উপজেলা পর্যায়ে নিম্নমানের কাগজে ছাপানো বই সরবরাহ বরদাশত করা হবে না। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনসিটিবির লক্ষ্য, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব উপজেলায় মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া। তবে বিশেষ করে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপা এবং সরবরাহের গতি বাড়ানোই এখন সংস্থাটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।